সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৬:৫৭

ইএলএম সিনিয়র সিটিজেন্স ফোরামের ডে আউট: সারের ওয়াকিংয়ে ঐতিহাসিক মসজিদ ও বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখলেন সদস্যরা

ইএলএম সিনিয়র সিটিজেন্স ফোরামের ডে আউট: সারের ওয়াকিংয়ে ঐতিহাসিক মসজিদ ও বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখলেন সদস্যরা

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি / ২০৬
প্রকাশ কাল: মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০২২

গত ৩ অগাস্ট বুধবার ইস্ট লন্ডন মসজিদ (ইএলএম) সিনিয়র সিটিজেন্স ফোরাম এক আনন্দভ্রমনের আয়োজন করে। দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল লন্ডনের নিকটবর্তী সারে কাউন্টির ওয়াকিং এলাকায় ঐতিহাসিক শাহজাহান মসজিদ ও পার্শ্ববর্তী পিস্ গার্ডেন ঘুরে দেখা। আর সবশেষে শাহজাহান মসজিদ থেকে আট মাইল দূরে ১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সেই সময়ের পৃথিবীর বৃহত্তম কবরস্থান ব্রুকউড সিমিট্রিতে মুসলিম দুনিয়ার অনেক প্রথিতযশা মনীষীদের কবর জেয়ারত করা।

২০২০ সালের মার্চ মাসে কেমব্রিজের ইকো মসজিদ আর পশ্চিম লন্ডনের রিজেন্টস পার্ক মসজিদ ও পার্কে দিনব্যাপী আনন্দভ্রমণের পর সিনিয়র সিটিজেন্সদের এটাই ছিল বিগত আড়াই বছরের মধ্যে একটি মনোরম আনন্দঘন দিন। করোনা মহামারীতে অন্য সবার মতো ইস্ট লন্ডন মসজিদের মুসল্লিদের সামাজিক মেলামেশা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ক প্রকল্প ইএলএম সিনিয়র সিটিজেন্স প্রজেক্টের সদস্যরা আটকা পড়েন নিজেদের ঘরে। প্রাণঘাতী করোনার থাবায় মৃত্যুর মিছিলে শামিল হন ফোরামের সদাহাস্যোজ্জ্বল সদস্য প্রবীণ মুরব্বি ফারুক মিয়া।

উল্লেখ্য, ওয়াকিং-এর এই শাহজাহান মসজিদই ব্রিটেনে প্রার্থনার উদ্দেশ্যে নির্মিত মুসলমানদের সর্বপ্রথম মসজিদ (পারপাস বিল্ড মসজিদ)। ১৮৮৯ সালে ভূপালের রাণী বেগম শাহজাহানের অর্থায়নে হাঙ্গেরির বিশিষ্ট প্রাচ্যবিদ এবং ভাষাবিদ ডক্টর গটলিব লেইটনার এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। পার্শ্ববর্তী ওরিয়েন্টাল ইন্সটিটিউটে পড়তে আসা মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য এই মসজিদ নির্মিত হয়। সময়ের পরিক্রমায় এই এই ওরিয়েন্টাল ইনস্টিটিউট কালের সাক্ষী হয়ে আছে আজও। ভারত ভাগ হলে মুসলমানদের জন্য যে রাষ্ট্র হবে তার নাম যে ‘পাকিস্তান’ হবে তা এখানে বসেই ঠিক করা হয়েছিল।

মসজিদটি ১৯১৪ থেকে ১৯৬০ এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত লাহোর আহমদিয়া আন্দোলনের সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। ১৯৭০-এর দশকে এটি সুন্নিদের হাতে স্থানান্তরিত হয়।

ওয়াকিং শাহজাহান মসজিদ থেকেই দ্য ইসলামিক রিভিউ এবং ১৯১৭ সালে মাওলানা মোহাম্মদ আলীর কুরআনের তরজমা ও ইংরেজি অনুবাদ প্রচারিত হয়। এই মসজিদ পরিদর্শন করেছেন, নামাজ পড়েছেন, এর সাথে স্মৃতি জড়িয়ে আছে এরকম অতিথিদের মাঝে আছেন সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সল, পাকিস্তানের জাতির পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ইথিওপীয় সম্রাট হাইলে সেলাসি, মীর ইউসুফ আলী, তৃতীয় আগা খান, মালয়েশিয়ার প্রথম প্রধানমন্ত্রী টুঙ্ক আব্দুল রহমান, বিশ্বব্যাপী সমাদৃত কুরআনের ইংরেজি অনুবাদক ও গবেষক আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলী ।

