সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৫১

অনিশ্চিত গন্তব্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা

অনিশ্চিত গন্তব্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা

৪০ লাখ শিশু স্কুলে যাওয়ার অপেক্ষায়

শীর্ষবিন্দু নিউজ, ঢাকা / ২৫১
প্রকাশ কাল: বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো স্ব-শরীরে স্কুলে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ৪০ লাখ শিশু। আর বিশ্বব্যাপী ১৪ কোটি নতুন শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল শুরুর প্রথম দিন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে আছে। মঙ্গলবার ইউনিসেফ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

দেশে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে খুলে দেয়া হবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ক্লাস-পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা সশরীরে অংশগ্রহণ করবে। তবে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের আরও অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কবে নাগাদ প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়া হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সরকার। গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে মন্ত্রণালয় কর্মসূচি নির্ধারণ করছে।

এদিকে, ইউনিসেফ প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ১৪ কোটি শিশুর ক্ষেত্রে স্কুলের প্রথম দিন, যা কিনা বিশ্বব্যাপী সর্বকনিষ্ঠ শিক্ষার্থী ও তাদের বাবা-মায়েদের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত, কোভিড-১৯ এর কারণে বিলম্বিত হচ্ছে। এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৮০ লাখ এমন স্থানে বসবাস করে যেখানে মহামারির পুরো সময়ে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ কারণে সশরীরে শিক্ষা গ্রহণের প্রথম দিনটির জন্য তারা এক বছরের বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছে এবং এই অপেক্ষা বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ৪০ লাখ প্রথম-বারের শিক্ষার্থীও রয়েছে। বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে, যা কোভিড-১৯ এর কারণে স্কুল বন্ধের ক্ষেত্রে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম।

তবে এ পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও কর্মদিবস কমে আসতে পারে। গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপুমনি এ ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেছেন, প্রাইমারি স্কুলগুলো চালু করার সব প্রস্তুতি আছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেলেই স্কুল খুলে দেয়া হবে।

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তারা এ নিয়ে ব্রিফ করবে। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত কোনো পরিকল্পনার কথা জানায়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। প্রথমত শিক্ষক ও ১৮ বয়সোর্ধ্ব শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত সংক্রমণ হার সিঙ্গেল ডিজিটে আসা। দুটো বিষয়কে সামনে রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও পাঠদানের চেয়ে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারেই বেশি তোড়জোড় মন্ত্রণালয়ের।

ইতিমধ্যে সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজ। তবে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। সাত কলেজে ১লা সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে পরীক্ষা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের স্থগিত পরীক্ষা শুরু হবে ৮ই সেপ্টেম্বর থেকে। এ ছাড়াও বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করছে। যদিও সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে পরীক্ষার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্র বলছে, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টিকা দেয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও টিকার আওতায় এসেছে। তবে সংক্রমণ পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে আসা পর্যন্ত স্কুল পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না। ফলে স্কুলের ছুটি ফের বাড়বে। মঙ্গলবার দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার ছিল ১৫.১২ শতাংশ। সংক্রমণের হার ধীরে ধীরে কমছে। সূত্রমতে, প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে আটকে থাকা স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের চূড়ান্ত পরীক্ষাগুলো নেয়া হবে। এরপর নেয়া হবে ভর্তি পরীক্ষা। পরিকল্পনা মতে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে খোলা হবে বিশ্ববিদ্যালয়। ক্লাস শুরুর অন্তত এক সপ্তাহ আগে হল ও পরিবহন সংস্কার করা হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে ফেরার সুবিধার্থে দুই সপ্তাহ আগে ঘোষণা হবে শুরুর তারিখ।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ৭ই আগস্ট পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিন লাখ ৬৩ হাজার ২২২ শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই লাখ ৭৮ হাজার ৪২৬ জন টিকা নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধিত ৩৪ হাজারের বেশি শিক্ষকের মধ্যে ৩০ হাজার টিকা পেয়েছেন। আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের এক লাখ ৭৯ হাজার ২৬১ শিক্ষার্থী টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। যাদের মধ্যে প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন ৭৯ হাজার ৯১৪ জন। দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ছয় হাজার ৭২ জন।

গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, যেভাবে সংক্রমণের হার ক্রমেই নিচে নেমে আসছে, এটা আমাদের জন্য সুখবর। এই নিম্নগতি থাকলে খুব শিগগিরই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে পারবো। তবে ধাপে ধাপে খুলবো। কারণ আমাদের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। করোনায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সবাই শুরু থেকেই সপ্তাহে ছয়দিন হয়তো ক্লাস করার সুযোগ পাবে না। একটু সময় নিয়ে হবে সেটা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি আছে। শুধু অপেক্ষা সংক্রমণের হার আরেকটু নিচে নামার।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুল খোলার সব প্রস্তুতি আমাদের আছে। এ মুহূর্তে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিলে আগামীকালই আমরা সরকারি প্রাইমারি স্কুলগুলো খুলে দিতে পারি। জাকির হোসেন বলেন, আমাদের শিক্ষকরা স্কুলে যাচ্ছেন। আমরা অনলাইন ও অফলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছি। সংসদ টিভিতে ক্লাস হচ্ছে। স্কুল বন্ধ থাকলেও আমাদের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। তাদের ওয়ার্কশিট দেয়া হচ্ছে। পরিকল্পনার বিষয়ে জাকির হোসেন বলেন, স্কুল খুললেও আপাতত দুই ভাগে হবে প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের ক্লাস। এরমধ্যে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে সপ্তাহে ২ দিন করে ক্লাস নেয়ার পরিকল্পনা আছে। আর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস সপ্তাহে একদিন করে নেয়া হবে। আমাদের কারিকুলাম অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত একটা সিলেবাসও চিন্তা ভাবনা করছি।

সমাপনী পরীক্ষার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাপনী পরীক্ষা সশরীরে হবে নাকি মূল্যায়নভিত্তিক হবে এ সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি অনুযায়ী নেয়া হবে। এ রকম যদি পরিবেশ থাকে তাহলে পরীক্ষা না নিয়ে আমরা গতবার যেভাবে মূল্যায়ন করেছি সেভাবে করবো। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুল খোলার উপযুক্ত পরিবেশ রাখতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে আঞ্চলিক পরিচালকদের নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখারও নির্দেশনা দেয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, শিক্ষার্থী প্রোফাইল শতভাগ হয়েছে কিনা তা দেখতে হবে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। স্যাম্পল হিসেবে শিক্ষার্থীর বাড়ি যাওয়া এবং শিক্ষার্থীর যোগাযোগ রেজিস্ট্রার যাচাই করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, ২০শে আগস্ট পর্যন্ত প্রাথমিকের ৮৪ ভাগ শিক্ষক-কর্মচারী টিকার আওতায় এসেছেন। দেশে প্রাথমিকের তিন লাখ ৬৫ হাজার ৮৮৩ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে টিকা পেয়েছেন তিন লাখ তিন হাজার ৩১৯ জন। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ক্ষতি সব থেকে বেশি। দীর্ঘ দেড় বছরের এই বন্ধে প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যাপক ঘাটতি। অ-আ-ক-খ শেখার বয়সটায় স্কুল কি তাই এখনো জানে না এরা। মঙ্গলবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষককে উপস্থিত থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আর নির্দেশনা মিললে যেকোনো সময় সরকারি প্রাইমারি স্কুল খুলে দেয়ার সক্ষমতা আছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2021