শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৪৬

ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অন্ধ ব্যারিস্টার ২৩ বছরের জেসিকা

ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অন্ধ ব্যারিস্টার ২৩ বছরের জেসিকা

শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন / ১৩৬
প্রকাশ কাল: মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২

ব্রিটেনের ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ এবং অন্ধ হিসেবে ব্যারিস্টার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন ২৩ বছরের জেসিকা ইনাবা।

তিনি পাঁচ বছর ধরে লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। তিনি তার পুরো কোর্স শেষ করেছেন ব্রেইল পদ্ধতিতে। এটি কাগজের ওপর ছয়টি বিন্দুকে ফুটিয়ে তুলে এমন একটি লেখার পদ্ধতি যা দৃষ্টিহীন ব্যক্তিরা কোনো কিছু পড়তে ব্যবহার করেন।

ডেইলি মেইল জানিয়েছে, উত্তর লন্ডনের ক্যামডেনের বাসিন্দা জেসিকার সংক্ষিপ্ত নাম জেস। তিনি এখন বারে যোগ দিয়েছেন। এরমধ্য দিয়ে তিনি হচ্ছে ব্রিটেনের প্রথম অন্ধ এবং কৃষ্ণাঙ্গ ব্যারিস্টার। জেসিকে বলেন, এটা একটা অসাধারণ বিষয়, আমি এখনও সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমি এটা করতে পেরেছি।

এটা কতটা দারুণ তা বুঝতে আমার আরও সময় লাগবে। তিনি জানান, তার এই যাত্রা অনেক কঠিন ছিল এবং তিনি প্রায়ই হাল ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবতেন। কিন্তু তার পরিবার তাকে সাহস ও শক্তি দিয়েছিল।

তিনি বলেন, আমি প্রথম থেকেই নিজেকে বিশ্বাস করতাম। এমন কিছু নেই যা আমাকে দিয়ে সম্ভব নয়। আমি জানি আমি এই আইনি পেশায় সত্যিই ভালো করতে পারবো। এটি সত্যিই একটি ভালো অনুভূতি।

আমার মতো যারা অন্ধ আছেন আমি তাদেরকে আশা দিতে চাই। আমাদের সামনে গ্লাসের তৈরি তিনটি বাধা আছে। আমার লিঙ্গ ও বর্ণ এর দুটি। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমার অক্ষমতা। তবে আমি এখন আমার পরবর্তী ব্যক্তির জন্য পথ সুগম করছি।

জেসিকা সম্পূর্ণভাবে অন্ধ এবং লন্ডনে আইন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাকে ব্রেইল ব্যবহার করতে হয়েছিল। ২০১৭ সালে তিনি আইন নিয়ে পড়তে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা শুরু করেন। জেসিকা দাবি করেছেন, তার বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বইগুলো পেতে তার সাত মাস সময় লেগেছে।

এর ফলে তিনি কম্পিউটারেই তার বইগুলো পড়তে পেরেছেন। তবে ওই বইতে ছবি এবং নানা টেবিল থাকার কারণে অনেক কিছুই পড়া থেকে বাদ গেছে জেসিকার।

তিনি জানান, তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে বিশেষ টিউশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জেস বলেন, আমি পড়াশুনার  চেয়ে নিজের শেখার উপকরণ তৈরিতে বেশি সময় ব্যয় করছিলাম। ২০১৯ সালে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।

কারণ আমি দুই বছর ধরে রাতে মাত্র তিন ঘন্টা করে ঘুমাতাম। এতে অসুস্থ হয়ে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। আমি দিনে ৪৫ মিনিট খাওয়ার পেছনে ব্যয় করি। তবে বেশিরভাগ সময় খাওয়ার সময়টাও আমি কম্পিউটারে পড়াশুনা করতে থাকতাম। তার এই অর্জনের পেছনে বন্ধু ও শিক্ষকদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন জেসিকা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2024