বর্তমান পরিস্থিতি তালেবান শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও এগিয়ে গেছে। নারীদের ঘরের বাইরে যেতে না দেওয়া এবং পুরাকীর্তি ধ্বংসের বদনাম রয়েছে যে গোষ্ঠীটির তারা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক দর কষাকষি করছে। টুইটার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা নিজেদের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে। যা ইতিপূর্বে তাদের ক্ষমতায় থাকার চেয়ে একেবারেই ভিন্ন।
তালেবান এখন প্রতিপক্ষের কাছে এ বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে যে, তাদের নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাদের লড়াইয়ের হাতিয়ার এখন টুইটার, কালাশনিকভ নয়। স্টেডিয়ামে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কালিমা লেগে গ্রুপটি এখন ক্ষমতার বৈধতা অর্জনের চেষ্টায় ব্যস্ত। দুই দশক আগের তালেবান আর এখনকার তালেবান এক নয়। তালেবান আবার ক্ষমতায় এলো নারীরা জাতীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবে এমন ধারণা অপনোদন করতে একজন তালেবান কর্মকর্তা টুইটারে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার ভিডিও পোস্ট করেছেন। হেরাত দখলের পর ঐ ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
গত ২০ বছরে তারা সমর কৌশলে যেমন পারদর্শী হয়েছে, তেমনি বেড়েছে তাদের কূটনৈতিক দক্ষতা। বিশেষ করে পরাশক্তিদের সঙ্গে দর কষাকষি করার অভিজ্ঞতা। নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষক হিসেবে নিজেদের মেলে ধরেছে। ইতিমধ্যেই যারা আগের সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে, তাদের প্রতি ঘোষাণা দিয়েছে সাধারণ ক্ষমার। জানা গেছে, এই সাধারণ ক্ষমার আওতায় সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দেশে ফিরতে পারেন।
সমালোচকরা বলছেন, ১৯৯৬ সালেও তালেবান এ রকম সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিল। তারা একে নিছক প্রতিশ্রুতি হিসেবেই দেখানোর চেষ্টা করছেন। তালেবান এবার এত দ্রুত রাজধানী কাবুল দখল করবে এটা যুক্তরাষ্ট্র ধারণা করেনি। বাইডেন প্রশাসন জানুয়ারিতে আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের সময়সূচি ঘোষণা করে জানিয়েছিল দেশটিতে সাড়ে ৩ লাখ সদস্যের নিরাপত্তা বাহিনীই নিজেদের দেশ রক্ষার জন্য যথেষ্ট।
কিন্তু তারা যে এভাবে পশ্চাদপসরণ করবে সেটি যুক্তরাষ্ট্র আঁচ করতে পারেনি। তালেবানের হাতে কাবুলের পতনের প্রতিপক্ষ মিলিশিয়াদের শক্ত ঘাঁটি পানশিরও প্রায় তাদের হাতে চলে এসেছে বলে জানা গেছে। পশ্চিমারা এখন বলছে তারা তালেবানের অতীত নয় বরং ভবিষ্যত্ কর্মকাণ্ড দেখে সিদ্ধান্ত নেবে।
এক্ষেত্রে পশ্চিমাদের সামনে নতুন করে অভিবাসী আসার ঝুঁকি রয়েছে। তালেবান যোদ্ধাদের কাবুলে ঢোকার যে ভিডিওগুলো নেটে তারা শেয়ার করেছে তাতে দেখা যায় তারা খুবই সাধারণ মানুষ, সহজে তাদের সঙ্গে মেশা যায়, আইসক্রিম খেতে পছন্দ করে ইত্যাদি। আরো কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, তালেবান শিয়া হাজারা ও শিখদের মতো সংখ্যালঘুদের রক্ষা করছে, সুন্নি হওয়া সত্ত্বেও তারা এক শিয়া নেতার স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।
Leave a Reply