ইউরো ২০২০ ফাইনালে নিজেদের বিজয় দেখতে টেমসের বুকের জলধারাও অস্থির। ছুটে ছুটে মিশে যেতে চাইছে ওয়েম্বলিতে জনসমুদ্রের সঙ্গে। পুরো ইংলিশ জাতির সঙ্গে মেতে উঠেছে পুরো ইংল্যান্ড। ইতিহাস গড়ার চূড়ায় অবস্থান করছে দেশটি।
ইতিহাস গড়ার পথে কোচ গারেথ সাউথগেট। তার ১১ শিষ্য আজ ইতালির মুখোমুখি ফুটবলরণে। পুরো ইংলিশ জাতি রয়েছে তাদের সঙ্গে। মাঠের বাইরে থেকে দলের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ, প্রিন্স উইলিয়াম, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ৫৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ম্যাচ আজ ‘থ্রি লায়নদের’। তাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে উদ্বুদ্ধ করেছেন সেলিব্রেটিরাও। এর মধ্যে আছেন আমান্ডা হোলডেন, সিমন কাওয়েল, ফিলিপ স্কফিল্ড সহ অসংখ্য সেলিব্রেটি।
চারদিকে উত্তেজনা। যদি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড তাহলে আজ জনতার বিস্ফোরণ ঘটবে। পুরো ইংল্যান্ডের ঘরে ঘরে বাধভাঙ্গা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়বে। রাস্তায় রাস্তায় কি হবে- সে কথা কল্পনা করাও কঠিন। এমনই এক ইতিহাস গড়ার মুহূর্তে এসে পুরো ইংল্যান্ড টিমকে শুভ কামনা জানিয়েছেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।
রানী এলিজাবেথ লিখেছেন, ৫৫ বছর আগে, আমার সৌভাগ্য হয়েছিল বিশ্বকাপের ট্রফি ববি মুরের হাতে তুলে দেয়ার। তখন দেখেছি, এই ট্রফি খেলোয়াড়, ব্যবস্থাপনা এবং সমর্থকদের কাছে কি অর্থ বহন করে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে পৌঁছার জন্য আমার পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন জানাই। আগামীকালের (রোববারের) জন্য শুভকামনা জানাই। আশা করি, ইতিহাস শুধু আপনাদের সফলতাই রচনা করবে এমন নয়। একই সঙ্গে উদ্দীপনা, কমিটমেন্ট এবং গর্ব আমাদের স্পর্শ করবে।
কি ঘটবে আজ লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে তার জন্য প্রস্তুত পুরো টিম। সবার কণ্ঠে একই আওয়াজ ‘ব্রিং ইট হোম’। অর্থাৎ উয়েফা ২০২০-এর কাপ ঘরে নিয়ে এসো। আমান্ডা হোলডেন দ্য সান’কে বলেছেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকবো। এমনটা দেখতে খুব ভালবাসি। পুরো দেশ এক হয়ে যাবে। ইংল্যান্ডকে সমর্থন করতে পেরে আমি গর্বিত। বিজিটি-এর বিচারক সিমন কাওয়েল এই দেশপ্রেমে যোগ দিয়েছেন। তিনি দেশের জন্য শুভ কামনা করেছেন।
দিস মর্নিং অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ফিলিপ স্কফিল্ড (৫৯) বলেছেন, আজ রাতের ম্যাচটি হবে আমাদের স্কোয়াডের। তারকা খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, পুরো দেশের মুড পাল্টে দিয়েছো তোমরা। অমূল্য কিছু দিয়েছো আমাদের, যা আমরা উদযাপন করতে পারি। রিয়েলিটি শো তারকা কেটি প্রাইস (৪৩) দলের প্রতি শুভ কামনা জানিয়েছেন। তিনি ইংল্যান্ডের টি-শার্ট পরে বলেছেন, ফুটবলের কাপটা এবার ইংল্যান্ডেই আসছে। সাউথগেটের টিমের প্রতি আবেগঘন এক বিবৃতি দিয়েছেন ডারমট ও’লিয়ারি (৪৮)। এমনিভাবে সব সেলিব্রেটি এক হয়েছেন। তারা দেশের জয় দেখতে মুখিয়ে আছেন।
কোচ গ্যারেথ সাউথগেটকে লেখা চিঠিতে তিনি পুরো টিমের উদ্দীপনা, প্রতিশ্রুতি এবং গর্বের প্রশংসা করেছেন। ওই চিঠিতে তিনি ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক একটি মুহূর্তকে স্মরণ করেছেন। সে সময় তিনি বিশ্বকাপ ফুটবল জয়ের ট্রফি নিজের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের তখনকার অধিনায়ক ববি মুরের হাতে। ওয়েম্বলিতে বড় কোনো ফাইনালে সেবারই সর্বশেষ জিতেছিল ইংল্যান্ড। চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি সাউথগেট এবং তার ‘ব্যান্ড অব ব্রাদার্স’কে কাপ ঘরে আনার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে প্রিন্স উইলিয়াম আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে লিখেছেন, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না এটা ঘটতে যাচ্ছে। আপনারা ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে সেরাটা এনেছেন। আমরা সবাই আপনাদের সঙ্গে আছি। পুরো দেশ আপনাদের সঙ্গে আছে। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের প্রতি খোলা চিঠি লিখেছেন তার স্ত্রী কেট কেইন। তিনি লিখেছেন, তুমি আমাদের সবাইকে যে গর্বের অধিকারী করেছো, তা লিখতে গিয়ে আমাকে কাঁদতে হচ্ছে।
দেশটির বিভিন্ন পাব ও বার এরই মধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। ভক্তরা এবং উৎসুক সমর্থকরা আগে আগেই হাজির হবেন এসব স্থানে। পুরো ইংল্যান্ড আজ সারারাত থাকবে উৎসবের আমেজে। যদি রবার্তো মানচিনির ইতালির বিরুদ্ধে তারা জয় পায় তাহলে ইংল্যান্ড হয়তো আনন্দে ফেটে পড়বে। বিস্ফোরণের মতো গর্জে উঠবে সব কণ্ঠ। এর জন্য প্রস্তুত রাজপ্রাসাদ থেকে শুরু করে রাস্তায় পড়ে থাকা সাধারণ মানুষ পর্যন্ত। তাদের সঙ্গে যোগ দেবে টেমসের জলরাশি। লাফিয়ে লাফিয়ে উঠে বাতাসে মিশে যাবে। ছুঁয়ে দেখবে স্বদেশের মানুষের প্রাণস্পন্দন। মিশে যাবে দেশাত্ববোধের ভালবাসায়। তারই যেন আভাস বরিস জনসনের কণ্ঠে।
তিনি কোচ সাউথগেট এবং স্কোয়াডকে বলেছেন, আন্তর্জাতিক এক বড় প্রতিযোগিতার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে নিয়ে এসেছেন আপনারা। এই দেশের বেশির ভাগ মানুষের সামনে এটাই তাদের পুরো জীবদ্দশায় প্রথমবার ঘটতে চলেছে। আপনারা পুরো দেশের উদ্দীপনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন। রোববার আমরা জানি, আপনারা ওই ট্রফিটিও উচ্চে তুলে ধরতে পারবেন। আমরা শুধু আশা আর প্রার্থনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আমরা বিশ্বাস করি আপনি গ্যারেথ এবং আপনার পুরো স্কোয়াড তা পারবে। পুরো জাতির পক্ষ থেকে আপনাদেরকে শুভ কামনা।
Leave a Reply