আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘সূরা যিল্যাল’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।
সূরা যিল্যাল আরাবী: سورة الزلزلة মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ আল কোরানের ৯৯ তম সুরা, এর আয়াত সংখ্যা ৮ টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ১।
যিলযাল সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। সূরাটির শেষে দুটি আয়াত নাযিল হয়।
পবিত্র কোরআনের ৯৯ নম্বর সুরা যিলযাল। মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে, আয়াত সংখ্যা ৮টি। সুরার প্রথম শব্দ যিলযাল থেকেই সুরার নামকরণ। এই সুরায় কেয়ামতের ভয়াবহতা উল্লেখপূর্বক মানুষকে সচেতন করা হয়েছে।
সূরা যিলযাল এর শানে নুযুল
হযরত সাঈদ বিন জুবায়ের রহ. থেকে বর্ণিত যে, একদল মুসলমানের ধারণা ছিল যে সামান্য গুনাহ করার যেমন কোনো ক্ষতি নেই, তেমনি সামান্য সাওয়াবের দ্বারাও কোনো উপকার হবে না। যথা-মিথ্যা বলা, চোগলখুরি করা ইত্যাদির দ্বারা কোনো গুনাহ হয় না। তারা মনে করত, কেবল কবীরা গুনাহের দ্বারাই আল্লাহ তা’আলা রাগান্বিত হন এবং শাস্তি দিয়ে থাকেন। তাদের এই ধারণাকে খণ্ডন করার জন্যই
মূল বিষয়বস্তু
সুরা যিলযালের মূল বিষয়বস্তু কেয়ামত ও তার পরবর্তী অবস্থা। নির্ধারিত সময়ে প্রবল ভূমিকম্পে কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার সূচনা হবে। তখন জমিন তার ভূগর্ভস্থিত সবকিছু উগলে দেবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ভূমি তার বক্ষস্থিত বস্তুসমূহ সোনা স্তম্ভের মতো বের করে দেবে। তখন হত্যাকারী ব্যক্তি এসে বলবে, আমি এর জন্য হত্যা করেছি। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী ব্যক্তি এসে বলবে, আমি এর জন্য আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করেছি। চোর এসে বলবে, এরই কারণে আমার হাত কাটা হয়েছে।
অতঃপর সবাই তা ছেড়ে দেবে। এর থেকে তারা কেউ কিছু গ্রহণ করবে না। – সহিহ মুসলিম: ২২১৩ কেয়ামতের ময়দানে সবাইকে আমলের হিসাব দিতে হবে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) একদিন এ আয়াত তেলাওয়াত করলেন- সেদিন পৃথিবী তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে। তারপর তিনি বললেন তোমরা কি জানো পৃথিবীর বৃত্তান্ত কি?
সাহাবিরা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসুল ভালো জানেন! তিনি বললেন, এ বৃত্তান্ত হলো- প্রত্যেক বান্দা নারী ও পুরুষ তার ওপর যে কাজ করবে তারই সে সাক্ষ্য দেবে।
বলবে, অমুক দিন সে অমুক কাজ করেছে। তমুক কাজ করেছে। এ হলো- পৃথিবীর বৃত্তান্ত বর্ণনা। -জামে তিরমিজি: ৩৩৫৩

Leave a Reply