সদ্য ক্ষমতাচূত্য দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ সর্ম্পক’ থাকলেও দেশে এসে সক্রিয় রাজনীতিতে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি সিলেটের সদ্য মেয়র পদ হারানো আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে।
তিনি সক্রিয় ছিলেন যুক্তরাজ্যে। ছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হঠাৎ করে আলোচনায় আসে তার নাম।
দীর্ঘদিন মাঠে-ঘাটে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করা নেতাদের সঙ্গে টক্কর দিয়ে ভাগিয়ে নেন দলীয় মনোনয়ন। হয়ে যান মেয়রও। তারপর থেকে সিলেটের আওয়ামী রাজনীতির সবচেয়ে প্রভাবশালী ও আলোচিত নাম হয়ে উঠেন। কিন্তু বছর পূর্ণের আগেই মেয়রের চেয়ার হারিয়ে তিনি এখন হত্যা মামলার আসামি। এ যেন দেশের রাজনীতিই কাল হলো আনোয়ারুজ্জামানের।
গত বছরের ২১ জুন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) পঞ্চম নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান। ওই বছরের ৭ নভেম্বর নগর ভবনে মেয়রের বসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার পতনের দিন থেকে তিনি লাপাত্তা রয়েছেন।
একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, আনোয়ারুজ্জামান বর্তমানে দেশে নেই। আনোয়ারুজ্জামান দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসন (ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ) থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের চেষ্টা করেছিলেন। সেখানে তিনি বিফল হন।
নব্বইয়ের দশকে লন্ডনে পাড়ি জমিয়ে আনোয়ারুজ্জমান প্রথমে লন্ডন মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য হিসেবেও মনোনীত হন।
যুবলীগের রাজনীতি থেকে তিনি সরাসরি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন এবং বিভিন্ন সময় অন্তর্বর্তীকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আনোয়ারুজ্জামান ১৯৭০ সালের ১ জুলাই সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নের পশ্চিম তিলাপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, সোমবার (১৯ আগস্ট) সিলেটসহ দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করা হয়। তাদের অপসারণের পর সব সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের বদলে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
Leave a Reply