শীর্ষবিন্দু আর্ন্তজাতিক নিউজ: মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে আবারও অং সান সু চি সরকারের ক্ষমতায় ফেরার আভাস পাওয়া গেছে।রবিবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোট গণনা অব্যাহত ছিল।
রোহিঙ্গা গণহত্যায় অভিযুক্ত অং সান সু চি আন্তর্জাতিক পরিসরে সুনাম হারালেও মিয়ানমারে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পেরেছেন বলে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অং সান সু চি এবারের নির্বাচনেও ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি জনগণকে করোনার ভয় না করে ব্যাপকভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। দেশটিতে সূর্য ওঠার আগেই অনেকে ভোট দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে যান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অনেকে ভোট দিয়েছেন।
মিয়ানমারে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৭০ লাখের বেশি। দেশটিতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লেও মানুষ ভোট দিতে গেছেন। মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালাই। এটি করোনার হটস্পট বলে চিহ্নিত। রবিবার সেখানে ভোটকেন্দ্রের বাইরে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। তাদের মুখে মাস্ক থাকলেও সামাজিক দূরত্ব মানা হয়নি।
সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) এই নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। মিয়ানমারে অর্ধশত বছরের বেশি সময় ধরে সেনাবাহিনী ও সেনা সমর্থিত সরকারের অবসান ঘটিয়ে ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় এনএলডি। তবে সে দেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব প্রবল।
সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসন সেনাসদস্যদের জন্য বরাদ্দ। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্বও সেনাবাহিনীর হাতে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শুক্রবার মিয়ানমারে শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আহ্বান জানালেও সেখানকার ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেখানকার প্রায় ৩ লাখের বেশি মুসলিম রোহিঙ্গা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।