শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ০৮:০২

সিলেটে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পানি, ঝুঁকির মুখে বিদ্যুৎ স্টেশন, সাড়ে ৪ লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন

সিলেটে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পানি, ঝুঁকির মুখে বিদ্যুৎ স্টেশন, সাড়ে ৪ লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন

আট উপজেলায় কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী

শীর্ষবিন্দু নিউজ, সিলেট / ১৫৫
প্রকাশ কাল: শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০২২

সিলেটের আট উপজেলায় কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনীর সাত ব্যাটেলিয়নের সদস্যরা। দুপুর থেকে তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, ছাতক, দিরাই, দোয়ারাবাজারে সেনা সদস্যরা পানিবন্দি লোকজনকে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকির মুখে রয়েছে সিলেট বিদ্যুৎ স্টেশন।

এর আগে দুপুরে সিলেটের ১৭ পদাতিক ডিভিশনের হেডকোয়ার্টারে এ নিয়ে ব্রিফিং করেন ডিভিশন প্রধান মেজর জেনারেল হামিদুল হক। তিনি জানান, সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রথমে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালাবে।

এরপর খাদ্য সহায়তা দেবে। প্রয়োজনে চিকিৎসা সেবাও প্রদান করা হবে। পাশাপাশি কুমারগাঁও বিদ্যুৎ স্টেশন, সুনামগঞ্জের খাদ্য গুদামগুলো কীভাবে বন্যা থেকে রক্ষা করা যায় সে ব্যাপারে মাঠে থাকা সেনা সদস্যরা কাজ করবেন।

এদিকে, সিলেটে হু হু করে পানি বাড়ছে। কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন এলাকার টিনের চালের উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছেন।

কোম্পানীগঞ্জ সড়কে কয়েক হাজার বন্যার্ত মানুষজন এসে রাত থেকে অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে সিলেট-তামাবিল সড়কেও এসে আশ্রয় নিয়েছেন মানুষ।

গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুরসহ কয়েকটি এলাকার আশ্রয় কেন্দ্রে লোকজনের ঠাঁই হচ্ছে না। মানুষ জীবন বাঁচাতে আশ্রয়ের সন্ধান খুঁজছেন। সিলেটের কুমারগাঁও বিদুৎ কেন্দ্র ঝুঁকির মুখে রয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন।

সিলেট নগরের উপশহরসহ কমপক্ষে ৫০টি এলাকার লাখো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। সিলেট শহরের নদী তীরবর্তী শতভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। নগরের ৩১টি আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই হচ্ছে না। সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, আশ্রয় কেন্দ্র আরো বাড়াতে বাসা কিংবা সরকারী স্থাপনা খোঁজা হচ্ছে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ চলছে।

ছাতক ও সুনামগঞ্জ গ্রিড উপকেন্দ্র পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। এই কারণে বন্যা কবলিত প্রায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ গ্রহাকের বিদ্যুৎ সরবরাহ এখন বন্ধ আছে।

এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সুনামগঞ্জে ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষ এখন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং টিম গঠন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অনাকাঙ্ক্ষিত এই অসুবিধার জন্য বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

আরইবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সুনামগঞ্জের। সেখানে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজারটি লাইন বন্ধ আছে।

এছাড়া সিলেট-১ এবং সিলেট-২ সমিতির অধীনেও প্রায় সব লাইন বন্ধ। সবমিলিয়ে এখন প্রায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ লাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সমিতিগুলো জানায়, পানি এখন জকিগঞ্জের দিকে যাচ্ছে। যদি তাই হয় এবং পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দুইদিনে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে তাহলে আরও এলাকায় নিরাপত্তার জন্য আমাদের লাইন বন্ধ রাখতেই হবে।

এদিকে পানি কমতে শুরু করার সময়টায় মারাত্মক। সেই সময় দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। আসলে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আরইবির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে ওইসব এলাকায়।

এদিকে সিলেটে বন্যায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, ছাতক ও সুনামগঞ্জ গ্রিড উপকেন্দ্র পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

সিলেটের কুমারগাঁও গ্রিড উপকেন্দ্রের সুইচইয়ার্ড প্লাবিত হওয়ায় সিলেট অঞ্চলও বিদ্যুৎ বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সিলেট অঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ামাত্র আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে। বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2022