শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:২৮

ব্রিটেনের অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে দোষারোপের খেলা

ব্রিটেনের অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে দোষারোপের খেলা

শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন / ১৬৮
প্রকাশ কাল: শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২২

ব্রিটেনের অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের ধর্মঘট রূপ নিয়েছে দোষারোপের খেলায়। একে অপরকে কাদা-ছোড়াছুড়িতে মেতে ওঠেন ইউনিয়নের নেতারা ও সাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্কাই নিউজ, এপি, ডেইলি মেইল।

পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের পক্ষ থেকে দেশটির নাগরিকদের মদ খেতে পর্যন্ত নিষেধ করা হয়েছে। কারণ রোগীদের হাসপাতালে আনার পর নার্সদের ধর্মঘটে সেবা করার মত অবস্থা নেই।

শনিবার থেকে এ্যাম্বুলেন্স চালকরা ধর্মঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।  কে নিবে রোগী মৃত্যুর দায়-এই নিয়েই জমে ওঠে দ্বন্দ্ব। স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টিভ বার্কলে তিনটি ইউনিয়নের হাজার হাজার অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের দিকে আঙুল তুলেছেন।

ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টিভ বার্কলে ক্রিসমাসের আগে নার্সদের কাজে যোগদানের আহবান জানিয়েছেন। বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে তাদের এ ধর্মঘট। ব্রিটেনের নার্সদের সংগঠন ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস-এনএইচএস এর ইতিহাসে এ ধরনের এত বড় ধর্মঘট আর কখনো দেখা যায়নি। ইংল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে এই ধর্মঘট চলছে।

ধর্মঘট চললেও জীবন-রক্ষাকারী সেবা দেওয়াও অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না। রুটিন সার্জারি এবং অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। রয়্যাল কলেজ অব নার্সিং বলেছে, তাদের ধর্মঘটের পথ বেছে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। কারণ, মন্ত্রীরা তাদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে চাননি। ব্রিটিশ সরকার জানিয়ে দিয়েছে, ১৯ শতাংশ বেতন বাড়ানোর দাবি পূরণ করা সম্ভব নয়।

ট্রেড ইউনিয়ন আইন অনুযায়ী, নার্সরা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সেবা দিয়ে যাবে। কেমোথেরাপি এবং কিডনি ডায়ালাইসিস অব্যাহত থাকবে। এছাড়া যেসব রোগী ইন্টেন্সিভ কেয়ারে আছেন তাদেরও সেবা দেওয়া হবে। নার্সরা বলছেন, তারা যথেষ্ট দেখেছেন। কিন্তু তাদের যথেষ্ট বেতন এবং মূল্য দেওয়া হচ্ছে না। সরকার তাদের কথা শুনছে না, ফলে তাদের সামনে ধর্মঘটের বিকল্প ছিল না।

বার্কলে টেলিগ্রাফে মন্তব্য করেন, যিনি আজকের ধর্মঘট রোধ করার জন্য গত রাতে ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে রোগীদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। কিন্তু ইউনিসন জেনারেল সেক্রেটারি ক্রিস্টিনা ম্যাকানিয়া পালটা আঘাত করে বলেছে যে, ধর্মঘট চলাকালীন মানুষ মারা গেলে সরকারের দোষ হবে।

বিশ্বব্যাপী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কবলে অস্থিরতা শুরু হয়েছে প্রায় সব দেশেই। সামান্য আয়ে চলছে না কোনোভাবেই। কিছুদিন আগেই রাস্তায় ওয়াক আউটে নেমেছিলেন বিশ্ববিখ্যাত পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমসের সংবাদকর্মীরা। সোমবার দ্বিতীয় দফায় লন্ডনের নার্সরা ন্যায্য মজুরির দাবিতে ধর্মঘটে নামেন। দুদিন যেতে না যেতেই এবার রাস্তায় অ্যাম্বুরেন্স কর্মীরাও। ২৬ হাজার ৬০০ কর্মীর এই ধর্মঘট চলে বুধবার ২৪ ঘণ্টা শেষ হয় আজ স্থানীয় সময় ভোর ৬টায়।

ধর্মঘট সত্ত্বেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইউনিয়নগুলো কর্মীদের সেবা প্রদানে অনুমতি দেয়। এই সেবা শুধু মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের জন্যই ছিল। চারটি ক্যাটাগরিতে সেবা দেওয়া হয়। প্রথমত, ‘ওয়ান কল’ সেবা বা ৭ মিনিটের মধ্যে সাড়া দিতে হবে। হার্ট অট্যাক বা খুব জরুরি অবস্থায় এই ক্যাটাগরি কাজ করবে। সম্ভাব্য স্ট্রোকে দ্বিতীয় ক্যাটাগরীতে সেবা দেওয়া হবে।

এক্ষেত্রে ১৮ মিনিটের মাথায় সাড়া দেওয়ার নিয়ম করা হয়। তৃতীয় ক্যাটাগরীতে ছিল পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। ডায়েরিয়া বা বমির রোগীরা ক্যাটাগরি-৪ এর আওতায় সেবা দেওয়া হয়। চতুর্থত, সবচেয়ে গুরুতর জরুরি কলের জন্য সামরিক অ্যাম্বুলেন্স নীল আলোয় চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়। জরুরি অবস্থায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার অনুমতি ছিল।

তবে ৯৯৯ নম্বরে ডায়াল করা ব্যক্তিরা ফোন কন্ট্রোলরুমে পৌঁছানোর জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিলম্ব সীমিত করার জন্য প্রয়োজনে কলগুলো অন্য অঞ্চলে ডাইভার্ট করা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের তিনটি পৃথক ইউনিয়ন-জিএমবি, ইউনাইট ও ইউনিসন’র সদস্যরা এদিন ওয়াক আউট করেন।

ধারণা করা হচ্ছে, ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের নয়টি জাতীয় স্বস্থ্যসেবা সংস্থার ২৬,৬০০ অ্যাম্বুলেন্স কর্মী অংশ নেন এই ধর্মঘটে। জরুরি সেবাদানকারী প্যারামেডিকস, জরুরি সেবাদানকারী সহকারী এবং যারা ফোনকলের উত্তর দেন অর্থাৎ কল হ্যান্ডেলাররাও। দ্বিতীয় দিনের ২৮ ডিসেম্বরের ধর্মঘটের শুধু জিএমবি সদস্যরা থাকবেন।

জিএমবি জানিয়েছে যে, তার ১০,০০০ প্যারামেডিকস, জরুরি সেবা সহকারী এবং কল হ্যান্ডলাররা নয়টি অ্যাম্বুলেন্স ট্রাস্টে ধর্মঘট করবে। এর মধ্যে আছে-সাউথ ওয়েস্ট অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, সাউথ ইস্ট কোস্ট অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, নর্থ-ওয়েস্ট অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, সাউথ সেন্ট্রাল অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, নর্থ ইস্ট অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, ইস্ট মিডল্যান্ডস অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, ওয়েলশ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এবং ইয়র্কশায়ার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস।

দ্বিতীয় মেয়াদে আবার ২৮ ডিসেম্বর পুনরায় আন্দোলনে নামবেন ব্রিটেনের এই স্বাস্থ্য পরিষেবা কর্মীরা। তবে খুব বেশি ইমার্জেন্সিতে সেবা প্রদান করা হবে বলেও জানান তারা। খোলা ছিল ইমার্জেন্সি ৯৯৯ নাম্বার, তবে কর্মী না থাকায় সংযুক্ত হতে খানিকটা ব্যাগ পেতে হয়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2024