বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ১২:৪১

আইএস বধূ শামীমাকে ব্রিটেনে ফিরতে দেয়া উচিত মনে করেন মার্কিন সাবেক এক কূটনীতিক

আইএস বধূ শামীমাকে ব্রিটেনে ফিরতে দেয়া উচিত মনে করেন মার্কিন সাবেক এক কূটনীতিক

/ ৭৯
প্রকাশ কাল: বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১

শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন: শামীমা বেগম এখন আর বিপজ্জনক নন। তাকে ব্রিটেনে ফিরতে দেয়া উচিত। আইএস বধূ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া শামীমা বেগমকে ব্রিটেনে ফিরতে দেয়ার এমনটাই দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক একজন কূটনীতিক। ব্রিটিশ একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ এ খবর দিয়েছে।

এই কূটনীতিক হলেন ক্রোয়েশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার গলব্রাইট। তিনি জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস’র শিকারে পরিণত হওয়া ব্যক্তিদের জন্য মাঝে মাঝে কাজ করেন। এখন তিনি দৃষ্টি দিয়েছেন শামীমা বেগমের দিকে। কূটনীতিক গলব্রাইট দ্য টেলিগ্রাফকে বলেছেন, আমি শামীমার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি একদল নারীর অংশ এখন। তারা এরই মধ্যে আইএসকে একেবারে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার সম্পর্কে আমি অনেকটা জানি। এতে তার প্রতি আমার আস্থা এসেছে যে, তিনি আর বিপজ্জনক হবেন না।

মার্কিন কূটনীতিক মনে করেন- শামীমা যখন ব্রিটেন থেকে পালিয়ে সিরিয়া যান, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। তিনি স্কুলে পড়তেন। সেখানে গিয়ে তিনি ডাচ এক জিহাদিকে বিয়ে করেন। তার ঔরসে তিন সন্তানের মা হন শামীমা। কিন্তু সেসব সন্তানের মধ্যে একটিও বেঁচে নেই। ওদিকে ২০১৯ সালে ব্রিটিশ সরকার তার নাগরিকত্ব বাতিল করে। কারণ, ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শামীমা বেগমকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে।

গলব্রাইট বলেন, কানাডিয়ান ওই নারীর বিষয়টি ছিল একটি বিশেষ ঘটনা। এখনও আল রোজ শরণার্থী শিবিরের বিষয়ে নীতি গ্রহণের বিষয় আছে। যদি কোনো দেশ তার নাগরিককে ফিরিয়ে নিতে চায় তাহলে তাকে ওই শিবির থেকে বের করে আনা সম্ভব। তাই গলব্রাইট বিশ্বাস করেন, ব্রিটিশ সরকারের সহায়তা ছাড়া শামীমা বেগমকে ওই শিবির থেকে মুক্ত করা যাবে না। কানাডার ওই নারীর মতো শামীমাকে মুক্ত করা যাবে না। কারণ, কানাডার ওই নারীর এখনও কানাডিয়ান নাগরিকত্ব আছে। কিন্তু শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব না থাকায় তার কোনো যাওয়ার জায়গা নেই।

তিনি আরো বলেন, ব্রিটিশ সরকারের মৌলিক অবস্থান হলো, তারা শামীমাকে বিপজ্জনক মনে করে। কিন্তু আমি তা সত্য মনে করি না। নাগরিকত্ব বাতিল করার ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন শামীমা বেগম। তিনি এতে যুক্তি দেখিয়েছেন যে, ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে রাষ্ট্রহীন করে দিয়েছে। কিন্তু সরকার বলছে, শামীমার এই দাবি সত্য নয়। কারণ, তার পিতামাতা দু’জনেই বাংলাদেশ থেকে গিয়েছেন ব্রিটেনে। কিন্তু বাংলাদেশও জোর দিয়ে তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

শামীমা বেগমকে রাষ্ট্রহীন করে দেয়ার বিতর্কের বাইরেও তার আইনজীবীরা বলেছেন, শামীমা শিশু পাচারকারীদের কবলে পড়ে থাকতে পারেন এবং তিনি এখন সিরিয়ায় অবস্থান করছেন। তাকে যৌনতায় পথভ্রষ্ট করতে এবং জোরপূর্বক বিয়ে করার জন্যই এসব করা হয়েছে। এ বিষয়টি ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিবেচনায় নেয়া উচিত।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন ডেভিড ব্লান্ডেল কিউসি। তিনি বলেছেন, এসব দাবি আন্দাজনির্ভর। কারণ, শামীমা বেগম নিজে কখনো বলেননি যে, তাকে পাচার করা হয়েছে। ওদিকে সাংবাদিক অ্যানড্রু দ্রুরি’কে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শামীমা বলেছেন, আমি মনে করি না যে, আমি একজন সন্ত্রাসী ছিলাম। আমি মনে করি, আমি একটি বাচ্চা মেয়ে ছিলাম, যে একটি ভুল করে ফেলেছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি এই কূটনীতিক কানাডিয়ান একজন মাকে সাহায্য করেছেন। তার সহায়তায় সিরিয়ার আল রোজ শরণার্থী শিবির থেকে মুক্তি পেয়েছেন ওই নারী। বর্তমানে ওই শরণার্থী শিবিরেই অবস্থান করছেন শামীমা। কানাডিয়ান ওই নারী কুর্দিস্তান দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ইরাকে প্রবেশ করেছেন এবং কনস্যুলার সহায়তা চেয়েছেন। তিনি আইএস বা আইসিস সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন মার্কিন কর্তৃপক্ষকে। বর্তমানে তিনি এবং তার চার বছর বয়সী মেয়ে ওই শিবিরের বাইরে। ওই শিবিরকে দেখা হয় অনিরাপদ হিসেবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2021