যুক্তরাজ্যের নব গঠিত লেবার সরকারের মন্ত্রী পরিষদে স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ এমপি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনী টিউলিপ সিদ্দিক। তাকে যুক্তরাজ্যের নগর মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সেক্রেটারির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটেনের প্রথম ও পাঁচবারের সংসদ সদস্য রোশনারা আলীকে গৃহায়ণ, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সদ্য সম্পন্ন হওয়া যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট আসন থেকে লেবার পার্টির হয়ে চতুর্থবারের মতো এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন টিউলিপ সিদ্দিক। লেবার সরকার গঠন করার পরপরই জল্পনা কল্পনা ছিল স্টারমারের মন্ত্রীসভায় স্থান পাচ্ছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি এমপিরা।
কিন্তু প্রথম কেবিনেট সেক্রেটারীদের তালিকায় কেউ স্থান পাননি, সর্বশেষ ব্রিটিশ মন্ত্রীপরিষদে ইতিহাসের অতিরিক্ত সেক্রেটারি হলেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি এমপি টিউলিপ সিদ্দিক ও রোশনারা আলী। টোরি সরকারের আমলে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যে ছায়া অর্থ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ও লেবার ছায়া মন্ত্রিসভার সংস্কৃতি, মিডিয়া ও ক্রীড়া সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন।
ব্রিটেনের রয়েল সোসাইটি অব আটর্সের ফেলো টিউলিপ সিদ্দিক ২০১৫ সালে প্রথমবার ব্রিটিশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। লন্ডনে জন্ম নেয়া টিউলিপ ১৬ বছর বয়সে লেবার পার্টির সদস্য হয়ে যুক্ত হন ব্রিটিশ রাজনীতিতে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি, ৪১ বছর বয়সী টিউলিপ সিদ্দিক হচ্ছেন প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ অতিরিক্ত সেক্রেটারি। অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করেই তাকে মন্ত্রিসভায় নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। লেবার পার্টি যখন বিরোধী দলে ছিলো, তখন নগর বিষয়ক শ্যাডো সেক্রেটারি ছিলেন টিউলিপ।
নগর মন্ত্রনালয়ের একজন অতিরিক্ত সেক্রেটারি হিসেবে তিনি ফিনান্সিয়াল সার্ভিস সেক্টরের দেখভাল করবেন। গত মে মাসেই টিউলিপ ফিনান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছিলেন, ব্রিটেনের বাজার নিয়ন্ত্রণকে আরো প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রবৃদ্ধির প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেবে লেবার পার্টি।
টিউলিপ সিদ্দিক ৪ জুলাইর নির্বাচনে টানা চতুর্থবারের মত উত্তর পশ্চিম লন্ডনের হ্যামস্টেড ও হাইগেট আসন থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ১৫ হাজারের ব্যবধানে হারিয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টির ডন উইলিয়ামসকে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ জুলাই বাকিংহাম প্যালেস থেকে ফিরেই মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু করেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। লেবার এমপি অ্যাঞ্জেলা রেনারকে অতিরিক্ত সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ব্রিটেনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট আসন থেকে নির্বাচিত এমপি টিউলিপকে নগর মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সেক্রেটারি করা হলো।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিক স্থলাভিষিক্ত হবেন সদ্যবিদায়ী কনজারভেটিভ সরকারের নগর মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সেক্রেটারি বিম আফোলামির, যিনি মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সেক্রেটারি হওয়ার আগে এইচএসবিসি ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন।
শেখ রেহানা শফিক সিদ্দিকীর দ্বিতীয় সন্তান টিউলিপ ১৯৮২ সালে লন্ডনের মিচামে সেন্ট হেলিয়ার হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব ছিল বৈচিত্র্যময়। শৈশবে তিনি বাংলাদেশ, ভারত ও সিঙ্গাপুরে থেকেছেন। পরে কিশোর বয়সে লন্ডনে স্থিত হন এবং এখানেই পড়ালেখা করেন। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পলিটিকস, পলিসি ও গভর্নমেন্ট বিষয়ে তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি দেশটিতে শিশু এবং প্রাথমিক বিভাগ এবং প্রাথমিক শিক্ষার ছায়ামন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ট্রেজারি বিভাগের ছায়া অর্থনৈতিক সচিবও ছিলেন তিনি।
টিউলিপ সিদ্দিক ও ক্রিস পার্সি দম্পতির দুই সন্তান। মেয়ে আজালিয়া জয় পার্সি ও ছেলে রাফায়েল মুজিব সেন্ট জন পার্সি।
টিউলিপ সিদ্দিকের বড়ভাই রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত এবং আওয়ামী লীগের গবেষণা শাখা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) ট্রাস্টি। ছোট বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তি লন্ডন ভিত্তিক কন্ট্রোল রিস্কস-এর গ্লোবাল রিস্কস এনালিসিস এডিটর হিসেবে কাজ করছেন।
রোশনারা আলী লন্ডনের বাংলাদেশি-অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনাল গ্রিন এবং স্টেপনি আসন থেকে ১৫ হাজার ৮৯৬ ভোট পেয়ে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
বেথনাল গ্রিন ও বো আসনে ২০১০ সাল থেকে টানা চার মেয়াদে লেবার পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন রোশনারা আলী। এবার এই আসনের নাম ও সীসানা পরিবর্তিত হলেও জয়ী হন তিনি। রোশনারা আলীর জন্ম সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ভুরকি গ্রামে। ছোটবেলায় সাত বছর বয়সে তিনি মা-বাবার সঙ্গে স্থায়ীভাবে লন্ডনে আসেন।
Leave a Reply