সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৫:২২

করোনার সংক্রমণ বাড়ছে যুক্তরাজ্যে

করোনার সংক্রমণ বাড়ছে যুক্তরাজ্যে

মুখে মাস্ক পরা, বাসায় বসে কাজ করারসহ আসতে পারে কঠোর লকডাউন

শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন / ৩৩৫
প্রকাশ কাল: বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০২১

যুক্তরাজ্যজুড়ে করোনার প্রতিষেধক টিকা কার্যক্রম অব্যাহত থাকা সত্বেও লাগাম টানা যাচ্ছে না ভাইরাস। ব্রিটিশরা মহামারীর আগের স্বাভাবিক জীবনযাপন করার কারণে সংক্রমণ বাড়ছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের পরিসংখ্যান অফিসের তথ্যমতে, ইংল্যান্ডের ৬০ জনের মধ্যে একজন করোনা ভাইরাস বহন করছিলেন। যা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যুক্তরাজ্যে ডেল্টা, দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টেরও উপস্থিত রয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিধিনিষেধ না থাকায় সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বাড়ছে মৃত্যুর হারও।

সমালোচনার মুখেই গত জুলাইয়ে যুক্তরাজ্য থেকে সব ধরণের বিধি নিষেধ প্রত্যাহার করে নেয় বরিস জনসন সরকার। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে নাইট ক্লাব, বার, পার্কসহ সব জায়গায়তেই সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়। আর এতে কোভিডের সংক্রমণ বাড়ছে।

ব্রিটেনে একদিনে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৯ হাজার ১৫৬ জন। গত তিন মাসের মধ্যে এই সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ। এ অবস্থায় আগামী কয়েক মাসকে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে প্রস্তুত থাকার জন্য বৃটিশদের অনুরোধ করেছেন কর্মকর্তারা। এ অবস্থায় টিকা দেয়া সত্ত্বেও আসন্ন শীতে আবার সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে আবার মুখে মাস্ক পরা এবং বাসায় বসে কাজ করার নির্দেশ আসবে কিনা তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন ডেইলি মেইল বলছে, বর্তমানে বৃটেনে করোনা ভাইরাসের তৃতীয় ডোজ টিকা বা বুস্টার ডোজ দেয়ার কর্মসূচি এগুচ্ছে খুব ধীর গতিতে। এতে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এখনও পশ্চিম ইউরোপের তুলনায় বৃটেনে করোনায় হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

এ ছাড়া করোনা সংক্রান্ত এসএজিই কমিটির সদস্যরা সোমবার সতর্ক করে বলেছেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা খাতের (এনএইচএস) ওপর চাপ কমাতে আরো একবার পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তবে সোমবার প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের মুখপাত্র বলেছেন, নতুন করে বিধিনিষেধ দেয়ার পরিকল্পনা বর্তমানে তাদের নেই। সর্বশেষ পরিসংখ্যানের দিকে তারা ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছেন।

বিশ্বজুড়ে টিকা দেয়া কার্যক্রম শুরু হয় মূলত বৃটেন থেকেই। তারাই প্রথম করোনা ভাইরাসের টিকা দেয়। জনসংখ্যার শতকরা যে পরিমাণকে ডাবল ডোজ টিকা দেয়ার হয়েছে সেই তুলনায় তারা এখন ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্সকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। যাদের বয়স ৫০ বছরের ওপরে এবং ক্লিনিক্যালি যারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন, তারা করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার ৬ মাস পরে বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। তারা বলছেন, বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের যে হারে টিকা দেয়া হচ্ছে, তাতে জানুয়ারি শেষের আগে তারা বুস্টার ডোজ পাবেন না।

কোভিড-১৯ অ্যাকচুয়ারিজ রেসপন্স গ্রুপের জন রবার্টস ডেইলি টেলিগ্রাফকে বলেছেন, বুস্টার ডোজ দেয়ার শুরুতে স্বাস্থ্য ও সামাজিক যত্ন বিষয়ক সেক্রেটারি অব স্টেট বলেছিলেন যে, সামনেই যেহেতু শরত এবং শীতকাল, তাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষা দিতে বুস্টার ডোজ দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে যে গতিতে টিকা দেয়া হচ্ছে, তাতে জানুয়ারি শেষ হয়ে যাওয়ার আগে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষকে বুস্টার ডোজ টিকা দেয়া সম্ভব হবে না। এসব মানুষ করোনার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন। ওদিকে রেডিও এবং টিভিতে একটি নতুন বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। তাতে প্রবীণদেরকে করোনা ভাইরাসের বুস্টার ডোজ এবং ফ্লু ভ্যাকসিন নিতে বলা হচ্ছে। তা দেয়া শুরু হবে এ সপ্তাহের আরো পরে।

শিশুদের মধ্যে কম সংখ্যককে টিকা দেয়া নিয়েও উদ্বেগ আছে। ইংল্যান্ডে ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীসীমার মধ্যে শতকরা মাত্র ১৫ ভাগ শিশুকে টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে গত সপ্তাহে প্রতি ১০ টি শিশুর মধ্যে প্রায় একজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আগেই বলা হয়েছে, পশ্চিম ইউরোপের তুলনায় বৃটেনে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২৮ দিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ৪৫ জন মারা গেছেন সোমবার।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আবারও বিধি-নিষেধ আরোপের চাপ বাড়ছে। সোমবার দেশটিতে একদিনেই ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় শনাক্ত। একইদিন মারা গেছেন প্রায় ২২৩ জন। যা গত মার্চের পর এটিই সর্বোচ্চ। এ অবস্থায় সংক্রমণের লাগাম টানতে সরকারকে ফের বিধিনিষেধ আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © shirshobindu.com 2021