নিউইয়র্ক থেকে এনা
বাংলাদেশের পরিস্থিতির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসর উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে বাজেট ও জুডিশিয়ারি কমিটির প্রভাবশালী সদস্য এবং কংগ্রেসনাল বাংলাদেশ ককাসের সদস্য কংগ্রেসম্যান হাকিম জেফরী বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ভাল থাকলে এখানকার বাংলাদেশী অভিবাসীরাও স্বাচ্ছন্দে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সক্ষম হন। বাংলাদেশের পরিস্থিতি যদি টালমাটাল হয় তাহলে তারা স্বস্তিবোধ করেন না। আমার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি বাংলাদেশী সবসময় অস্বস্তিতে থাকবে এটি হতে পারে না।
মুসলিম কংগ্রেসম্যান জাফরী আরো বলেন, কংগ্রেসের সহকর্মীরা প্রতিনিয়ত জানতে চান বাংলাদেশের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে কিনা। এজন্যে আমি আজ সকালেও কংগ্রেসনাল বাংলাদেশ ককাসের চেয়ারম্যান যোসেফ ক্রাউলীর সাথে যোগাযোগ করেছি। সার্বক্ষণিক একটি নজর রাখতে হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাপারে। ১ ডিসেম্বর রোববার রাতে (বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল) নিউইয়র্ক সিটির ওজনপার্কে বাংলাদেশীদের প্রদত্ত এক গণসংবর্ধনা সমাবেশে ডেমক্র্যাটিক পার্টির এই কংগ্রেসম্যান আরো বলেন, নিউইয়র্ক সিটি তথা সারা আমেরিকায় মসজিদ এবং চার্চের মধ্যে কোন ভেদাভেদ থাকতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রে সকল ধর্ম এবং বর্ণের সমঅধিকার রয়েছে এবং এটি হচ্ছে সারাবিশ্বে আমেরিকার অহংকারের অন্যতম কারণ।
নিউইয়র্ক হচ্ছে প্রতিটি বাংলাদেশীর নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র। বাংলাদেশীরা যতবেশী মূলধারায় সম্পৃক্ত হবেন ততই লাভবান হবেন সামগ্রিকভাবে। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে দ্বিতীয় মুসলিম কংগ্রেসম্যান হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশীরা বাংলাদেশী-আমেরিকান ডেমক্র্যাটিক কাউন্সিল’র ব্যানারে কংগ্রেসম্যান জাফরীকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা প্রদানের জন্যে এ সমাবেশের আয়োজন করেন। এ সময় ব্র“কলীন বরো প্রেসিডেন্ট (নির্বাচিত) এরিক এডামস (ঊৎরপ অফধসং, ইৎড়ড়শষুহ ইড়ৎড়ঁময চৎবংরফবহঃ), অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্ট মেম্বার (এ্যাসেম্বলীম্যান) মাইকেল মিলার (ঘণ ঝঃধঃব অংংবসনষুসধহ গরপযধবষ গরষষবৎ) এবং রাফায়েল ইসপিনাল জুনিয়র (অংংবসনষুসধহ জধভধবষ ঊংঢ়রহধষ লৎ),
সিটি কাউন্সিলম্যান আক্তারুজ্জামান, ডেমক্র্যাটিক পার্টির সংগঠক ও বাংলাদেশী ব্যবসায়ী আকতার হোসেন বাদল, এটর্নী মঈন চৌধুরী, লেবার লিডার মাফ মিসবাহউদ্দিন এবং মাজেদা উদ্দিন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম, আয়োজক কমিটির জাহাঙ্গির কবির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। ডেমক্র্যাট এবং বিএনপি নেতা আকতার হোসেন বাদল তার বক্তব্যে কংগ্রেসম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যে, বাংলাদেশের পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নয়ন না ঘটায় প্রতিনিয়ত আমাদেরকে টেনশনে থাকতে হচ্ছে। বাংলাদেশের ব্যাপারে কংগ্রেসের অবস্থান কি?
জনাব বাদল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান সার্বিক পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করার জন্যে। এরই জবাবে কংগ্রেসম্যান জেফরী উপরোক্ত তথ্য প্রকাশ করেন। এ সময় কংগ্রেসম্যান বলেন, নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচিত মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো, ব্র“কলীনের নির্বাচিত বরো প্রেসিডেন্ট এরিক এডামস এবং কুইন্সের নির্বাচিত বরো প্রেসিডেন্ট মেলিন্ডা কেটজ’র সাথে কথা হয়েছে, তারা বাংলাদেশী অধ্যুষিত এই ওজনপার্কে বাংলাদেশীদের জন্যে একটি কম্যুনিটি সেন্টার বিনির্মাণে সর্বাত্মক সহায়তা দেবেন। শুধু তাই নয়, নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলে হালাল খাদ্য পরিবেশনেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সম্মত হয়েছেন। এখন কাজ করছি দুই ঈদের দিন সরকারী ছুটির জন্যে।
এ সময় উপস্থিত সকলে বিপুল করতালিতে কংগ্রেসম্যানকে অভিনন্দন জানান। আয়োজক সংগঠনের কর্মকর্তা সৈয়দ ইলিয়াস খসরু, কনভেনর আনোয়ার হোসেন এবং মেম্বার সেক্রেটারী কবীর চৌধুরীও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানে। সবশেষে কম্যুনিটি সার্ভিসের জন্যে বেশ কজনকে এওয়ার্ড প্রদান করা হয়। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টের প্রশংসাসূচক এওয়ার্ড দেয়া হয় ডেমক্র্যাট ও মূলধারার ব্যবসায়ী আকতার হোসেন বাদল, কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট ডা. শাহ আলম, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ প্রমুখকে। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ সমাবেশে সকলেই ডেমক্র্যাটিক পার্টির সমর্থক বিধায় কংগ্রেসম্যান, স্টেট এ্যাসেম্বলীম্যান এবং সিটি কাউন্সিলম্যানরা গভীর ধৈর্য্য সহকারে সকলের মতামত শোনেন।