বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০১:১৬

মানবাধিকার লঙ্ঘনের দোহাই দেয়ার পর অস্ত্র বিক্রিতে তোপের মুখে ব্রিটেন

মানবাধিকার লঙ্ঘনের দোহাই দেয়ার পর অস্ত্র বিক্রিতে তোপের মুখে ব্রিটেন

/ ৭০
প্রকাশ কাল: মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১

শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন: মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে একদিকে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা নিষেধাজ্ঞা তালিকায় কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দেশের নাম তুলেছেন, অন্যদিকে অস্ত্র বিক্রি করে দ্বৈত অবস্থান নিচ্ছেন। লন্ডন ভিত্তিক প্রচার সংগঠন ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট আর্মস ট্রেড (সিএএটি) এমন তথ্য দিয়েছে। খবর আরটি‘র।

ব্রিটিশ অস্ত্রের বৃহৎ ক্রেতা দেশগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, মিসর ও লিবিয়া। এগেইনস্ট আর্মস ট্রেড (সিএএটি) বিশ্লেষণে বলছে, ২০১১ থেকে গত বছর পর্যন্ত ব্রিটেন ওই তিনটি দেশে ২০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করেছে যখন এসব দেশ ব্রিটেনের কাছ থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনে সমালোচিত ও অন্যান্য ধরনের বিধিনিষেধের শিকারও হয়েছিল।

ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও কমনওয়েলথ অফিস গত বছর নভেম্বরে মিসর, লিবিয়া ও সৌদি আরব সহ ৩০টি দেশের একটি তালিকা প্রকাশ করে বলে এসব দেশ মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। ব্রিটেন এধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্যে ‘অপব্যবহারকারীদের’ কাজের জন্য জবাবদিহি এবং বিদেশি সরকাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করার তাগিদ দেয়। কিন্তু যখন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ব্যবসা ও ভূকৌশলগত স্বার্থের প্রশ্নটি ওঠে তখন দেখা যায় ওই ৩০টি তালিকাভুক্ত দেশের ২১টি দেশের কাছেই ব্রিটেন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করেছে।

ব্রিটেন সরকার এক্ষেত্রে দেশগুলোর বিপক্ষে নিজেদের দাবিকে উপেক্ষা করেছে। অন্যদিকে ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের (ডিআইটি) নিষেধাজ্ঞা তালিকার ৭৩টি দেশের মধ্যে ৫৮টি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পেয়েছে। ব্রিটেনের বিক্রিত অস্ত্র কেবল অলসভাবে গুদামজাত থাকে না, ইয়েমেনের মতো বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে সক্রিয়ভাবে তা ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট ২০১৫ সাল থেকে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। সৌদি আরবের সামরিক বিমানের অর্ধেকেরও বেশি ইয়েমেনে বোমা বর্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে ব্রিটেনের অস্ত্র ইয়েমেনও বিশেষ ধ্বংসাত্মক ভূমিকা পালন করছে।

ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট আর্মস ট্রেডের অ্যান্ড্রু স্মিথ গার্ডিয়ানকে বলেন, সৌদি আরবের কাছে ব্রিটিশ অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার জন্যে যে আহ্বান জানানো হচ্ছে এর কারণ হচ্ছে আগামি কয়েক বছর ধরে এসব অস্ত্র আরো নৃশংসতা ও অবমাননার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

গত জানুয়ারিতে এ্যাকসন অন আর্মড ভায়োলেন্সের মুরে জোন্স বলেন, পদ্ধতিগত ব্যর্থতার কারণেই ব্রিটেন দেশগুলোতে অস্ত্র বিক্রির আগে সেখানকার মানবাধিকার রেকর্ড বা পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পারছে না। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যুক্তি দিয়ে বলার চেষ্টা করেছেন তার দেশ অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে একীভূত আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অবিচ্ছিন্নভাবেই অনুসরণ করছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখে ইয়েমেনের মানবিক সহায়তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা ব্যাখ্যা করার জন্য প্রবল চাপের মুখে পড়েন। লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন ব্রিটিশ সরকারের কাছে ইসরায়েলের সাথে অস্ত্র বাণিজ্য বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন যে, ব্রিটিশ অস্ত্র বিদেশে শিশুদের হত্যা করছে। কার্যত করবিন গাজায় ফিলিস্তিনি শিশুদের ইসরায়েলে বোমা বর্ষণে মৃত্যুর দিকটি তুলে ধরেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2021