সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:১৮

সিলেটে আটকে আছেন ৬০০০ ব্রিটেন প্রবাসী

সিলেটে আটকে আছেন ৬০০০ ব্রিটেন প্রবাসী

শীর্ষবিন্দু নিউজ, সিলেট / ৬৮৭
প্রকাশ কাল: বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সিলেটে আটকে আছেন ৬০০০ ব্রিটেন প্রবাসীরা। ব্রিটেনে কোয়ারেন্টিন নিয়ে জটিলতায় প্রবাসীরা বর্তমানে সিলেটে অবস্থান করছেন। এদের প্রকৃত সংখ্যা হবে ৬ হাজারেরও বেশি।

জানা যায়, এরইমধ্যে সিলেট থেকে ব্রিটেনে গিয়ে যারা ১০ দিনের কোয়ারেন্টিন নিয়ম পালন করেছেন তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই ব্রিটেন ফিরতে ভয় পাচ্ছেন প্রবাসীরা। পাশাপাশি কোয়ারেন্টিন ব্যয়ও বাড়ানো হয়েছে। একজন প্রবাসীকে একা হোটেলের রুমে থাকতে হলে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এই সময়ে অনেকেই কোয়ারেন্টিনে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও জটিলতার মুখে পড়েন।

এদিকে ব্রিটেনে অবস্থানরত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন করোনা ‘রেড জোন’ থেকে বাংলাদেশকে বের করতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাবের সহযোগিতা চেয়েছেন। আটকে পড়া প্রবাসীরা জানিয়েছেন, করোনার গত দুই বছর সিলেটি প্রবাসীদের জন্য কখনোই সুখকর ছিল না। প্রথম ধাপে করোনা বেড়ে গিয়েছিল ব্রিটেনে। ওই সময় অনেক প্রবাসী জরুরি কাজে সিলেটে এসে কোয়ারেন্টিন জটিলতায় নানা বিড়ম্বনার মুখে পড়েন। এই বিড়ম্বনায় বাংলাদেশে কেটেছে প্রায় দেড় বছর। বাংলাদেশে কঠোর নিয়মের কারণে জরুরি প্রয়োজনে অনেক প্রবাসী দেশে যাতায়াত কমিয়ে দেন। এরপর বাংলাদেশে কোয়ারেন্টিন শিথিল করায় প্রবাসীরা নিজ এলাকা সিলেটে এসেছিলেন।

সিলেটের কয়েকটি ট্র্যাভেলস এজেন্টের মালিকরা জানিয়েছেন, ব্রিটেনে এক ঘরে বন্দি থেকেই কোয়ারেন্টিন পালন করতে হয়। রুমের বাইরে বের হওয়া যায় না। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও সেটি মিলে না। এর বাইরেও রয়েছে পদে পদে ভোগান্তি। এ কারণে দেশে আটকে পড়া সিলেটের প্রায় ৬ হাজার প্রবাসী ব্রিটেন যাচ্ছেন না। তারা জানান, কোয়ারেন্টিনের জন্য একজন প্রবাসীকে ব্যয় করতে হয় প্রায় ২২৫০ পাউন্ড। যদি দুই যাত্রী এক রুমে কোয়ারেন্টিন পালন করেন তাহলে তাদের জনপ্রতি ১৮৫০ পাউন্ড খরচ করতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিন দেশে অবস্থানের কারণে অনেকেই আর্থিক দিক বিবেচনায়ও লন্ডন যেতে পারছেন না। এ ছাড়া, দেশে থাকা লন্ডন প্রবাসীদের বেলায় টিকা নিয়ে জটিলতাও ছিল। অনেক প্রবাসী মডার্না কিংবা কোভিশিল্ডের টিকা নিতে পারেন নি। আবার কেউ কেউ সিনোফার্মের টিকা নিয়েছেন। অনেকেই আবার ভ্যাক্সিনেটেড হতে পারেননি। ফলে এসব জটিলতার কারণেই প্রবাসীরা দেশে আটকা পড়েছেন।

ট্র্যাভেলস এজেন্টের মালিকরা আরো জানিয়েছেন, জানিয়েছেন, কোয়ারিন্টেনের কঠোর নিয়মের কারণে বিশেষ করে সেপ্টেম্বর সেশনে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অনেক শিক্ষার্থীও আটকা পড়েছেন সিলেটে। তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বৃটেনে ফেরার কথা। কিন্তু একজন শিক্ষার্থীকে নতুন করে আরও দুই থেকে তিন লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে। এ ছাড়া ভিজিট ভিসার যাত্রীরাও যেতে পারছেন না। তাদের আরও কঠোর নিয়মের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। কঠোর কোয়ারেন্টিন নিয়মের কারণে যারা দেশে আটকে আছেন তারা অনেক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কারও কারও পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। আবার কেউ কেউ চাকরি নিয়েও শঙ্কায় পড়েছেন। তিনি জানান, এখন যেহেতু করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে; এজন্য বৃটেনের প্রবাসীদের কোয়ারেন্টিন নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। রেড জোন থেকে বাংলাদেশ বের হলেই প্রবাসীরা আগের মতো স্বাভাবিক নিয়মেই ব্রিটেন থেকে সিলেটে যাতায়াত করতে পারবেন।

গত এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনগামী যাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন নিয়ম চালু করে বৃটেন সরকার। এক সপ্তাহের সময় দিয়ে কোয়ারেন্টিন নিয়ম চালু করার কারণে অনেক প্রবাসী তখন বিমানের আসন সংকটের কারণে ব্রিটেন ঢুকতে পারেননি। ফলে এপ্রিলের আগে জরুরি প্রয়োজনে দেশে আসা প্রায় ১০ হাজারের মতো ব্রিটেন প্রবাসী দেশেই আটকা পড়েন। এ কারণে যাত্রী সংকটের কারণে বিমান বাংলাদেশ সপ্তাহে একদিন লন্ডন রুটে তাদের ফ্লাইট চালু রাখে। পরবর্তীতে যাত্রী সুবিধা বিবেচনা করে দুটি ফ্লাইট চালু করেছে। এখন সপ্তাহে রোববার ও বুধবার দুটি ফ্লাইট চালু আছে। কিন্তু ফ্লাইট চালু থাকলেও লন্ডন থেকে ফেরত আসা যাত্রী সংখ্যা বেশি থাকলেও লন্ডনগামী যাত্রী সংখ্যা কম।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2021