শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:১০

ইস্ট লন্ডন মসজিদ ম্যানেজমেন্টের সাথে বিবিসিসিআই নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

ইস্ট লন্ডন মসজিদ ম্যানেজমেন্টের সাথে বিবিসিসিআই নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

নিউজ ডেস্ক, লন্ডন / ৪১
প্রকাশ কাল: বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

ইস্ট লন্ডন মসজিদ ম্যানেজমেন্ট কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির (বিবিসিসিআই) শীর্ষ নেতৃবৃন্দের এক যৌথ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লন্ডন মুসলিম সেন্টারের বোর্ড রুমে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটেনের বাংলাদেশী কমিউনিটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে ‘মিট এণ্ড গ্রিটস’ ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মসজিদের পক্ষ থেকে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

মতবিনিময়কালে ইস্ট লন্ডন মসজিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মসজিদের ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আইয়ুব খান, ট্রেজারার সৈয়দ তুহেল আহমদ ও ফাইন্যান্স এন্ড এনগেইজমেন্ট ডাইরেক্টর দেলওয়ার খান।

বিবিসিসিআই নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান রেনু, ডাইরেক্টর জেনারেল একাউন্টেন্ট আবুল হায়াত নুরুজ্জামান, ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর আতাউর রহমান কুটি, ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গীর হক, এডভাইজার মোঃ শফিকুল ইসলাম, মেম্বারশীপ ডাইরেক্টর মোঃ আব্দুল মোমিন ও ডাইরেক্টর মোসলেহ আহমদ।

মতবিনিময়কালে দেলওয়ার খান ইস্ট লন্ডন মসজিদের ইতিহাস ও বহুমুখী কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রজেক্টারের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ইস্ট লন্ডন মসজিদের কার্যক্রম শুধু নামাজ পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নামাজের পাশাপাশি বহুমূখী সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, একজন মানুষের জীবনে যে ধর্মীয় সেবাগুলো প্রয়োজন তার অধিকাংশই ইস্ট লন্ডন মসজিদ প্রদান করে থাকে। আমরা মসজিদকে কমিউনিটির মানুষের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

ইস্ট লন্ডন মসজিদের চেয়ারম্যান আইয়ুব খান বলেন, এই মসজিদ আজ ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ মসজিদ হিসেবে পরিচিতি লাভের পেছনে কমিউনিটির মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। কমিউনিটির মানুষের দানেই আজ আমরা একটি গর্বিত প্রতিষ্ঠান পেয়েছি।

তিনি বলেন, এই ধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজনের মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে, মসজিদ সম্পর্কে কমিউনিটির মানুষকে আরো বেশি করে অবহিত করা। বিশেষ করে কমিউনিটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ যারা বিভিন্ন সংগঠন ও প্রজেক্টের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদেরকে। তারা হয়তো নামাজে আসেন, নামাজ পড়েই আবার চলে যান। এই বিরাট প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে পরিচালিত হয়, এখানে কী কী সেবা প্রদান করা হয় সে সম্পর্কে অবহিত নয়। আমরা চাই, মানুষ মসজিদের ইতিহাস ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরো বেশি জানবে। এ ধরনের মতবিনিময় থেকে মসজিদ উপকৃত হচ্ছে। অনেকে অর্থ দিয়ে, কেউ পরামর্শ দিয়ে মসজিদকে সহযোগিতা করছেন। আমরা ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দকে মসজিদে আসার জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। আশাকরি, আমাদের এই সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।

বিবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান রেনু তাঁর বক্তব্যে তাঁদেরকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য মসজিদের ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আজকের মতবিনিময় সভায় মসজিদের ইতিহাস নিয়ে যে প্রেজেন্টেশন দেখলাম- ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠাকালিন সময়ে এই মসজিদ কেমন ছিলো এবং এখন কোন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে তা দেখে আমার মনের মধ্যে এক ভিন্ন অনুভুতির সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদের বিশাল কার্যক্রম দেখে আমরা সত্যিকার অর্থে অভিভুত। আমরা জানি এটি একটি নামাজের জায়গা, কিন্তু আসলে শুধু নামাজের জায়গার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই মসজিদ শুধু বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য, বাংলাদেশীদের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি মসজিদে আন্তর্জাতিক কমিউনিটি সম্পৃক্ত। এখানে আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য নানা সুযোগ সুবিধা আছে। বয়স্ক মানুষদের জন্য রয়েছে। নারীদের জন্য রয়েছে। অমুসলিমদের জন্য রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এটি মসজিদের চেয়ে অনেক বড়। আমরা বিবিসিসিআই ডাইরেক্টরদের সঙ্গে নিয়ে আজকের মতবিনিময় সভায় আসতে পেরে গর্বিত। আমি আশা করি এই সস্পর্ক অব্যাহত থাকবে।

ডিজি আবুল হায়াত নুরুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে মসজিদের বহুমুখী কর্মকাণ্ডের ভুয়শী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মসজিদ যে শান্তির জায়গা এটি ইস্ট লন্ডন মসজিদে নামাজ পড়তে এলে অনুধাবন করা যায়। এই মসজিদ আমাদের প্রাণ। আমি মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি। বিশেষত: শুক্রবারে জুমার নামাজে আসি। আমরা আজকে এসে যা জানলাম তা খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা যারা আসছি তারা আরো অনেক মানুষকে মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত করতে পারবো, ব্যবসায়ীদেরকে সম্পৃক্ত করতে পারবো। আমাদের সন্তানদের সম্পৃক্ত করতে পারবো। শুধু তাই নয়, আমরা মসজিদের বিভিন্ন প্রজেক্টে আর্থিকভাবে সাহায্যও করতে পারবো। আমি নিজে ইস্ট লন্ডন মসজিদের একটি বিশেষ প্রজেক্ট ‘মাই ইএলএম’-এর সাথে সম্পৃক্ত আছি দীর্ঘদিন যাবত। এটা আমার জন্য গর্ব ও প্রশান্তির বিষয়। মসজিদের অগ্রগতিতে বিবিসিসিআইর সহযোগিতা সব সময় অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরে নৈশভোজের মাধ্যমে মতবিনিময় সভার সমাপ্তি ঘটে।




Leave a Reply

Your email address will not be published.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © shirshobindu.com 2022