সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০৬:২০

হ্যারি-মেগানের পুত্র অর্চির গায়ের রঙ নিয়ে প্রশ্ন তোলা ব্যক্তি কে? মুখ খুলছে না রাজপরিবার!

হ্যারি-মেগানের পুত্র অর্চির গায়ের রঙ নিয়ে প্রশ্ন তোলা ব্যক্তি কে? মুখ খুলছে না রাজপরিবার!

/ ৭ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশ কাল : বুধবার, ১০ মার্চ, ২০২১

শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন: গত সোমবার প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারিত হয়। এতে এই দম্পতি বর্ণবাদ, মানসিক স্বাস্থ্য, সংবাদমাধ্যম ও রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে কথা বলেন। সেখানেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের গোমর ফাঁস করেন মেগান। মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।

রাজপরিবারের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ তুলেছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মের্কেল। হলিউড টক শো তারকা অপরাহ উইনফ্রেকে তারা সাক্ষৎকার দেন। এরপরই রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা জরুরি বৈঠকে বসেন।

ভেতরে ভেতরে বর্ণবাদের ভয়াবহ চর্চা রয়েছে। বর্ণবৈষম্য এর প্রতিটি অলিন্দে-প্রকোষ্ঠে। ব্রিটিশ রাজপরিবারের বর্ণবাদী আচরণ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ডাচেস অব সাসেক্স ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেল। মেগান বলেছেন, তার অনাগত সন্তানের গায়ের রং নিয়ে রাজপরিবার উদ্বিগ্ন ছিল। এবং এ ঘটনা দ্বারাই বোঝা যায় কেন তার ছেলেকে প্রিন্স উপাধি দেওয়া হয়নি। এ ঘটনার পর লজ্জায়-ক্ষোভে আত্মহত্যাও করতে চেয়েছিলেন তিনি।

সিবিএস নিউজকে উইনফ্রে জানান, প্রিন্স তাকে জানাননি এই আলোচনা আসলে কে করেছেন। তবে এটুকু বলেছেন, রানি এলিজাবেথ বা তার স্বামী ফিলিপ এই আলোচনায় অংশ নেননি। এই আলোচিত রাজপরিবার সদস্য আলোচনা করেছিলেন, অর্চি কতোটা কালো হতে পারে। এই ঘটনার বর্ননা করেছেন অর্চির মা ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মরকেল।

তবে উইনফ্রে বলেন, হ্যারি বা মেগান আমার কাছে এই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি। আমি ক্যামেরা বন্ধের পরেও উত্তর পাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু লাভ হয়নি। তবে এই কথা শুনে চমকে গিয়েছিলেন অপরা। কারণ তিনি ভাবতে পারেননি, রাজরিবারের কেউ সন্তানের গায়ের রঙ নিয়ে ভাবতেও পারে। তিনি বলেন, এটাই সম্ভবত এই দুইজনের পরিবার ছাড়ার প্রধানতম কারণ।

মেগানের মা একজন কৃষ্ণাঙ্গ ও বাবা শ্বেতাঙ্গ। টকশোতে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারে বিয়ে করার আগ পর্যন্ত তিনি অতি সরল ছিলেন। কিন্তু সহযোগিতা চেয়েও আদৌ না পাওয়ার পরে তার মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয় এবং নিজের ক্ষতি করার চিন্তাও তিনি করেছিলেন। মেগান বলেন, ওরা ওকে প্রিন্স বা প্রিন্সেস বানাতে চায়নি, ওর লিঙ্গ কী হবে তা না জেনেই। এটা রীতিবিরুদ্ধ হতো। আর এ কারণেই পরবর্তী সময় নিরাপত্তাও পেত না।

রাজপরিবারের অজ্ঞাতনামা এক সদস্য হ্যারির কাছে জানতে চেয়েছিল তাদের পুত্রের গায়ের রঙ কতটা কালো হতে পারে। হ্যারি অবশ্য অপরাহ উইনফ্রেকে জানান, ডিউক অব এডিনবার্গ কিংবা রানি এ ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন মাসগুলোও আমার একইরকম ছিল, বারবার ওই কথাগুলোর মধ্যেই আমরা ছিলাম, তোমাকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে না, এমনকি কোনো উপাধিও না। আর ও যখন জন্মাবে তখন ওর গায়ের রং কেমন হবে তা নিয়ে উদ্বেগ আর কথাবার্তাও চলছিল।

তবে কে বা কারা এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি মেগান। তিনি এ বিষয়গুলো নিয়ে নিজেই চুপ ছিলেন নাকি তাকে চুপ করানো হয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে মেগান বলেন, ‘শেষেরটি’।

লেবার পার্টির নেতা স্যার কেইর স্ট্যারমার জানান, বর্ণবাদ ও মানসিক স্বাস্থ্য সহযোগিতা চেয়েও না পাওয়ার ব্যাপারে মেগান যে অভিযোগ করেছেন তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। তবে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এই ব্যাপারে কোনো মন্তব্য রতে রাজি হননি। অবশ্য সোমবার তিনি বলেছেন, রাজপরিবারের ঐক্যের জন্য রানির ভূমিকার জন্য তার প্রতি সবসময় সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে।

এদিকে, ব্রিটিশ রাজপরিবারের বিবিসি সংবাদদাতা জানিয়েছেন, বাকিংহাম প্যালেস তড়িঘড়ি করে প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের সাক্ষাৎকারে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করার প্রয়োজন অনুভব করছেন না।

প্রসঙ্গত: এই বহুল প্রতীক্ষিত সাক্ষাৎকারটি এমন এক সময়ে এলো যখন একদিকে মেগান-হ্যারি এবং অন্য দিকে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের মধ্যে তিক্ত বিবাদ চলছে। প্রিন্স হ্যারি ও মেগান সম্প্রতি তাদের রাজকীয় দায়িত্ব ত্যাগ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস শুরু করেন।






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © 2021 shirshobindu.com