শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৩৯

রানীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় জন্য লন্ডন পৌঁছেছেন বিশ্বনেতারা

রানীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় জন্য লন্ডন পৌঁছেছেন বিশ্বনেতারা

জায়ান্ট স্ক্রিনে সরাসরি সম্প্রচার দেখানো হবে

শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন / ৬৫
প্রকাশ কাল: রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কফিন ওয়েস্টমিনস্টার হলে শায়িত। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এখনও অপেক্ষায় হাজারো মানুষ। আগামীকাল সোমবার তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। এদিন ভোর সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত তার কফিন দেখা ও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবে সাধারণ জনতা।

এদিন ঐতিহাসিক ও বেদনাবিধূর অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে চিরবিদায় জানানো হবে রানীকে। রানীর প্রতি সম্মান জানাতে আজ রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হবে পুরো ব্রিটেনে।

রাজপরিবার এবং ব্রিটিশ সরকার এখন ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে সোমবারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অপেক্ষায়। এটি হলো রাজ অভিষেকের স্থান।

ইংলিশদের বিয়ে এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার স্থান, তারপর ব্রিটিশদের। ১০৬৬ সালে প্রথম উইলিয়ামের সময় থেকে এটা বৃটিশ রাজা ও রানীদের বিবাহ ও সমাধির স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সোমবারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিচ্ছে লন্ডন পুলিশ। এ যাবত তারা যত নিরাপত্তা আয়োজন করেছে, তার মধ্যে এটা হবে সর্বোচ্চ।

প্রায় ২০০ দেশের এবং টেরিটোরির প্রায় ৫০০ অতিথি এই অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। এর মধ্যে আছেন প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, রাজা, রানী, সুলতান।

এ ছাড়া বৃটেনের রাস্তায় মানুষের ঢল নামতে পারে। রানীর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপলক্ষে যে বড় আয়োজন করেছে বৃটেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নেতা উইনস্টন চার্চিলের পর এতবড় আয়োজন আর কখনো হয়নি।

সরকার বলেছে, লন্ডনের হাইড পার্কে এবং দেশজুড়ে বড় বড় শহরে জায়ান্ট স্ক্রিনে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারবে জনগণ। তিনটি ব্রডকাস্টার সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।

রানীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে এরই মধ্যে লন্ডন পৌঁছেছেন বিশ্বনেতারা। তার মধ্যে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

রোববারই রানীর কফিনে তার শ্রদ্ধা নিবেদন করার কথা। পরে রাজা তৃতীয় চার্লস ও বিশ্ব থেকে লন্ডনে জড়ো হওয়া কয়েক ডজন নেতার রিসেপশন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা তার। সোমবার ব্যাপক আকারে রাষ্ট্রীয়ভাবে হবে রানীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।

রানীর মৃত্যুর খবরে ৮ই সেপেম্বর জো বাইডেন শোকবার্তায় লিখেছেন, তার লিগ্যাসি ব্রিটিশ ইতিহাসে এবং আমাদের এই বিশ্বের কাহিনীতে পাতায় পাতায় ছড়িয়ে থাকবে।

যেসব বিশ্বনেতাকে এরই মধ্যে রানীর কফিনের সামনে বেদনায় কুঁকড়ে যেতে দেখা গেছে তার মধ্যে আছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানেজ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডেন।

রানীর মৃত্যুতে সতর্কতার সঙ্গে ১০ দিনের মর্মভেদী ধারাবাহিকতা আয়োজন করেছে ব্রিটেন। এর মধ্যে আছে রানীর মৃত্যুকে অনুসরণ করা। এটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের ঐতিহ্য ও রীতি।

এই রীতি প্রায় এক হাজার বছরের। শনিবার সন্ধ্যায় রানীর নাতি ও রাজা তৃতীয় চার্লসের ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম, প্রিন্স হ্যারি সহ রানীর আট নাতিপুতি তার কফিনের পাশে উপস্থিত হন। তারা তার প্রতি কফিনের শ্রদ্ধা ও প্রার্থনা জানান। একই কাজ এর একদিন আগে করেন রানীর ছেলেমেয়েরা।

রানীর প্রতি সর্বশেষ রাজপরিবার থেকে শ্রদ্ধা জানানোর কথা কুইন কনসোর্ট ক্যামিলার। তিনি তার শাশুড়ির (রানী) হাসি আর তার চমৎকার নীল চোখকে স্মরণ করেন।

টেলিভিশনে প্রচারিত এক মন্তব্যে ক্যামিলা বলেছেন, চিরদিন আমাদের জীবনের অংশ হয়ে থাকবেন তিনি। এখন আমার বয়স ৭৫ বছর। আমি রানীকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে স্মরণ করতে পারি না।

ক্যামিলা আরও বলেন, পুরুষের আধিপত্যময় পৃথিবীতে তার একজন নির্জন নারী হয়ে থাকা খুব কঠিন ছিল। তখন কোনো নারী প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট ছিলেন না।

এমন সময়ে তিনি একাই ছিলেন। তাই আমি মনে করি তিনি নিজের ভূমিকাকে খোদাই করে গেছেন।

গত বুধবার থেকে ওয়েস্টমিনস্টার হলে ঐতিহাসিকভাবে শায়িত অবস্থায় রাখা হয়েছে রানীর মৃতদেহ। সেখানে কফিনে রাখা রানীর পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে সব শ্রেণির মানুষ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ শ্রদ্ধায় স্থির হয়ে যাচ্ছেন।

আবেগে কেঁদে ফেলছেন অনেকে। বহু মানুষ সারারাত অপেক্ষা করেছেন এবং করছেন রানীর কফিনটা একনজর দেখার আশায়। কেউ কেউ ঠাঁয় লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন ২৪ ঘন্টা ধরে। এসব লাইনে যোগ দিয়েছেন সেলিব্রেটিরাও।




Leave a Reply

Your email address will not be published.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © shirshobindu.com 2022