বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩৫

ব্রিটিশ রাজপরিবারের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয়!

ব্রিটিশ রাজপরিবারের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয়!

/ ৪১
প্রকাশ কাল: বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০২১

শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন: রাজপরিবারের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় বাড়ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বাস করা হ্যারি-মেগান জনপ্রিয় মার্কিন উপস্থাপিকা অপরা উইনফ্রের সঙ্গে সাক্ষাত্কারে বাকিংহাম প্রাসাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বোমা ছুড়ে দিয়েছেন। তাদের অনেক অভিযোগের গতকাল পর্যন্ত একটির জবাবও দেয়নি বাকিংহাম।

তবে মার্কিন প্রভাবশালী মিডিয়া ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্ক (সিএনএন) বলছে, রবিবারের পর দৃশ্যত কিছু পরিবর্তন ঘটেছে। অনেক প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য রাজপরিবারের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ছেলে আর্চির গায়ের রং নিয়ে প্রশ্ন ওঠা এবং মানসিক চাপে গর্ভবতী অবস্থায়ও ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেলের (৩৯) আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় আসার তথ্য প্রকাশ রাজপরিবারকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রাজপরিবারেই যদি বর্ণবাদ থাকে তাহলেও তারা কীভাবে বিশ্ব থেকে বর্ণবাদ দূর করতে সহায়তা করবেন?

মেগান অন্য বংশের এবং ভিন্ন দেশের নাগরিক। কিন্তু রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারিই (৩৬) অভিযোগ করেছেন, মেগান মানসিক কষ্টে থাকলেও তার পরিবারের কোনো সদস্য সহায়তার জন্য এগিয়ে আসেননি। মিডিয়াও তাদের প্রতি শত্রুতার মনোভাবই দেখিয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাক্ষাত্কারে প্রকাশিত বিষয়গুলো এমন এক সংঘবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের চিত্র এঁকেছে যার নমনীয়তার অভাব একবিংশ শতাব্দীতে জনসাধারণের মধ্যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হিসাবে বাস করাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। অথচ ২০১৮ সালে এই দুটি মানুষের মিলন পৃথিবীর সর্বাধিক বিখ্যাত পরিবারকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে এক বিশাল পদক্ষেপের দিকে এগিয়ে দিয়েছিল। অথচ ঘটেছে এর উলটোটা যা দুঃখজনক।

ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক এবং রাজপরিবার বিষয়ক ইতিহাসবিদ কেট উইলিয়ামসের মতে, আধুনিক যুগে প্রিন্স হ্যারি এবং প্রিন্সেস মেগান রাজপরিবারের ঐসব সদস্যদের একজন কট্টর সমর্থক হতে পারতেন যারা পরিবারের জন্য ইতিবাচক কিছু করতে চান। অধ্যাপক কেট উইলিয়ামস বলছেন, এখন যে বিষয়টি পরিষ্কার তাহলো তারা যেভাবে বর্ণবাদ এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তাতে রাজপরিবার ত্যাগ করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় ছিল না।

এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, সাক্ষাত্কারের পরে রাজপরিবার নিয়ে অনেক কিছু আলোচনায় আসবে এবং প্রিন্স হ্যারির স্বজনদেরও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। ব্রিটেনে রানির বিপুল জনসমর্থন রয়েছে এবং তিনি যে রাজতন্ত্রের নিয়ন্ত্রক সেখানেও তার জনসমর্থনে কমতি নেই। কিন্তু প্রশ্ন এসেছে রানির বিদায়ের পর আধুনিক বিশ্বের আধুনিক ব্রিটেনে এই রাজতন্ত্রের কী হবে?

জনমত বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডেলটাপোলের পরিচালক জো ট্যুইম্যান বলছেন, সাধারণত রাজতন্ত্র এবং রানির সমর্থন একে অপরের পরিপূরক। তবে রানি তার পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো নন, কারণ তিনি কোনো বিষয়ে খুব কমই মতামত দেন। অনেক রক্ষণশীল এবং রাজতন্ত্রবাদি আছেন যারা রানির বিদায়ের পর প্রিন্স চার্লসকে (রানির ছেলে) সিংহাসনে দেখলে খুশি হবেন না। যদিও প্রিন্স চার্লস পরিবেশ এবং জলবায়ু নিয়ে প্রকাশ্যে অনেক ভাল ভাল বক্তব্য দিয়েছেন। রানির সমর্থকরা যে তার ছেলের প্রতি আবার তাদের ভালবাসা স্থানান্তর করবেন সেটা ভাবা সহজ নয়।

রাজপরিবারের জন্য এই সাক্ষাত্কার যে ক্ষতির সৃষ্টি করবে তাহলো বর্তমান তরুণ প্রজন্ম রাজতন্ত্র সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পাবে। ট্যুইম্যানের মতে, তরুণদের মধ্যে রাজতন্ত্রবাদী কেট মিডলটনের (প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী) চেয়ে মেগানের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি হবে সেই বিষয়ে সন্দেহ নেই। তবে বয়স্ক ব্রিটেনরা মেগানকে পছন্দ নাও করতে পারেন। তরুণদের মধ্যে এখন এই ধারণা বাড়তে পারে, যে রাজপরিবারের ভেতরের অবস্থা এই, সেই তাদের নারীর অধিকার এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে কথা বলার অধিকার নেই।

বার্মিংহামের সিটি ইউনিভার্সিটির ব্ল্যাক স্টাডিজের অধ্যাপক কেহিন্দে অ্যান্ড্রুজ বলছেন, রাজপরিবারে বর্ণবাদ কতোটা বিস্তার করেছে তা এই সাক্ষাত্কারের মাধ্যমে ফুঁটে উঠেছে। তাই হয়তো রাজপ্রাসাদ চিন্তা করতে পারে, এ বিষয়ে কিছু বলার চেয়ে না বলাটাই উত্তম। এটা ধারণা করা যেতে পারে যে ২০২১ সালে খুব কম সংখ্যক রয়্যালস প্রিন্স উইলিয়াম এবং কেটকে সমর্থন দেবেন।

প্রসঙ্গত: বিশ্বের অনেক দেশই ব্রিটেনের উপনিবেশ ছিল। এক সময় মানুষ জেগে উঠেছে, স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে নিয়েছে। এরপরও কিছু দেশে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ প্রতীকী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই রাজপরিবারের অন্দর এবং এর সদস্যদের সম্পর্কে বিশ্বের অন্য সব মানুষের জানার আগ্রহটা একটু বেশি। তাদেরকে সবাই সম্মানের চোখে দেখেন।

কিন্তু ১৯৯৫ সালে প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার বিস্ফোরক সাক্ষাত্কার আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এবার কেবল আলোড়নই সৃষ্টি হয়নি, প্রিন্স হ্যারি এবং প্রিন্সেস মেগানের সাক্ষাত্কারের পর এই প্রশ্ন জোরালো হয়েছে যে, রানির বিদায়ের পর এই রাজপরিবার টিকে থাকতে পারবে কি না।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2021