বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৬:২২

আজ মে দিবস: শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের রক্তঝরা দিন

আজ মে দিবস: শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের রক্তঝরা দিন

এখানে শেয়ার বোতাম
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শীর্ষবিন্দু নিউজ, ঢাকা: আজ পয়লা মে। মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের রক্তঝরা দিন। ১২ ঘণ্টার পরিবর্তে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে ১৮৮৬ সালের এই দিন রাস্তায় নামেন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা।

আর এই শ্রমিকদের ওপর গুলি চলে। এতে ১০ জন নিহত হন। তাদের জীবনদানের মধ্য দিয়ে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রসহ গোট বিশ্বে ৮ ঘণ্টা শ্রমের দাবি মেনে নেওয়া হয়। সেই থেকে বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসাবে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।

বাংলাদেশেও প্রতিবছর মে দিবস পালিত হয়। প্রতি বছর নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে দিনটি পালিত হলেও করোনা মহামারির কারণে গতবারের মতো এবারও সব প্রকার আনুষ্ঠানিকতা বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশে দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো ‘মালিক-শ্রমিক নির্বিশেষ মুজিববর্ষে গড়বো দেশ’। দিনটিতে বরাবরই সরকারি ছুটি থাকে। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এক বার্তায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান শ্রমজীবী মেহনতি ভাইবোনদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়া কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ হয়েছে।

১৮৮৬ সালের ১ মে দৈনিক ১২ ঘণ্টার পরিবর্তে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে শ্রমিকরা ফুঁসে উঠেন। হে মার্কেটের কাছে তাদের বিক্ষোভে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে ১০ শ্রমিক নিহত হন। উত্তাল সেই আন্দোলনের মুখে কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে দিতে বাধ্য হয় এবং বিশ্বব্যাপী দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের সময় চালু করা হয়। ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সমাবেশে ১ মেকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর থেকে বিশ্বব্যাপী এ দিনটি পালিত হচ্ছে।

স্বাভাবিক সময়েই দেশে বড় সমস্যা ছিল কর্মসংস্থানের। এরপর দুই দফা করোনার আঘাতে বিপর্যস্ত দেশের শ্রমবাজার। বর্তমানে শ্রমিকদের চরম দুর্দিন চলছে। অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে আয়বৈষম্য। চরম অনিশ্চয়তায় তাদের জীবনযাত্রা। জাতীয় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্যানুসারে দেশের শ্রমিকরা দুধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন। প্রথমত অর্থনীতি আর দ্বিতীয়ত স্বাস্থ্য

শ্রম আইন ২০০৬ সালের (৬৫) ধারায় বলা হয়েছে, শ্রমিক হলো ওই ব্যক্তি, যিনি তার চাকরির শর্ত পালন করে কোনো প্রতিষ্ঠানে বা শিল্পে সরাসরি বা কোনো ঠিকাদারের মাধ্যমে মজুরি বা অর্থের বিনিময়ে দক্ষ, অদক্ষ, কায়িক, কারিগরি, ব্যবসা উন্নয়নমূলক অথবা কেরানিগিরির কাজে নিযুক্ত

করোনায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের ক্ষতি নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে সিপিডি বিলস। প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক, আইএলও, বিবিএস এবং বিআইডিএসের তথ্য ব্যবহার করা হয়। প্রতিবেদনে শ্রমিকদের তিন স্তরের ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে সুনির্দিষ্ট ৭টি খাতের শ্রমিক কাজ হারানোর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। খাতগুলো হলো : শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, নির্মাণ, পরিবহণ, বিক্রয়কর্মী, খাদ্য এবং ব্যক্তিগত সেবাকর্মীরা।

এক্ষেত্রে শহরাঞ্চলের মোট শ্রমশক্তির ৬৯ শতাংশই উচ্চ ঝুঁকিতে। দেশের মোট অর্থনীতিতে এদের অবদান ৪৯ শতাংশ। ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের ৭৬ থেকে শতভাগ শ্রমিককেলেঅফদিয়েছে। মধ্যমানের ঝুঁকিতে আর্থিক খাত, গৃহকর্মী, আবাসন শিক্ষাখাতের শ্রমিক। আর তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে কৃষি, স্বাস্থ্য, তথ্য যোগাযোগখাতের শ্রমিকরা

