রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০০

আলোকবর্তিকা ও আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধিকরণকারী মোহাম্মদ স:

আলোকবর্তিকা ও আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধিকরণকারী মোহাম্মদ স:

আজ শুক্রবার পবিত্র জুমাবার আজকের বিষয়আলোকবর্তিকা ও আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধিকরণকারী মোহাম্মদ স:’ শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইমাম মাওলানা নুরুর রাহমান

মানুষের জন্য দু’টি জীবন রয়েছে, একটি ইহ-লৌকিক আর একটি পারলৌকিক। উভয় জীবনের কল্যাণ শান্তি ও মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ধরাধামে আগমন করেছেন। বর্বর, অসভ্য, কুসংস্কারাচ্ছন্ন জাহিলিয়াতের ঘোর অমানিশায় তাঁর রিসালাত ছিল আলোকবর্তিকা স্বরূপ।

সে সমাজে মানুষেরা ভালো-মন্দের মাঝে পার্থক্য করার মতো জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল, রীতিমত অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত ছিল, সে সমাজে আলোর মশাল জ্বালিয়েছিলেন তিনি। তাঁর আগমনে মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত হয়। সমাজে অন্যায় অশান্তি দূরীভূত হয়ে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। পারস্পরিক যুদ্ধ বিগ্রহ, কলহ ও সন্ত্রাসের মোকাবিলায় সন্ধি স্থাপিত হয়।

তাইতো মহান আল্লাহ তাঁর রিসালাতকে (سراجا منيرا) উজ্জ্বল প্রদীপ রূপে আখ্যা দিয়েছেন। কুরআনে এসেছে: ﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ إِنَّآ أَرۡسَلۡنَٰكَ شَٰهِدٗا وَمُبَشِّرٗا وَنَذِيرٗا ٤٥ وَدَاعِيًا إِلَى ٱللَّهِ بِإِذۡنِهِۦ وَسِرَاجٗا مُّنِيرٗا ٤٦﴾ [الاحزاب: ٤٥، ٤٦] ‘‘হে নবী! আমরা আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদ দাতা, ভীতি প্রদর্শক ও উজ্জ্বল প্রদীপরূপে।’’ [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪৫-৪৬]

আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধিকরণ
দেহও হৃদয় উভয়ের সমন্বয়ে একজন মানব। তাই মানুষের দেহের যেমনি চাহিদা রয়েছে, তেমনি হৃদয় ও আত্মারও চাহিদা রয়েছে। জন্মগতভাবেই মহান আল্লাহ মানুষের প্রকৃতিতে ভাল ও মন্দ উভয় কাজ করার ইচ্ছা ও প্রবণতা দিয়েছেন। এ মর্মে কুরআনে এসেছে- ﴿وَنَفۡسٖ وَمَا سَوَّىٰهَا ٧ فَأَلۡهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقۡوَىٰهَا ٨﴾ [الشمس: ٧، ٨] ‘‘এবং শপথ মানুষের এবং তার যিনি তাকে সুঠাম করেছেন অতঃপর তার মধ্যে পাপ ও পুণ্য উভয়ের প্রবণতা নিহিত করে দিয়েছেন।’’ [সূরা আশ-শামস, আয়াত: ৭-৮]

প্রত্যেক মানুষের মধ্যে পাপ ও পুণ্যের এই সংঘর্ষ আদম ‘আলাইহিস সালামের সময় হতে চলে আসছে। এবং কিয়ামত অবধি চালু থাকবে। এই সংঘর্ষে আধ্যাত্মিক শক্তি মানুষকে এমন কাজে উৎসাহিত করে যা পাপের উপর বিজয়ী হতে থাকে। আর এভাবে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভে ধন্য হয়। এটি একমাত্র তাযকিয়া তথা আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধির মাধ্যমেই সম্ভব।

এ তাযকিয়ার দিকে আহবান জানিয়ে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন- ﴿قَدۡ أَفۡلَحَ مَن زَكَّىٰهَا ٩ وَقَدۡ خَابَ مَن دَسَّىٰهَا ١٠ كَذَّبَتۡ ثَمُودُ بِطَغۡوَىٰهَآ ١١﴾ [الشمس: ٩، ١١] ‘‘নিশ্চয় যে সফলকাম হল যে আত্মার পরিশুদ্ধি অর্জন করল, আর যে ব্যর্থ হলো সে নিজেকে কলুষিত করল।’’ [সূরা আশ-শামস, আয়াত: ৯-১১]

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ছিল মানুষের আত্মার পরিশুদ্ধি করণ। তিনি স্বয়ং প্রশিক্ষণ দানের মাধ্যমে বিভিন্ন উপায় উপকরণ অবলম্বন পূর্বক তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেছিলেন। মূলতঃ এটা রিসালাতের অন্যতম গুরু দায়িত্ব। যুগে যুগে সকল নবী-রাসূলকে এ দায়িত্ব দিয়ে মহান আল্লাহ প্রেরণ করেছেন।

তিনি বলেছেন- ﴿كَمَآ أَرۡسَلۡنَا فِيكُمۡ رَسُولٗا مِّنكُمۡ يَتۡلُواْ عَلَيۡكُمۡ ءَايَٰتِنَا وَيُزَكِّيكُمۡ﴾ [البقرة: ١٥١] ‘‘যেমন আমরা তোমাদের থেকেই তোমাদের মাঝে একজন রাসূল পাঠিয়েছি। সে তোমাদের কে আমার আয়াত পড়ে শুনাবে, তোমাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ ও বিকশিত করে তুলবেন।’’ [সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৫১] অতএব, মানবিক জীবনে আধ্যাত্মিক দিকটি মৌলিক ও অন্যতম প্রধান দিক।

মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- «الا ان فى الجسد لمضفة اذا صلحت صلح الجسد كله واذافسد الجسد كله الا وهى القلب» ‘‘নিশ্চয় মানুষের শরীরে একটি টুকরা আছে, এটা যদি ভাল হয় তবে সারা শরীর ভালো। আর এটা যদি নষ্ট হয়ে যায়,তবে সারা শরীর নষ্ট হয়ে যায়। আর এটা হলো কালব বা হৃদয়।

ইমাম মাওলানা নুরুর রাহমান

  • ইসলাম বিভাগ প্রধান– শীর্ষবিন্দু নিউজ
  • ইমাম  খতিব– মসজিদুল উম্মাহ লুটন
  • সেক্রেটারি– শরীয়া কাউন্সিল ব্যাডফোর্ড  মিডল্যন্ড ইউকে
  • সত্যায়নকারী চেয়ারম্যান– নিকাহনামা সার্টিফিকেট ইউকে
  • প্রিন্সিপাল– আর রাহমান একাডেমি ইউকে
  • পরিচালক– আররাহমান এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026