রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৩১

ইউরোপিয়ান সর্বোচ্চ কোর্টের রায়: ব্রিটেনের গণ তথ্য সংগ্রহের কৌশল ছিল অবৈধ

ইউরোপিয়ান সর্বোচ্চ কোর্টের রায়: ব্রিটেনের গণ তথ্য সংগ্রহের কৌশল ছিল অবৈধ

/ ৪৪
প্রকাশ কাল: বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১
Picture taken on April 23, 2015 shows the audience room of the European Court for Human Rights, in Strasbourg, eastern France. AFP PHOTO / PATRICK HERTZOG (Photo credit should read PATRICK HERTZOG/AFP/Getty Images)

শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন: ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা (জিসিএইচকিউ) বিশ্বজুড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে যেই কৌশল অবলম্বন করেছিল তা অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইউরোপিয়ান কোর্টস অব হিউম্যান রাইটস (ইসিএইচআর)। মঙ্গলবার এক রায়ে এই বিষয়টি ব্যক্ত করে ইউরোপের সর্বোচ্চ আদালত।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৩ সালে জিসিএইচকিউ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ)-এর গণ নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের কর্মসূচির অস্তিত্ব ফাঁস করে দেন সাবেক এনএসএ কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন। তাতে দেখা যায়, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশ্বজুড়ে নিজ দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি অসংখ্য মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে। স্নোডেনের তথ্য ফাঁসের পর এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বিগ ব্রাদার ওয়াচ, লিবার্টি ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।

মঙ্গলবার ‘বিগ ব্রাদার ওয়াচ ও অন্যান্য বনাম যুক্তরাজ্য’ নামের ওই মামলার রায়ে ইসিএইচআর বলেছে যে, গণহারে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ব্রিটেন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক যোগাযোগের গোপনীয়তা ও বাকস্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। আদালত আরও বলেছে, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের কাছ থেকে যোগাযোগ বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করার অনুমোদন দেওয়ার তৎকালীন বিধানটিও মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। তবে তথ্য সংগ্রহ করা কোনো আইন লঙ্ঘন করেনি।

এছাড়া, বিদেশি সরকারগুলোর সঙ্গে স্পর্শকাতর তথ্য শেয়ার করা বিষয়ক ব্রিটিশ আইনটিও অবৈধ ছিল না বলেও রায় দিয়েছে ইসিএইচআর। ব্রিটেনের যে আইন গণহারে তথ্য নজরদারি ও সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ওই আইনটি –রেগুলেশনস অব ইনভেস্টিগেটরি পাওয়ার্স এক্ট ২০০০ (রিপা) এর বড় অংশ ইতিমধ্যে ইনভেস্টিগেটরি পাওয়ার্স এক্ট ২০১৬ দিয়ে সংশোধন করা হয়েছে।

মামলার আরেক ফরিয়াদী ওপেন রাইটস গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক জিম কিলক বলেন, ভবিষ্যতে গণহারে তথ্য নজরদারির কর্মসূচীগুলো মূল্যায়নের স্পষ্ট ক্রাইটেরিয়া ঠিক করে দিয়েছে আদালত। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস তথ্য নজরদারির অপব্যবহার ঠেকাতে এসব ক্রাইটেরিয়াকে ভবিষ্যতে আরো কঠোর নীতিতে রূপ দিতে হবে।

দ্য গার্ডিয়ান অনুসারে, ইসিএইচআর’র রায়ের সঙ্গে আংশিকভাবে দ্বিমত পোষণ করেছেন বেশ কয়েকজন বিচারক। তাদের একজন পাওলো পিন্টো দে আলবুকের্কি বলেন, এই রায় ইউরোপে ইলেকট্রনিক ‘বিগ ব্রাদার’ এর দুয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছে।

আরো চার জন বিচারক, বিদেশি সরকারের সঙ্গে ব্রিটেনের স্পর্শকাতর তথ্য শেয়ার করাকে অবৈধ ঘোষণা না করার রায়ের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন আরো চার জন বিচারক। তাদের মধ্যে তিন জন বিচারক জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত বই নাইনটিন এইটি-ফোর থেকে একটি লাইন উদ্ধৃত করেন: ‘দেয়ার ওয়াজ অফ কোর্স নো ওয়ে অব নোয়িং হয়েদার ইউ ওয়ার বিইং ওয়াচড অ্যাট অ্যানি গিভেন মোমেন্ট’ (নিশ্চিতভাবেই কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তে আপনার উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে কিনা তা জানার কোনো উপায় ছিল নেই)।

ব্রিটেনের নাগরিক স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা বিষয়ক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এবং মামলার ফরিয়াদী বিগ ব্রাদার ওয়াচের পরিচালক সিল্কি কার্লো বলেন, এই রায় নিশ্চিত করলো যে, যুক্তরাজ্য কয়েক দশক ধরে গণহারে চালানো গুপ্তচরবৃত্তি নাগরিকদের গোপনীয়তার ও বাকস্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। তিনি আরো বলেন, আমরা যুক্তরাজ্যের নজরদারী আইনকে অবৈধ ঘোষণার রায়কে স্বাগত জানাই। কিন্তু সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আদালত এ বিষয়ে আরো স্পষ্ট সীমারেখা টেনে না দেওয়ার মানে হচ্ছে, এ ঝুঁকি বাস্তব ও এখনো বিদ্যমান।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2021