আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘কলম’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।
হাদিসের বর্ণনামতে আল্লাহ তায়ালা যেসব জিনিস প্রথম সৃষ্টি করেছেন তার অন্যতম কলম। কলম সৃষ্টি করে এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মানুষের ভাগ্য লিপিবদ্ধ করেছেন।
এক হাদিসে উবাদা ইবনে সামিত রা. বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সা.-কে বলতে শুনেছি, ‘আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছেন কলম। অতঃপর তিনি বললেন, লেখো। সে বলল, হে আমার রব, কী লিখব? তিনি বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক জিনিসের ভাগ্য লেখো। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৪৭০০)
কলম সর্বপ্রথম সৃষ্টি না কি আরশ সর্বপ্রথম সৃষ্টি এ ব্যাপারে আলেমগণ থেকে দু’টি কথা বর্ণিত হয়েছে। হাফেয আবুল আলা আল-হামাদানী এ মত দু’টি উল্লেখ করেছেন। এ মত দু’টির মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ মত হচ্ছে কলমের পূর্বে আরশ সৃষ্টি করা হয়েছে।
ছহীহ বুখারীতে আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কলম আল্লাহর সেরা সৃষ্টি। তিনি মানবজাতিকে ‘জ্ঞান’ ও ‘হিকমাহ’ শিক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা উপকরণও সৃষ্টি করেছেন। কলম শিক্ষা উপকরণগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও প্রথম।
জ্ঞান বিজ্ঞান, তথ্যাবলি ও উপাত্তগুলো সংরক্ষণের প্রয়োজনে আল্লাহপাক কলম সৃষ্টি করেছেন। জগৎগুলোর স্রষ্টা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ‘আলিম’। আলামিন তথা জগৎগুলোর সব কিছুর জ্ঞান কেবল তিনিই রাখেন। তিনিই সব ধরনের জ্ঞানের ধারক ও সংরক্ষক। কেউই তাঁর সমকক্ষ নয়।
আল্লাহ তা‘আলা আসমান-যমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে সমস্ত সৃষ্টির তাকদীর লিপিবদ্ধ করেছেন। তখন তার আরশ ছিল পানির উপর’’।
এখানে সুষ্পষ্টরূপে বর্ণনা করা হয়েছে যে, আরশ সৃষ্টির পর তাকদীর লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আর কলম সৃষ্টি করার সময় তাকদীর লিখা হয়েছে। উবাদাহ বিন সামেত রাদ্বিয়াল্লাহুর হাদীছ দ্বারা এটি সাব্যস্ত।
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীا আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন…’’ পুরো হাদীছ মিলে বাক্য মাত্র একটি হতে পারে আবার দু’টিও হতে পারে। বাক্য যদি একটি হয়, তাহলে অর্থ হবে আল্লাহ তা‘আলা কলম সৃষ্টি করে তাকে প্রথম আদেশ দিলেন, লিখো।
এ হাদীছের শব্দ থেকে বুঝা যায়। নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, । এতে করে অর্থ হবে কলম প্রথম সৃষ্টি । এতে করে উবাদাহ ইবনে সামেত এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীছের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয়।
কেননা আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের হাদীছে সুস্পষ্টভাবেই উল্লেখ রয়েছে যে, তাকদীর সৃষ্টির আগেই আরশ ছিল। আর তাকদীর ও কলম একসাথেই সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘‘আল্লাহ তা‘আলা যখন কলম সৃষ্টি করলেন, তখন  কলমকে বললেন, লিখো’’।
সুতরাং কলএ হলো প্রথম কলম, সর্বোত্তম কলম ও সর্বশ্রেষ্ঠ কলম। একাধিক মুফাস্সির বলেন, এটি হলো সেই কলম, যার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা সূরা কলমের শুরুতেই শপথ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘নূন, শপথ কলমের এবং লেখকরা যা লিখে চলেছে তার’’। (সূরা কালাম: ১-২)
দ্বিতীয় কলম হলো, অহী লিখার কলম। এর মাধ্যমে নাবী-রসূলদের প্রতি প্রেরিত আল্লাহর অহী লিখা হয়। এ কলমের ধারকরাই সৃষ্টিজগতের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। দুনিয়ার সমস্ত কলম তাদের কলমের সেবক।
মিরাজের রাতে নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এত উপরে উঠানো হয়েছিল যে, তিনি কলম দিয়ে অহী লিখার আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন। এ কলমগুলো দিয়েই আল্লাহ তা‘আলার ঐসব অহী লিখা হয়, যার মাধ্যমে তিনি সৃষ্টিজগতের সবকিছু পরিচালনা করেন। উর্ধ্বজগৎ ও নিমণণজগতের যাবতীয় বিষয়ের অহী এ কলমগুলো দিয়েই লিখা হয়।

Leave a Reply