শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:০৩

সূরা আল ইমরান (سُوْرةُ الَ عِمْرَان)

সূরা আল ইমরান (سُوْرةُ الَ عِمْرَان)

ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান / ১৬৯
প্রকাশ কাল: শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২

আজ শুক্রবার পবিত্র জুমাবার আজকের বিষয়সূরা আল ইমরান (سُوْرةُ الَ عِمْرَان) ’ শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেনইসলাম বিভাগ প্রধান ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান

কুরআনুল কারিমের তৃতীয় ফজিলতপূর্ণ সুরা। কুরআনুল কারিমের ধারাবাহিক অনুবাদ ও ফজিলত প্রকাশে সুরা ফাতেহা ও সুরা বাকারা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন সুরা আল-ইমরানের অনুবাদ ও আয়াত নাজিলের ঘটনার সংক্ষিপ্ত বর্ণনাসহ ফজিলত উপস্থাপনার পালা।

সুরা আল-ইমরানের অনুবাদ ও ঘটনার বর্ণনার শুরুতেই সুরার পরিচিতি ও ফজিলত সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো- সুরার তথ্যসুরা আল-ইমরান সর্বসম্মতভাবে মাদানি সুরা। সুরার আয়াত সংখ্যা ২০০। রুকু সংখ্যা ২০।

নামকরণ

ইমরান হলেন হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের নানা এবং হজরত মারইয়াম আলাইহিস সালামের পিতা। এ সুরার ৩৩ ও ৩৪নং আয়াতে তাঁর (ইমরানের) পরিবারের কথা ও বর্ণনা রয়েছে। একেই আলামত হিসেবে এ সুরার নাম আল-ইমরান হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এ সুরার আরেক নাম আজ-জাহ্রাহ্ বা আলোকচ্ছটা।’ (মুসলিম)

এছাড়াও এ সুরার অনেক সুরা তাইবাহ, আল-কানুয, আল-আমান, আল-মুজাদালাহ, আল-ইসতেগফার, আল-মানিয়াহ ইত্যাদি নাম দেয়া হয়েছে। এ সুরার অনেক নাম দেয়া হলেও সুরাটি ‘আল-ইমরান’ নামেই গ্রহণযোগ্য ও পরিচিত।নাযিলের সময়-কাল ও বিষয়বস্তুর অংশসমূহঃ

প্রথম ভাষণটি সূরার প্রথম থেকে শুরু হয়ে চতুর্থ রুকূ’র প্রথম দু’ আয়াত পর্যন্ত চলেছে এবং এটি সম্ভবত বদর যুদ্ধের নিকটবর্তী সময়ে নাযিল হয়।

দ্বিতীয় ভাষণটি: ( আল্লাহ আদম, নূহ, ইবরাহীমের বংশধর ও ইমরানের বংশধরদের সারা দুনিয়াবাসীর ওপর প্রধান্য দিয়ে নিজের রিসালাতের জন্য বাছাই করে নিয়েছেন ।) আয়াত থেকে শুরু হয়ে ষষ্ঠ রুকূ’র শেষে গিয়ে শেষ হয়েছে । ৯ হিজরীতে নাজরানের প্রতিনিধি দলের আগমনকালে এটি নাযিল হয়।

তৃতীয় ভাষণটি সপ্তম রুকূ’র শুরু থেকে নিয়ে দ্বাদশ রুকূ’র শেষ অব্দি চলেছে। প্রথম ভাষণের সাথে সাথেই এটি নাযিল হয়।

চতুর্থ ভাষণটি ত্রয়োদশ রুকূ’ থেকে শুরু করে সূরার শেষ পর্যন্ত চলেছে। ওহোদ যুদ্ধের পর এটি নাযিল হয়।

সম্বোধন ও আলোচ্য বিষয়াবলী: এই বিভিন্ন ভাষণকে এক সাথে মিলিয়ে যে জিনিসটি একে একটি সুগ্রথিত ধারাবাহিক প্রবন্ধে পরিণত করেছে সেটি হচ্ছে এর উদ্দেশ্য, মূল বক্তব্য ও কেন্দীয় বিষয়বস্তুর সামঞ্জস্য ও একমুখীনতা । সূরায় বিশেষ করে দু’টি দলকে সম্বোধন করা হয়েছে। একটি দল হচ্ছে, আহলী কিতাব (ইহুদী ও খৃস্টান) এবং দ্বিতীয় দলটিতে রয়েছে এমন সব লোক যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান এনেছিল।

সূরা বাকারায় ইসলামের বাণী প্রচারের যে ধারা শুরু করা হয়েছিল প্রথম দলটির কাছে সেই একই ধারায় প্রচার আরো জোরালো করা হয়েছে। তাদের আকীদাগত ভ্রষ্টতা ও চারিত্রিক দুষ্কৃতি সম্পর্কে সর্তক করে দিয়ে তাদেরকে জানানো হয়েছে যে, এই রসূল এবং এই কুরআন এমন এক দীনের দিকে নিয়ে আসছে প্রথম থেকে সকল নবীই যার দাওয়াত নিয়ে আসছেন এবং আল্লাহর প্রকৃতি অনুযায়ী যা একমাত্র সত্য দীন। এই দীনের সোজা পথ ছেড়ে তোমরা যে পথ ধরেছো তা যেসব কিতাবকে তোমরা আসমানী কিতাব বলে স্বীকার করো তাদের দৃষ্টিতেও সঠিক নয়। কাজেই যার সত্যতা তোমরা নিজেরাও অস্বীকার করতে পারো না তার সত্যতা স্বীকার করে নাও।

দ্বিতীয় দলটি এখন শ্রেষ্ঠতম দলের মর্যাদা লাভ করার কারণে তাকে সত্যের পতাকাবাহী ও বিশ্বমানবতার সংস্কার ও সংশোধনের দায়িত্ব দান করা হয়েছে। এই প্রসংগে সূরা বাকারায় যে নির্দেশ শুরু হয়েছিল এখানে আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে। পূর্ববর্তী উম্মতদের ধর্মীয় ও চারিত্রিক অধপতনের ভয়াবহ চিত্র দেখিয়ে তাকে তাদের পদাংক অনুসরণ করা থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল। একটি সংস্কারবাদী দল হিসেবে সে কিতাবে কাজ করবে এবং যেসব আহ্‌লি কিতাব ও মুনাফিক মুসলমান আল্লাহর পথে নানা প্রকার বাধা বিপত্তি সৃষ্টি করছে তাদের সাথে কি আচরণ করবে, তাও তাকে জানানো হয়েছে। ওহোদ যুদ্ধে তার মধ্যে যে দুর্বলতা দেখা দিয়েছিল তা দূর করার জন্যও তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

এভাবে এ সূরাটি শুধুমাত্র নিজের অংশগুলোর মধ্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করেনি এবং নিজের অংশগুলোকে একসূত্রে গ্রথিত করেনি বরং সূরা বাকারার সাথেও এর নিকট সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে। এটি একেবারেই তার পরিশিষ্ট মনে হচ্ছে। সূরা বাকারার লাগোয়া আসনই তার স্বাভাবিক আসন বলে অনুভূত হচ্ছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © shirshobindu.com 2022