সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৪৬

বিচারের মুখোমুখি দাঁড়াতে চান শামীমা বেগম

বিচারের মুখোমুখি দাঁড়াতে চান শামীমা বেগম

শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন / ২১৯
প্রকাশ কাল: মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২১

২০১৫ সালে ১৫ বছর বয়সে পূর্ব লন্ডন ছেড়ে সিরিয়া চলে যান আইসিসে যোগ দিতে। এখন তার বয়স ২২ বছর। আবারও জোড়ালো কন্ঠে জানালেন নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হলেও ব্রিটেন ফিরতে চান আইসিস বধূ বলে পরিচিত শামীমা বেগম।

শামীমা বেগম সিরিয়া পৌঁছার ১০ দিনের মাথায় বিয়ে করেন ধর্মান্তরিত ডাচ নাগরিক ইয়াগো রিডিজক’কে। এরপর তিনটি সন্তানের মা হন তিনি। তাদের একটি সন্তানও বেঁচে নেই। শামীমা বলেছেন, যখনই তিনি ঘুমাতে যান শুনতে পান তার সন্তানদের কান্নার শব্দ। শুনতে পান চারদিকে বোমার শব্দ। তারপর অব্যাহতভাবে দৌড়াতে থাকেন। কল্পনা করতে থাকেন, তার বন্ধুরা মারা যাচ্ছে। স্কাইনিউজকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা জানান।

সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার বিচারের মুখোমুখি দাঁড়াতে চান তিনি। বলেছেন, আইসিসে যোগ দেয়ার জন্য যখন সিরিয়া পালিয়ে যান, তখন ব্রিটেনকে ঘৃণা করতেন না। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন শামীমা।

একই সাক্ষাতকারে আইএসের অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালানোর যে অভিযোগ আছে তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বলেছেন, এসব অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। তিনি এখন আশা এবং স্বপ্ন নিয়ে আছেন। যদি নাগরিকত্ব পুনর্বহাল করা না হয়, তাহলে তার কোনো বিকল্প পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, আমি অভিযোগের জবাব দিতে আদালতে দাঁড়াতে চাই। কিন্তু আমাকে তো সুযোগই দিচ্ছে না।

স্কাইনিউজকে শামীমা বলেন, তিনি যখন টিনেজ বয়সে ব্রিটেন ছাড়েন, তখন তাড়াহুড়ো করে ছাড়েননি। কিছু সময় নিয়ে এ বিষয়ে চিন্তা করতে হয়েছে তাকে। তার ভাষায়, আমি ব্রিটেনকে ঘৃণা করি না। বাস্তবেই ঘৃণা করি আমার জীবনধারাকে। নিজেকে একেবারে গুটিয়ে নিয়েছি বলেই মনে হয়। একজন ব্রিটিশ নারী হিসেবে ব্রিটেনে বসবাস করতে চাই আমি। কিন্তু মনে হয় সেই জীবন আমি পাবো না। আমার মনে হয়, আমি একটিই অপরাধ করেছি। তাহলো এখানে এসে। এর জন্য আমাকে জেলে যেতে হলেও আমি যেতে রাজি। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তার জবাব দিতে আমি আইনি লড়াই করতে চাই।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা বেগম এখনও সিরিয়ার আল রোজ শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছেন। তিনি বলেছেন, এখানে বসবাস করা এখন ভীতিকর হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় এখানে কোনো সহিংসতা ছিল না। কিন্তু কিছু কারণে বর্তমানে এখানে বসবাস করা ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে। হয়তো নারীরা কোনোকিছুর জন্য অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। শামীমা বলেন, যখন সময় আসবে তখন তিনি পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে মিলিত হতে পারবেন এমন আশা করেন। তার ভাষায়, আমার মনে হয় না তারা আমাকে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু আমি তো তাদের ফেলে এসেছি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © shirshobindu.com 2021