সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১২

জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিস

জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিস

আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিস’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।

জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিস جويرية بنت الحارث, প্রতিবর্ণীকৃত: জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিস; জন্ম আনুমানিক ৬০৮ ছিলেন মুহাম্মদ এর স্ত্রী এবং মুসলমানদের মা। তিনি ২০ বছর বয়সে মুহাম্মদ কে বিয়ে করেন যা ৬২৭/৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিস। জুরাইরিয়া সম্পর্কে জানিনা, তবে জুয়াইরিয়া  নামের অর্থ যুবা মহিলা। আবার, ধর্মীয় ও বাংলা অভিধান ভেদে জুয়াইরিয়া নামের অন্য একটি অর্থহলো বেহেস্থের রমনী।

জুওয়াইরিয়া (রা.) ছিলেন আরবের দুর্ধর্ষ বনু মুসতালিক গোত্রের মেয়ে, যাঁরা যুদ্ধেই সবকিছুর সমাধান খুঁজতেন। জুওয়াইরিয়ার বাবা হারিস ইবন দিরার ছিলেন বনু মুসতালিক গোত্রের সর্দার।

জুওয়াইরিয়ার (রা.) প্রথম বিয়ে হয় তাঁরই গোত্রের মুসাফি ইবন সাফওয়ান নামে তার এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে। জুওয়াইরিয়ার (রা.) বাবা হারিস ও স্বামী মুসাফি দুজনই ছিলেন ইসলামের চরম শত্রু।

রাসূলের সাথে বিবাহ: বনু মুছতালিক যুদ্ধে প্রাপ্ত গনীমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ ও রাসূলের জন্য পৃথক করার পর অবশিষ্ট সম্পদ নবী করীম (ছাঃ) যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করলেন। অশ্বারোহীকে দু’ভাগ এবং পদাতিককে একভাগ করে দিলেন। জুওয়াইরিয়া বিনতু হারিছ পড়লেন ছাবিত ইবনু কায়েস আশ-শাম্মাস আল-আনছারীর ভাগে।

গোত্র প্রধানের মেয়ে হওয়ার কারণে দাসী হয়ে থাকা তাঁর জন্য অসম্ভব ছিল। তিনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। তাই তিনি ছাবিত ইবনু কায়েসের সাথে ৯ উকিয়া স্বর্ণের বিনিময়ে মুক্ত হওয়ার চুক্তি করেন। অতঃপর তিনি সাহায্যের জন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর খিদমতে উপস্থিত হন।

তিনি রাসূলের দরবারে এসে বলেন, يا رسول الله أنا جويرية بنت الحارث بن أبي ضرار سيد قومه، وقد أصابني من البلاء ما لم يخف عليك فوقعت في السهم لثابت بن قيس بن الشماس أو لإبن عم له، فكاتبته على نفسي فجئتك أستعينك على كتابتي.
‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি জুওয়াইরিয়া বিনতুল হারিছ ইবনে আবী যিরার যিনি তার কওমের সর্দার। আমার প্রতি যে বিপদ আপতিত হয়েছে, তা আপনার কাছে গোপনীয় নয়। আমি ছাবিত ইবনু কায়েস ইবনে শাম্মাস বা তার চাচাত ভাইয়ের অংশে পড়েছি। আমি তার সাথে অর্থের বিনিময়ে মুক্তির চুক্তি করেছি। তাই আমার চুক্তির ব্যাপারে সহযোগিতার জন্য আপনার নিকট এসেছি’।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, আমি কি তোমার জন্য এর চেয়ে উত্তম কিছু করব না? জুওয়াইরিয়া বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেটা কি? তিনি বললেন, আমি তোমার পক্ষ থেকে তোমার চুক্তির অর্থ পরিশোধ করে দেব এবং তোমাকে বিবাহ করব। জুওয়াইরিয়া বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করলেন। এ খবর শুনে ছাহাবায়ে কেরাম বনু মুছতালিকের ১০০ জন বন্দীর সবাইকে মুক্ত করে দিলেন।

আয়েশা (রাঃ) বলেন, فما أعلم امرأة كانت أعظم بركة على قومها منها- ‘আমি জানি না তাঁর বংশের জন্য তাঁর চেয়ে অধিক কল্যাণময়ী কোন মহিলা ছিল কি-না’।বনু মুছতালিকের যুদ্ধবন্দী মুক্তিই ছিল তাঁর বিবাহের মোহর।

অন্য বর্ণনায় এসেছে, জুওয়াইরিয়া (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলেন, ان أزواجك يفخرن علي يقلن لم يزوجك رسول الله صلى الله عليه وسلم إنما أنت ملك يمين، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ألم أعظم صداقك ألم أعتق أربعين رقبة من قومك- ‘নিশ্চয়ই আপনার স্ত্রীগণ আমার উপর গর্ব করে।

তারা বলে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তোমাকে বিবাহ করেননি, বরং ডান হাতের (বিজিত) সম্পদ। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, আমি কি তোমাকে সবচেয়ে অধিক মোহর প্রদান করিনি? আমি কি তোমার কওমের ৪০ জন দাসকে মুক্ত করিনি’?

জুওয়াইরিয়া (রা.) রাসুলুল্লাহর (সা.) সাতটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। একাধিক হাদিসের বর্ণনায় জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রায়ই তাঁর কাছে এসে তাঁকে তাসবিহ ও তাহলিলে মশগুল দেখতে পেতেন। মানুষ তাঁর সঙ্গে কথা বললে মুগ্ধ হয়ে যেতেন। তাঁর বিয়ের পাঁচ বছর পর রাসুল (সা.) ইন্তেকাল করেন।

রাসুলের (সা.) ইন্তেকালের পরে এই নারী ভেঙে পড়েননি। তিনি তাঁর জীবন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টায় ব্যয় করেছিলেন। আয়েশা (রা.) বলেছেন, ‘আমি কোনো নারীকে তাঁর সম্প্রদায়ের জন্য জুওয়াইরিয়ার চেয়ে বেশি কল্যাণময়ী দেখিনি।’

জুওয়াইরিয়া (রা.) হিজরি ৫০ সনে রবিউল আওয়াল মাসে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। মদিনার গভর্নর মারওয়ান তাঁর জানাজা পড়ান। মদিনার জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে তাঁর কবর রয়েছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026