আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘উম্মুল মুমিনিন মায়মুনা বিনতে হারিছ’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।
তাঁর নাম মায়মুনা। পিতার নাম হারেস। মাতার নাম হিন্দা বিনতে আওফ। তিনি হেলালিয়া গোত্রের সম্ভ্রান্ত পরিবারের কন্যা। তাঁর অনেক বোন ছিলেন এবং সবাই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের সাথে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
হযরত মায়মুনা বিনতে আল-হারিস (রা.):
তার প্রকৃত নাম ছিল ‘বাররা’। রাসুল (সা.) তার ইসলামি নাম রাখেন মায়মুনা। হজরত মায়মুনা (রা.)-এর পূর্ববর্তী স্বামী আবু রুহুম ইবনে আবদুল উজ্জার মৃত্যুর পর হজরত আব্বাস (রা.)-এর প্রচেষ্টায় প্রিয়নবী (সা.) তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন।
বিয়ে:
ওমরা থেকে ফেরার পথে তানঈম-এর নিকটবর্তী মক্কা থেকে ১০-১২ মাইল দূরে সারিফ এলাকায় বাসর যাপন করেন। বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল ২৬ মতান্তরে ৩৭ বছর। আর নবীজির ছিল ৫৯ বছর। নবীজি এ বিয়েতে একাধিক বকরি জবাই করে ওলিমার আয়োজন করেন।
নবীজি কি তাঁকে ইহরাম অবস্থায় বিয়ে করেন? নবী (সা.) তাঁকে ইহরাম অবস্থায় বিয়ে করেন না হালাল অবস্থায় বিয়ে করেন এতে মতবিরোধ রয়েছে। হাফেজ শামসুদ্দিন জাহাবি (রহ.) ইহরাম অবস্থায় বিয়ে হওয়ার বিষয়টিকে মুতাওয়াতির বলেছেন।
একটি বর্ণনায় আছে, ইকরিমা ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, ‘রাসুল (সা.) মায়মুনা (রা.)-কে মুহরিম অবস্থায় বিয়ে করেছেন।’ (মুসলিম : ২৫২৭)।
মাহাত্ম্য ও গুণাবলি:
হযরত মায়মুনা (রা) ছিলেন পরোপকারী, দানশীল, রাসূলের পদাঙ্ক অনুসরণে একনিষ্ঠ ও গোলাম আযাদকারিণী।
হযরত আয়েশা মায়মুনা সম্পর্কে বলেছেন- إِنَّهَا كَانَتْ أَتْقَانَّا لِلَّهِ وَأَوْصَلُنَا لِلرَّحْمِ অর্থাৎ, মায়মুনা আমাদের সবার চেয়ে খোদাভীরু এবং অপরের কল্যাণকামী।
ইন্তেকাল:
তিনি হজ আদায়ের জন্য মক্কায় যান। হজ শেষে সেখানেই ইন্তেকাল করেন। হযরত ইবন আব্বাস (রা.)-এর নির্দেশে তাকে কাঁধে করে সারাফে আনা হয় এবং সেখানে দাফন করা হয়।
তিনি হযরত আয়েশা (রা)-এর পূর্বে ৫১ হিজরীতে সারফ নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন। এখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন। এমনকি এখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।

Leave a Reply