প্রতিবেদনে বলা হয়, অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকরা বেশি সমস্যায়। কারণ, সহায়তা পৌঁছানোর জন্য, তাদের তালিকাও সরকারের কাছে নেই। শহরে অপ্রাতিষ্ঠানিখাতে ১০ লাখ ৮০ হাজার লোক কাজ হারিয়েছে। বেতনভুক্ত ৪৯ শতাংশ শ্রমিকের আয় কমেছে। সার্বিকভাবে ৩৭ শতাংশ শ্রমিকের মজুরি কমেছে। এর মধ্যে ৪২ শতাংশ ঢাকায়। ৩৩ শতাংশ চট্টগ্রামে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের রিপোর্ট অনুসারে ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পের ৬৬ শতাংশ শ্রমিকের আয় কমেছে।

ছাড়াও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর রিপোর্ট অনুসারে ২০২০ সালে ২০ শতাংশ পরিবারের আয় কমেছে। সিপিডির তথ্যানুসারে ২০১৭ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ। ২০২০ সাল শেষে তা বেড়ে ৩৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ, করোনায় নতুন করে ১৩ শতাংশ মানুষ দরিদ্র হয়েছে। সংখ্যার হিসাবে যা এক কোটি ৬৪ লাখ। এর মধ্যে ৬৩ শতাংশ তাদের বাড়িভাড়া দিতে পারছে না। ৩৯ শতাংশ ইউটিলিটি বিল দিতে অক্ষম। স্কুলের ফি দিতে পারেনি ৩৬ শতাংশ এবং ৫৭ শতাংশ শ্রমিক গ্রামে পরিবারকে টাকা পাঠাতে পারেননি। শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন বিলসের তথ্যানুসারে শহরের বস্তিতে থাকা ৪৭ শতাংশ এবং মোট শ্রমিকের ৩২ শতাংশ তাদের খাবারের পরিমাণ কমিয়েছেন। ছাড়াও শহরের বস্তিবাসীর ৬৭ শতাংশ এবং গ্রামের ৩২ শতাংশ মানুষ তাদের চাহিদা মেটাতে সঞ্চয় ভেঙে খেয়েছেন।

ছাড়াও ৫৯ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা খরচ মেটাতে তাদের সঞ্চয় ভেঙেছেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, করোনা মোকাবিলায় পর্যন্ত এক লাখ ২৬ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে শ্রমিক, এসএমই উদ্যোক্তা, নিম্ন আয়ের কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বেকার এবং দরিদ্র শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪৪ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩৫ দশমিক শতাংশ।

আবার এই খাতগুলোর জন্য বরাদ্দের মধ্যে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ২৫ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৫৬ শতাংশ। দরিদ্রদের মধ্যে শহরে নগদ সহায়তা পেয়েছেন ২৫ শতাংশ এবং গ্রামে তা ১৮ শতাংশ। শুধু দেশে নয়, কাজ হারিয়েছেন প্রবাসীরাও। গত বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার লাখ বিদেশি শ্রমিক ফেরত এসেছেনপ্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বের মোট তিন শতাংশ পুরোপুরি কাজ হারিয়েছেন। এর মধ্যে শহরের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের দশমিক ৭৮ শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বলছে, করোনার প্রথম ঢেউয়ে বিশ্বে ৩৩০ কোটি শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শ্রমঘন শিল্পে বেকারত্ব মারাত্মক আকার ধারণ করবে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাবে দেশে সাড়ে কোটি মানুষ বেকার। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশকে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। আরলকডাউনদীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি হবে আরও ভয়াবহ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রমিক সংগঠনগুলোর তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। সব পক্ষই সরকারের কাছে প্রণোদনা চাচ্ছে। সম্প্রতি করোনা স্বাস্থ্য শ্রমিকদের একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে আইএলও। এতে বলা হয়, বিশ্বের ১৩ কোটি ৬০ লাখ স্বাস্থ্য সামাজিক খাতের শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইতোমধ্যে সাত হাজার স্বাস্থ্যশ্রমিক মারা গেছেন


এখানে শেয়ার বোতাম
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © 2021 shirshobindu.com