ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া ও বেলারুশ। দেশটিতে রুশ অভিযানের আশঙ্কার মধ্যেই বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ১০ দিনের এই যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হলো।
ফলশ্রুতিতে সম্ভাব্য ইউক্রেন আক্রমণ ঠেকাতে জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্ট শুরু করেছেন ন্যাটো নেতারা। রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশ। ইউক্রেনের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এই সামরিক মহড়ায় বেলারুশে কত সৈন্য সমাবেশ করেছে রাশিয়া তা সঠিক করে বলা যাচ্ছে না।
তবে একে স্নায়ুযুদ্ধের পর বৃহত্তম বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়া ইউক্রেন-সংলগ্ন সীমান্তে এক লাখেরও বেশি সৈন্য সমাবেশ করেছে। ফলে যেকোনও সময় দেশটিতে তারা অভিযান চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এই আশঙ্কা করছে। তবে রাশিয়া বারবার তা অস্বীকার করেছে।
বেলারুশ ও রাশিয়ার এই যৌথ সামরিক মহড়াকে ‘সহিংস ইঙ্গিত’ বলে আখ্যা দিয়েছে ফ্রান্স। এটি উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে- এমন একটি পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ করে আমাদের প্রতিবেশীরা মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে।’
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, গত কয়েক দশকের মধ্যে ইউরোপ এখন সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংকটের সম্মুখীন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, রাশিয়া ইউক্রেনে অভিযান চালালে এই মহড়ার জন্য আসা রুশ সৈন্যরা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের অনেক কাছাকাছি থাকবে। তাদের জন্য শহরটির ওপর আক্রমণ চালানো সহজতর হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, একটি সর্বাত্মক অভিযান চালানোর জন্য যতটা দরকার; এর ৭০ শতাংশ সামরিক শক্তি এরই মধ্যে সমাবেশ করে ফেলেছে রাশিয়া।
পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনকে কখনও ন্যাটো সদস্য করা হবে না। পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি কমাতে হবে। তবে মার্কিন-নেতৃত্বাধীন ন্যাটো এমন নিশ্চয়তা দিতে রাজি নয়।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ইউক্রেন যদি ন্যাটোতে যোগ দেয় এবং আট বছর আগে রাশিয়ার দখল করা ক্রাইমিয়া পুনর্দখল করার চেষ্টা করে; তাহলে পুরো ইউরোপ একটা বড় আকারের সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে।
ঠিক কত সৈন্য এই মহড়ায় যোগ দেবে তা প্রকাশ করেনি মস্কো ও মিনস্ক কেউই। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, প্রায় ৩০,০০০ রুশ সৈন্য এতে অংশ নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Leave a Reply