কুরআন অনুবাদের ক্ষেত্রে মূল ব্রিটিশ স্রোতধারা থেকে মুসলিম হওয়া মুহাম্মদ মারমাডুক পিকথাল যার গ্লোরিয়াস কুরআন ব্যাপক প্রসিদ্ধিলাভ করে ইংরেজিভাষী দুনিয়ায়। সেই মারমাডুক পিকথাল এই শাহাজাহান মসজিদের মিম্বার থেকে জুম্মার খুৎবা দিয়েছেন অসংখ্য বার।

শাজাহান মসজিদ থেকে অল্প দূরেই ইসলামিক স্থাপত্য ও কারুকার্যের অনুকরণে অনিন্দ্য সুন্দর ভাবগাম্ভির্যে পরিপূর্ণ ব্রিটেনের প্রথম মুসলিম কবরস্থান–‘পিস্ গার্ডেন। প্রথম মহাযুদ্ধের ১৯ জন ভারতীয় মুসলমান সৈন্যেকে তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী এখানে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আরো ৮জন সৈনিককে সমাহিত করা হয় এই কবরস্থানে । ১৯১৫ সালে চালু হওয়া এই কবরস্থান ছিল ভারতীয় মুসলমান সৈন্যদের, তাদের ধর্মীয় মর্যাদায় কবর দেয়া হয় না, জার্মানদের এই প্রোপাগান্ডার জবাব গ্রেট ব্রিটেনের পক্ষ থেকে।

ইএলএম সিনিয়র সিটিজেন্স ফোরামের প্রতনিধিদল ব্যস্ত এই দিনের শেষ অংশ কাটান নান্দনিক এবং ইউরোপের বৃহত্তম কবরস্থান ব্রুকউড সিমিটি্রতে ঘুরে ঘুরে । তারা সেখানে যেসব ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও মুসলিম মনীষীর কবর জিয়ারত ও দোয়ায় অংশ নিয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নাম হলো-১৯০৬ সালে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আমির আলী (১৮৪৬-১৯২৮) , ইসলামী পন্ডিত ও কুরআন অনুবাদক মারমাদুক পিকথল (১৮৭৫-১৯৩৬), আবদুল্লাহ ইউসুফ আলী (১৮৭২-১৯৫৩), ইয়ামেনের শেষ রাজা মুহাম্মদ আলবদর (১৯২৬-১৯৯৬), ওমান-এর সুলতান বিন তাইমুর (১৯১০-১৯৭২) প্রমুখ।

দিনশেষে ব্রুকউড সিমিটি্রর মুসলিম সমাধীস্থলে যে নামটি সবার নজর কেড়েছে তিনি সিলেটের জগন্নাথপুর থানার কাঁঠালখাইর গ্রামের মরহুম জনাব আফতাব আলী (১৯০৭-১৯৭২) । বাঙালি রাজনীতিবিদ ও সমাজ সংস্কারক এবং সর্বভারতীয় সীমেন ফেডারেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা । জাহাজে চাকরির সুবাদে পরবর্তীতে ব্রিটেনে সিলেটি অভিবাসনের স্বপ্ন কারিগরদের অন্যতম একজন এই আফতাব আলী । পরবর্তীতে তিনি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য এবং প্রথম শ্রমমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

সিনিয়র সিটিজেন্স ফোরামের এই প্রতিনিধিদলকে সারাদিন গাইড ও পরামর্শ দিয়েছেন শাহজাহান মসজিদের জুনিয়র ইমাম খলিল, পাকিস্তানী বংশোদ্ভত ভলান্টিয়ার ব্রাদার হামিদ এবং পিস্ গার্ডেন-এর ট্রাস্টি এলিজাবেথ কাটল। ইস্ট লন্ডন মসজিদ থেকে মুসল্লিদের এই বিশেষ ট্যুর এবং ডে আউটের জন্য ঐতিহাসিক এই তিন স্থাপনা পরিভ্রমণের পেছনে আছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক যুগসূত্র। ইস্ট লন্ডন মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য তহবিল সংগ্রহের সাথে যুক্ত ছিলেন সৈয়দ আমীর আলী, যিনি তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লন্ডন মসজিদ ফান্ড এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ট্রাস্টি বোর্ডের আজীবন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জনাব আগা খান। কুরআনের বিখ্যাত অনুবাদক আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলী এবং মুহাম্মদ মারমাডুক পিকথাল দুজনেই ইস্ট লন্ডন মসজিদ তহবিলের ট্রাস্টি ছিলেন।

উল্লেখ্য, ইএলএম (ইস্ট লন্ডন মস্ক) সিনিয়র সিটিজেন্স প্রজেক্টের ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে 020 7650 3000 নাম্বারে যোগাযোগ করা যাবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮  
All rights reserved © shirshobindu.com 2022