শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন: কর্মী ছাটাইয়ের ধুম পড়েছে যুক্তরাজ্যের বাজারে। খুচরা বিপনী ও বেসরকারি ট্রাভেলস ও এয়ারলাইন কোম্পানীগুলো গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমপক্ষে ১১,০০০ কর্মী ছাটাইয়ের ঘোষনা দিয়েছে। করোনা ভাইরাসের লকডউন এর কারনে এই দুটি সেক্টরে মারাক্তক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। -বিবিসি
যুক্তরাজ্যের টপশপের মালিক আর্কেডিয়া এবং হ্যারোডস জানিয়েছেন, তারা মোট ১,১৮০ জন কর্মী ছাটাইয়ের পরিকল্পনা করেছে। গত ৪৮ ঘন্টায় যে সকল কোম্পানী কর্মী ছাটাইয়ের ঘোষনা দিয়েছে তাদের মধ্যে, আপার ক্রাস্টের মালিক এসএসপি গ্রুপ ৫০০০, হ্যারডস থেকে ৭০০, আর্কিডিয়া থেকে ৫০০, শার্ট প্রস্তুতকারক টিএম লেউইনে প্রায় ৬০০, ভার্জিন মানি, ক্লাইডেসডেল এবং ইয়র্কশায়ার ব্যাংক ৩০০, যুক্তরাজ্যের বিমান নির্মাতা এয়ারবাস ১৭০০ , ইজি জেট থেকে ১৩০০ ক্রু এবং ৭২৭ পাইলট ছাটায়ের ঘোষনা দিয়েছে। এছাড়াও জন লুইস স্টোর বন্ধ করার কথা থাকলেও তারা কতো কর্মী ছাটাই করবেন তা এখনো নিশ্চিত করেনি।
লুইস স্টোর কোম্পানী তাদের এক বিবৃতিতে জানায়, মানুষ স্বাচ্ছন্দে কেনাকাটা করতে পারে সে জন্য আমাদের পর্যাপ্ত স্টোর রয়েছে। কিন্তু লকডাউন এর ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার ফলে আমাদের সমস্ত স্টোরগুলো খোলা সম্ভব হচ্ছে না।
হ্যারোডস এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাইকেল ওয়ার্ড স্টাফকদের ইমেল করে বলেছেন- আমাদের প্রায় ৪৮০০ কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছে তাদের মধ্যে থেকে ১৪% ছাটাই করতে বাধ্য হচ্ছি। তিনি বলেন- হ্যারোডস সুস্থ হয়ে উঠলে তারা আবারও কর্মী নিয়োগ দিবে। তিনি আরো বলেন- লকডাউন এর প্রভাব আমাদের বাণিজ্যিক অর্থনীতির উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমাদের স্টোরগুলোর মূলত গ্রাহকদের হারিয়ে ফেলেছি।
সাংবাদিক এমা সিম্পসন তার বিশ্লেষনে বলেন, কোম্পানীগুলো টিকে থাকার জন্য অবিশ্বাস্যভাবে কর্মী ছাটাই করছে। পরবর্তীতে যাতে তারা টিকে থাকতে পারে তাই তারা এ সকল কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। হয়তো বিভিন্ন কোম্পানী থেকে মাস খানেকের মধ্যে আরো হাজার হাজার কর্মী ছাটাই হবে। এ ভাবে চলতে থাকলে ব্যবসায়ীক খাতগুলো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাড়াবে!