আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘পবিত্র কোরআনে মহাকাশের কথা’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।
মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কথামালা পবিত্র কোরআন। মানবজাতির পরকালীন সাফল্যের পাথেয় হিসেবে এ মহাগ্রন্থ নাজিল করেছেন তিনি।
কোরআনের অসংখ্য আয়াতে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির বিভিন্ন উপাদান নিয়ে চিন্তা-গবেষণার দাওয়াত দিয়েছেন এবং তাঁর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালিত করে পরকাল রাঙানোর কথা বলেছেন।
বিশেষ করে সৃষ্টির অপার বিস্ময় মহাকাশ নিয়ে অনেক কথা কোরআনে বিবৃত হয়েছে। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের জন্য এসব আয়াতে রয়েছে অনেক শিক্ষা।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃজনে এবং দিন-রাতের আবর্তনে ধীমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা করে এবং বলে—হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি এসব বৃথা সৃষ্টি করেননি। আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচান।’ (সুরা আলে-ইমরান: ১৯০-১৯১)
মহাকাশ তারকাবেষ্টিত
মহাকাশ বেষ্টিত তারকাগুলো প্রধানত দুই ধরনের। রাতের ঝলমলে আকাশে আমরা যেগুলো মিটমিট করে জ্বলতে দেখি কোরআনের ভাষায় এগুলো ‘কাউকাব’ তথা স্টার শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে। এ ছাড়া মহাকাশে এক ধরনের বৃহৎ আকৃতির তারকা রয়েছে, যেগুলো স্বয়ং বিলিয়ন বিলিয়ন গ্রহ, উপগ্রহ ও তারকার সমষ্টি।
কোরআনের ভাষায় এগুলো ‘বুরুজ’ তথা গ্যালাক্সি শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রথম প্রকারের বিবরণে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আমি দুনিয়ার আকাশ অসংখ্য তারকারাজির দ্বারা সুসজ্জিত করেছি। (সুরা : সাফফাত, আয়াত: ৬)
যদিও তাদের অনেকেই মহাকাশ গবেষণা করতে গিয়ে তাওহিদের আলোকিত রাজপথের পথিক হয়ে গেছেন। তাই জ্ঞানীদের উচিত, আকাশের নান্দনিকতা, সুনিপুণ-সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং এর সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা। যা মহান রবের পরিচয় জানতে, সৃষ্টির উদ্দেশ্য জানতে, সর্বোপরি মহান রবের অনুগত বান্দা হয়ে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে।
জ্ঞানীদের পরিচয় দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তারা আকাশ ও জমিনের সৃষ্টি বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, তুমি এগুলোকে অনর্থক সৃষ্টি করোনি। মহা পবিত্র তুমি। অতএব, তুমি আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচাও।’ (সুরা: আলে ইমরান, আয়াত ১৯১)
আকাশ ও জমিন শুধু নিগূঢ় রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু নয়; রবং মনোহর রূপমাধুরী, অনুপম সৌন্দর্য ও নান্দনিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এই সৃষ্টিরাজি। যার লালিত্য অবলোকন করে প্রশান্ত হয় চিত্ত। বিমুগ্ধতার আবেশে সিক্ত হয় মনোজগৎ।
নিঃসীম নীলাকাশ ও দিগন্তপ্রসারী জমিন ক্ষণে ক্ষণে তার রূপ-রং বদলায়। সকালে এক রকম, তো বিকেলে আরেক রকম। দিনে এক রকম, রাতে রূপ পাল্টিয়ে আরেক রকম। এগুলোর পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে এক মহান কারিগরের অসংখ্য নিদর্শন।

Leave a Reply