আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘সাত জমিনের স্তর ’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।
ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে সাত জমিনের কোনো সুনির্দিষ্ট নাম নেই, বরং ‘সাত জমিন’ বলতে সাতটি ভিন্ন ভিন্ন স্তরবোঝানো হয়েছে যা একে অপরের উপরে অবস্থিত। এই স্তরগুলোকে একত্রে “সপ্তজমিন” বলা হয়, যা আমাদের পরিচিত পৃথিবীর অন্যান্য ছয়টি স্তর বা জগৎকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে আল্লাহ্ তাঁর নির্দেশাবলী পাঠান।
ইসলামী পরিভাষায় ‘সাত জমিনের নাম’ বলতে সাতটি ভিন্ন ভিন্ন পৃথিবী বা স্তরকে বোঝানো হয়, যার নাম সাধারণত অতল, বিতল, সুতল, তালাতল, মহাতল, রসাতল, এবং পাতাল। তবে এই নামগুলো অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বা একাধিক নামের উল্লেখ দেখা যায়, এবং এই ধারণাটি মূলত একটি পৌরাণিক বা ধর্মীয় ব্যাখ্যা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লমের সুন্নাহ ও হাদিস হল ইসলামের ২য় উত্স। কুরআনের মতো সুন্নাহ ও হাদিসের মধ্যেও অনেক বৈজ্ঞানিক তথ্য রয়েছে। এই নিবন্ধে এমনই একটি তথ্য নিয়ে আলোচনা করা হবে। বিভিন্ন হাদিসে সাত আসমানের পাশাপাশি সাত জমিনের কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি হাদিস নিম্নরূপঃ
১ম হাদীস
রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কেউ যদি অন্যায়ভাবে কারও এক বিঘত জমিও দখল করে থাকে, তবে কিয়ামতের দিবসে ঐ জমি বরাবর সাত তবক জমিন তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।’ (বুখারী)
২য় হাদীস
রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কেউ যদি অন্যায়ভাবে কারও এক বিঘত জমিও দখল করে থাকে, সে কিয়ামতের দিবসে ঐ জমি বরাবর সাত তবক জমিনের নিচে সে ডুবে যাবে।’ (বুখারী)
এই হাদিসসমূহে অন্যায়ভাবে কারও জমি দখল করার ভয়াবহ পরিণতি উল্লেখিত হয়েছে। কিন্তু হাদিসে সাত জমিন বলতে কি বোঝানো হয়েছে?
সাত জমিন প্রসঙ্গ নিয়ে বর্তমানকালে ভূতত্ত্ব এটি প্রমাণ করেছে যে, পৃথিবীর মাটি সাতটি স্তর দ্বারা গঠিত। এই সাতটি স্তরকে ভূতও্ববিদরা তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন। ১) অশ্মমন্ডল ২) গুরুমন্ডল ৩) কেন্দ্র মন্ডল
অশ্মমন্ডল দুটি স্তরে বিন্যস্ত। ১) ভূত্বক ও ২) ভূত্বকের বাইরের অংশ।
গুরুমন্ডল তিনটি স্তরে বিন্যস্ত। ১) উর্ধ্ব গুরুমন্ডল, ২) মধ্য গুরুমন্ডল ও ৩) নিম্ন গুরুমন্ডল
কেন্দ্রমন্ডল ২টি স্তরে বিন্যস্ত। ১) বাইরের অংশ ২) ভেতরের অংশ।
এই হচ্ছে আমাদের সাতটি স্তরে বিন্যস্ত পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন! সুতরাং, হাদিসে যে সাত জমিনের কথা বলা হয়েছে তাতে এই সাত স্তরকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যা আজ থেকে প্রায় ১৪৫০ বছর আগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলে গেছেন।

Leave a Reply