আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘সূর্যের আলো’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।
কুরআন ও হাদীছে সাত আসমান ও সাত জমিনের কথা বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তো তিনি, যিনি সাত আসমান এবং অনুরূপ জমিন সৃষ্টি করেছেন, এগুলোর মাঝে তাঁর নির্দেশ অবতীর্ণ হয় যেন তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং আল্লাহর জ্ঞান তো সবকিছুকে বেষ্টন করে আছে’ (আত-তালাক, ৬৫/১২)।
রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এক বিঘত জমি অন্যায়ভাবে নিয়ে নেয়, (কিয়ামতের দিন) এর সাত স্তর জমিন তার গলায় লটকিয়ে দেয়া হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৫৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬১২)।
”তিনিই সৃষ্টি করেছেন সাত আসমান স্তরে স্তরে…” (সূরা আল-মুলক: ৩)।ইসলাম দর্শনে সাত আসমান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটি কোরআন এবং হাদীস এ বর্ণিত দলিল ধারা প্রমাণিত। আজকের আমরা সাত আসমানের আরবি নাম এবং পরিচিত সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।
সাত আসমানের নাম:
১. রুকাইয়াহ্ (رقيه)
২. ফায়দূম বা মাঊ’ন (فائدة বা مون)
৩. মালাকুত বা হারিয়ূন (ملكوت বা هاريون)
৪. যাহিরাহ (الزاهرة)
৫. মুযাইনা বা মুসাহারাত (مزينة বা مساهرات)
৬. খালিসাহ (خليصة)
৭. লাবিয়্যাহ বা দামিয়াহ্ (الشفرين বা دميه)
সাত আসমানের আরবি নাম এবং পরিচিত
আমরা সাত আসমানের প্রতিটির নাম এবং তাৎপর্য এবং সংক্ষিপ্ত পরিচিতি জানবো –
রুকাইয়াহ্ (رقيه)
সাত আসমানের মধ্যে রুকাইয়াহ্ (رقيه) হলো প্রথম আসমান। এটির রং সাদা । বায়তুল ইযযাহ নামে একটি বিশেষ স্থান রয়েছে এই আসমানে। তাছাড়া আমাদের আদি পিতা আদম (আঃ) রয়েছে এই আসমানে। সৌরজগত, পৃথিবী , চাঁদ এবং সূর্য এই আসমানে অবস্থা করতেছে।
ফায়দূম বা মাঊ’ন (فائدة বা مون)
সাত আসমানের দ্বিতীয়টি হলো ফায়দূম বা মাঊ’ন (فائدة বা مون)। এটি লৌহ দ্বারা নির্মিত সর্বদা আলোক রশ্মি বিচ্ছুরিত হচ্ছে। ঈসা(আঃ) এবং ইয়াহইয়া (আঃ) দুইজনেই এই আসমানে অবস্থান করেছেন।রাসুলুল্লাহ (সা.) মেরাজের সময় যখন দ্বিতীয় আসমানে পৌঁছান, তখন সেখানে তিনি নবী ঈসা (আ.) ও নবী ইয়াহইয়া (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
মালাকুত বা হারিয়ূন (ملكوت বা هاريون)
মালাকুত বা হারিয়ূন (ملكوت বা هاريون) হলো তৃতীয় আসমান। এটি তামা দিয়ে তৈরি। নবী ইউসুফ (আঃ) এখানে অবস্থান করেছেন। উল্লেখ্য যে , নবী ইউসুফ (আঃ)-কে সর্বশ্রেষ্ঠ সৌন্দর্যের অধিকারী ছিলেন।রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যখন মেরাজের সফরে তৃতীয় আসমানে পৌঁছান, তখন তিনি সেখানে নবী ইউসুফ (আঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
যাহিরাহ (الزاهرة)
সপ্ত আসমানের মধ্যে চতুর্থ আসমানটি হলো যাহিরাহ (الزاهرة)। এটি সাদা রৌপ্য দিয়ে তৈরি। ইদ্রিস (আঃ) এই আসমানে অবস্থান করেছেন।রাসুলুল্লাহ (সা.) মেরাজের রাতে চতুর্থ আসমানে পৌঁছালে তিনি নবী ইদ্রিস (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
মুযাইনা বা মুসাহারাত (مزينة বা مساهرات)
মুযাইনা বা মুসাহারাত (مزينة বা مساهرات) হলো পঞ্চম আসমানের নাম। এটি লোহিত স্বপ্ন দ্বারা নির্মিত। হারুন (আঃ) এই আসমানে অবস্থান করতেছেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যখন মেরাজের সফরে পঞ্চম আসমানে পৌঁছান, তখন তিনি নবী হারুন (আঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
খালিসাহ (خليصة)
সাত আসমানের মধ্যে ষষ্ঠ হলো সাত খালিসাহ (خليصة)।এটি মণিমুক্তা দ্বারা নির্মিত। মুসা (আঃ) এই আসমানে অবস্থান করতেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মেরাজের রাতে ষষ্ঠ আসমানে পৌঁছালে তিনি নবী মূসা (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
লাবিয়্যাহ বা দামিয়াহ্ (الشفرين বা دميه)
এটি হলো সবশেষে আসমান। এটি লাল ইয়াকুত দ্বারা নির্মিত। এটি আল্লাহর আরশের (সিংহাসনের) সবচেয়ে কাছাকাছি স্থান। ফেরেশতাদের কাবাব শরীফ বায়তুল মামুর(প্রতিদিন ৭০,০০০ ফেরেশতা ইবাদত করেন, যারা আর কখনও সেখানে ফিরে আসে না)এখানে রয়েছে । সিদরাতুল মুনতাহা জান্নাতের প্রবেশদ্বার রয়েছে। নবী ইবরাহিম (আঃ) রয়েছেন তিনি মেরাজের সময় হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
• সাত জমিন
সাত জমিনে সাত নবী প্রসঙ্গে সাহাবী ইবন আব্বাস রাযি. এর আসারটি হলো নিম্নরূপ: فِي كُلِّ أَرْضٍ نَبِيٌّ كَنَبِيِّكُمْ ، وَآدَمُ كَآدَمِكُمْ ، وَنُوحٌ كَنُوحٍ، وَإِبْرَاهِيمُ كَإِبْرَاهِيمَ، وَعِيسَى كَعِيسَى
তোমাদের নবীর মতো প্রত্যেক জমিনে নবী আছেন। তোমাদের আদমের মতো আদম আছেন, তোমাদের নূহের মতো নূহ আছেন, তোমাদের ইবরাহীমের মতো ইবরাহীম আছেন এবং তোমাদের ঈসার মতো ঈসা আছেন।
উপর্যুক্ত আসারটি যেসব কিতাবে বর্ণিত হয়েছে তা হলো, তাফসীরুত তবারী, ২৩/৪৬৯; মুসতাদরাক হাকিম, ৯/১৬, ১৭; আল-আসমা ওয়াস সিফাত লিল-বায়হাকী, ২/, ৩৭০, ৩৭১।

Leave a Reply