আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘রিসালাতের বৈশিষ্ট্যসমূহ ’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইমাম মাওলানা নুরুর রাহমান।
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাত ছিল অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তিনি সার্বজনীন, পূর্ণাঙ্গ ও সর্বকালের সব মানুষের জন্য যুগোপযোগীয় আলোকবর্তিকা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
নিম্নে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের আলোকে তাঁর রিসালাতের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসমূহ বিধৃত হলো:সার্বজনীন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো বিশেষ সময় ও কোনো বিশেষ অঞ্চলের জন্য প্রেরিত হন নি।
তিনি সমগ্র জাহানের মানুষের কল্যাণের নিমিত্তে আবির্ভূত হয়েছিলেন। পূর্ববর্তী সকল নবী রাসূল কোনো বিশেষ অঞ্চল বা বিশেষ গোত্রের প্রতি হিদায়াতের আলোকবর্তিকা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন।
কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন বিশ্ববাসীর জন্য ও অনাগত সীমাহীন সময়ের জন্য সর্বশেষ রাসূল। সুতরাং তাঁর রিসালাতও ছিল সার্বজনীন ও ব্যাপক।
এ মর্মে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে:
﴿قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنِّي رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيۡكُمۡ جَمِيعًا﴾ [الاعراف: ١٥٨]
‘‘বলুন হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সবার প্রতিই আল্লাহর রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৭৫]
আলোচ্য আয়াতটি মক্কী যুগে অবতীর্ণ আয়াতসমূহের অন্যতম। অতএব বলা যায় যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াতী কার্যক্রমের সূচনাই বিশ্বজনীন প্রকৃতি নিয়ে শুরু হয়েছে।
তাঁর প্রেরণের উদ্দেশ্য বিধৃত করতে গিয়ে অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন,
﴿وَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ إِلَّا رَحۡمَةٗ لِّلۡعَٰلَمِينَ ١٠٧﴾ [الانبياء: ١٠٧]
‘‘আমি আপনাকে সমগ্র জগতের প্রতি কেবল রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।’’ [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭]
এছাড়াও বিদায় হজের ভাষণে তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে হে মানবজাতি বলে সম্বোধন করেছেন। তিনি অনেক বাদশা ও সম্রাটের নিকট দাওয়াত দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। স্বীয় সাহাবীগণ সারা বিশ্বময় দাওয়াত নিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
সর্বশেষ নবী ও রাসূল হিসাবে তাঁর রিসালাত ছিল পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত। তাইতো মহান আল্লাহ বলেন, ﴿ٱلۡيَوۡمَ أَكۡمَلۡتُ لَكُمۡ دِينَكُمۡ وَأَتۡمَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ نِعۡمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلۡإِسۡلَٰمَ دِينٗا﴾ [المائدة: ٣] ‘‘আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ পূর্ণ করলাম, আর তোমাদের জন্য একমাত্র দীন হিসাবে ইসলামকে মনোনীত করলাম।’’ [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৩]
লেখক: ইমাম মাওলানা নুরুর রাহমান
Leave a Reply