শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ১১:৫২

সিলেটে বন্যায় ৪ হাজার নগরবাসী আক্রান্ত

সিলেটে বন্যায় ৪ হাজার নগরবাসী আক্রান্ত

সিলেটে টানা বৃষ্টিপাতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। নগরের একাধিক স্থানে ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ।

আজ শুক্রবার (৩১ মে) সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দিনভর কর্মতৎপর ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তারা।

শুক্রবার (৩১ মে) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তারা। নগরীর ১৫নং ওয়ার্ডের কিশোরী মোহন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও পাশ্ববর্তী একটি ৫ তলা খালি বিল্ডিংয়ে একই ওয়ার্ডের মতিন মিয়ার কলোনীর ৪০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন।

এছাড়াও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। নগরবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই সিটি করপোরেশন আপনাদের সেবায় পাশে আছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর জানান, বিভিন্ন কাউন্সিলরদের দেওয়া তথ্যমতে নগরীতে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন ইতিমধ্যে ৪ হাজার পরিবার। তাদের পর্যাপ্ত পরিমান শুকনো খাবার পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সিসিক। আজ ৩১ মে রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার বন্যা কবলিত এলাকার কাউন্সিলরদের কাছে পৌছে দেওয়া হবে।

এদিকে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় নগরীর ১৫, ২২ ও ২৪নং ওয়ার্ডের, সুবহানীঘাট, উপশহর, তেররতন এলাকা পরিদর্শন করেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো: মখলিছুর রহমান কামরান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, স্থানীয় কাউন্সিলর শাহানা বেগম শানু, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফজলে রাব্বি চৌধুরী মাসুম, ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির সুহিন ও জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।

এ সময় ভারপ্রাপ্ত মেয়র মখলিছুর রহমান কামরান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর টানা বৃষ্টির কারণে সিলেটের নদ নদীর পানির বেড়ে ইতিমধ্যে সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যার পানি শহরের দিকে ধেয়ে আসছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী তত্ত্বাবধানে সংকট মোকাবেলা করতে পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে আমাদের বিভিন্ন শাখা ছুটি বাতিল করে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সকাল থেকে আমাদের কার্যক্রম চলছে বলে জানান তিনি।

বেলা সোয়া তিনটার দিকে নগরের সোবহানীঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে বিভিন্ন সড়ক পানিতে ডুবে আছে। কোথাও হাঁটু পানি কোথাও গোড়ালি পর্যন্ত ডুবেছে পানিতে। বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করে পানিবন্দি হয়েছেন অসংখ্য মানুষ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে নগরের তালতলা, মেন্দিবাগ, মাছিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে সড়কে পানি উঠতে শুরু করে। সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ও জলমগ্ন হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে নেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, সুরমা নদীতে পানি বাড়ায় নগরের পারি ড্রেন, খাল, ছড়া হয়ে নদীতে নামতে পারছে না। উল্টো নদীর পানি ডুকছে নগরে। তবে আজকে বৃষ্টি না হওয়ায় দ্রুত উন্নতি হবে বলে আশা করছি।

এর আগে  সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়ায় বৃহস্পতিবার জরুরি সভা করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরভবনের সভাকক্ষে এ জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিসিকের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. মখলিছুর রহমান কামরান। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সভায় সকল প্রকার জরুরি সেবা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সভায় জনস্বার্থে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়।

ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩টন চিড়া, ৩টন মুড়ি, গুড়, খাবার পানি, পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট এবং ওরস্যালাইন ক্রয় করেছে সিসিক। তারই অংশ হিসেবে শুক্রবার দিনভর কর্মতৎপরতা চালায় সিসিক কতৃপক্ষ।

উক্ত সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরবৃন্দ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানসহ বিভিন্ন শাখা কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2024