বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৫২

ইউনাইটেড ন্যাশন্স এসোসিয়েশন লুটন ও পূর্বাচলের যৌথ উদ্যেগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত

ইউনাইটেড ন্যাশন্স এসোসিয়েশন লুটন ও পূর্বাচলের যৌথ উদ্যেগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত

/ ৪৮
প্রকাশ কাল: বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ, ২০২১

নিউজ ডেস্ক, লন্ডন: ইউনাইটেড ন্যাশন্স এসোসিয়েশন লুটন এবং পূর্বাচল-দ্য ইস্টার্ন স্কাই যৌথ উদ্যেগে ২৭শে ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটায় ভার্চুয়ালি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়।

এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষেরা অংশগ্রহনে উপস্থিত ছিলেন- কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব যাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটির মান আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বাচলের ফেইসবুক পেইজ থেকে এই অনুষ্ঠানটি লাইভ প্রচার করা হয়। প্রায় ৮০০ দর্শক বিভিন্ন জায়গা থেকে অংশগ্রহণ করে আমাদের প্রয়াসকে উৎসাহিত করেছেন। সঞ্চালনায় ছিলেন পূর্বাচলের সাধারণ সম্পাদক ডক্টর আনোয়ারুল হক।

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে শুধুমাত্র উর্দুকে জাতীয় ভাষা হিসেবে ঘোষনার প্রতিবাদে বাঙ্গালী ছাত্ররা সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠে। এই প্রতিবাদের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় বর্তমান বাংলাদেশের সোনার ছেলেরা। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই অনুষ্ঠানটি শুরু করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পূর্বাচলের সভাপতি ডক্টর নাজিয়া খানম ওবিই ডিএল বক্তব্য পেশ করেন। উনার বক্তব্যে দেশের প্রতি ভালোবাসা সুন্দরভাবে প্রকাশ পায়।

তিনি বলেন, নিজের ভাষায় কথা বলা ও তাকে সম্মান দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন ভাষার মাধ্যমেই আমাদের পরিচিতি ও সংস্কৃতি প্রকাশ পায়। অন্য ভাষা জানাটাও আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটির মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবনকে আরো উন্নতির পথে নিতে পারি। পেতে পারি, উচ্চশিক্ষা, আর্থিক সচ্ছলতা এবং পেশাগত দক্ষতা অর্জনের উপায়। প্রতিটি সম্প্রদায়কে অবশ্যই নিজের ভাষাকে সুরক্ষিত রাখার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। উনি ওয়েলস এবং পোলিশ দেশকে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন। এই দু’টি দেশ একশো হাজার বছর নিজেদের ভাষা ধরে রেখেছে সযত্নে। হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও অন্যের চাপিয়ে দেওয়া ভাষা থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।

বিভিন্ন ভাষার কোলাহলে অনুষ্ঠানটি মুখরিত হয়েছিল প্রতিটি মুহুর্ত। পূর্বাচলের বিশিষ্ট সদস্য ডক্টর রুখসানা সাফা তাঁর ছেলে ড. সিবগাত রহিমকে সাথে নিয়ে একুশের সর্বোচ্চ জনপ্রিয় গান ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী‘ চৌদ্দটি ভাষায় গেয়ে অতিথিদের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছেন। বড়দের সাথে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও তাদের পরিবারের সহযোগিতায় বাংলায় পরিবেশন করে নাচ, গান ও আবৃত্তি। এদের অংশগ্রহণে পূর্বাচলের প্রতিটি সদস্য গর্ববোধ করেছেন এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার জন্যে। নিজেদের সংস্কৃতির সাথে সাথে অন্য সংস্কৃতিকেও সম্মান দেখানোর যে মনোভাব তা প্রকাশিত হয়েছে এদের অংশগ্রহণে।

অনুষ্ঠানে আরো ছিল ভিন্ন ভাষার কবিতা আবৃত্তি, যেমন এরাবিক, হিন্দি, উর্দু, স্পেনিশ, গ্রিক, ক্রিওল, বসনিয়ান, ইংরেজি ইত্যাদি। এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট বক্তাদের মধ্যে বেডফোর্ডশায়ারের লর্ড লেফটেন্যান্ট হেলেন নেলিস ওয়েলস ভাষায় ওনার বক্তব্য পেশ করেন, সেই সাথে বেডফোর্ডশায়ারের হাই শেরিফ সুজান লুসাডা এবং লুটন সাউথ এর এমপি রেইচ্যাল হপকিন্স তাদের মত প্রকাশ করেন ভাষাগত বৈচিত্র্যকে সমর্থন করে। পূর্বাচলের অন্যতম সহ সভাপতি শাহনাজ সা’দ এর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2021