বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:২৯

সিলেটে বিএনপি’র তারুণ্য সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু

সিলেটে বিএনপি’র তারুণ্য সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু

শীর্ষবিন্দু নিউজ, সিলেট / ১৯৮
প্রকাশ কাল: মঙ্গলবার, ৪ জুলাই, ২০২৩

সিলেটে তারুণ্যর সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিএনপি’র সহযোগী তিন সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের আয়োজনে এই সমাবেশের আয়োজন।

সিলেটে বিএনপি’র সহযোগী তিন সংগঠনের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা। তদারকি করছেন বিএনপি’র নেতারা। যার যার বলয় নিয়ে সমাবেশ সফল করতে মাঠে নেমেছেন।

কিন্তু সিলেট বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এই সমাবেশকে ঘিরে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। যার প্রতিফলন ঘটেছে তিন সংগঠনের সভাপতির সঙ্গে সিলেট বিভাগ বিএনপি’র নেতাদের বৈঠকে।

এ নিয়ে বিএনপি’র অভ্যন্তরে তুমুল আলোচনা। হচ্ছে তোলপাড়ও। তবে এ প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলছেন না সিলেট বিএনপি’র নেতারা।

সিলেট বিভাগীয় তারুণ্যের সমাবেশকে কেন্দ্র করে তিনি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। শক্ত অবস্থান জানান দিতে নিচ্ছেন প্রস্তুতি। সিলেটে আগামী ৯ই জুলাই তারুণ্যের সমাবেশ। ঈদের আগে থেকেই চলছে প্রস্তুতি। সমাবেশ সফল করতে রোববার সমন্বয়ক যুবদল সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি এসএম জিলানী ও ছাত্রদল সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে নিয়ে সিলেটে আসেন।

নগরের কুমারপাড়াস্থ একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে বৈঠক আহ্বান করেন। সেখানে বিএনপি’র সিলেট বিভাগীয় নেতারা ছাড়াও চেয়ারপারসনের কয়েকজন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।

এ সমাবেশে অংশ নিতে লন্ডন থেকে দেশে এসেছেন বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম। বৈঠকে উপস্থিত থাকা বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা একে একে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেলেও ব্যারিস্টার সালাম বক্তব্য দিতে পারেননি।

বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মতে; সভার সভাপতিত্ব করছিলেন যুবদল সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। আর পরিচালনা করছিলেন স্বেচ্ছাসেবকদল সভাপতি এসএম জিলানী।

সভা পরিচালনার সময় জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী বার বার গিয়ে এসএম জিলানীর সঙ্গে কানাকানি করছিলেন। তিনি বক্তব্যের সিরিয়ালও বলে দিচ্ছিলেন। ফলে যখন সভায় ব্যারিস্টার সালামকে বক্তব্য’র সুযোগ দেয়া হয়নি তখন উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার কারণে বক্তব্য না দেওয়ায় তিনি জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীর উপর ক্ষোভ ঝাড়েন। এ সময় অবশ্য উপস্থিত থাকা অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় শান্ত হন ব্যারিস্টার সালাম।

এদিক বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থল পরিদর্শন করতে যান। এর মধ্যে আরিফুল হক চৌধুরী সহ কয়েকজন নেতা আলীয়া মাদ্রাসার মাঠকে সমাবেশস্থল করার পরামর্শ দেন।

কিন্তু মুক্তাদির বলয়ের নেতারা রিকাবীবাজার পয়েন্টে সমাবেশ করার পরামর্শ দেন। দু’টি স্থানই পরিদর্শন করে যুবদল সভাপতি সহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

তবে পরামর্শ ডিঙিয়ে রিকাবীবাজার পয়েন্ট এলাকা পরিদর্শনে আসায় ক্ষোভ জানান সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ওই পয়েন্টেই তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের সামনে বিরক্তি প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন- ‘৪০ বছর ধরে রাজনীতি করছি। জানি কোথায় করলে ভালো হয়, আর কোথায় করলে ভালো হবে না।’

তবে কেন্দ্রীয় নেতারা কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে সিলেট বিএনপি’র নেতাদের নিয়ে দরগাহ্‌ গেইটের একটি হোটেলে চলে আসেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত আকারে মতবিনিময়কালে জেলা বিএনপি’র সভাপতি উপস্থিত সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন।

এ সময় পাশে বসা ব্যারিস্টার সালামকে এড়িয়ে যাওয়ার মূহূর্তে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা তার নাম উচ্চারণ করেন। এক পর্যায়ে কাইয়ূম চৌধুরীর এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন ব্যারিস্টার সালাম।

তিনি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

এক পর্যায়ে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী কথা ধরলে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী তাকে ধমকান। এদিকে বিএনপি’র ভেতরকার এসব ঘটনায় তোলপাড় চলছে সিলেটে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কেউ কেউ আকার-ইঙ্গিতে ট্রলও করছে। পাল্টা ট্রলও চলছে। এসব ঘটনার খবর বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারাও জেনেছেন।

বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন গণমাধ্যমকে জানান- ‘ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি হয়েছে। এ রকম হয়েই থাকে। এ সব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। পরে অবশ্য শেষ হয়েছে। আমাদের মুল ফোকাস তারুণ্যের সমাবেশ।

তিনি বলেন, আশার কথা হলো; এবারের তারুণ্যের সমাবেশ সফল করতে সিলেট বিএনপি’র সব নেতা সক্রিয় হয়েছেন। সবাই এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। সিলেটের এই সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তারুণ্যর সমাবেশ নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। কে কার চেয়ে বেশি লোক সমাগম ঘটাতে পারেন সেই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত তারা।

সিলেট বিএনপি বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত। এক অংশের নেতৃত্বে দিচ্ছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও অপর অংশের নিয়ন্ত্রক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

মূলত: খন্দকার মুক্তাদিরের বলয় থেকে বঞ্চিত নেতারা প্রথমে ছিলেন প্রয়াত নেতা এমএ হকের আশ্রয়ে। তার মৃত্যুর পর তারা এসে অবস্থান নিয়েছেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর ছায়াতলে।

এবার আর সিটি নির্বাচনে অংশ নেননি আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি এখন দলীয় কর্মকাণ্ডে পুরোপুরি এক্টিভ। ঘষামাজা করছেন নিজের বলয়কে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯  
All rights reserved © shirshobindu.com 2024