শীর্ষবিন্দু নিউজ: নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে যোগ দেওয়া জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ, রুহুল আমিন হাওলাদার ও মুজিবুল হক চুন্নু পদত্যাগ না করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বের হয়ে গেলেন।। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান। জাতীয় পার্টির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, যাঁরা মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করবেন না, তাঁদের বিষয়ে এরশাদ কঠোর অবস্থানে যাবেন।
গতকাল এরশাদ নির্বাচনকালীন ‘সর্বদলীয়’ সরকার ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে নিজ দলের সব মন্ত্রী-উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় তিন মন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়ায় ধারণা করা হয়েছিল তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দিতে গেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌছে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করেন। সূত্র মতে সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, এরশাদের কিছু দাবি তারা তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে কিছু পরামর্শ দেন এবং এরশাদের সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত বদল করতে বলেন।
এরপরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই তিন মন্ত্রী সরাসরি বারিধারায় এরশাদের বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্কে যান। সেখানে মন্ত্রী ও দলের মহাসচিব রুহুল আমন হাওলাদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘসময় আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে দলের রাজনৈতিক সত্তা ও চেয়ারম্যান এরশাদের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়েছি। এখন আলোচনার জন্য এখানে এসেছি। তখন সাংবাদিকেরা জানতে চান তাঁরা পদত্যাগ করেছেন কি না—উত্তরে তিনি বলেন, এখন এ ব্যাপারে বৈঠক হবে। পদত্যাগের ব্যাপারে এ বৈঠকে সিদ্ধান্ত ঠি করা হবে।
গত মঙ্গলবার এরশাদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে হঠাত্ উধাও হয়ে যান। ২৬ ঘণ্টা পর গতকাল বুধবার নিজ বাসায় ফিরে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি নির্বাচনকালীন ‘সর্বদলীয়’ সরকার ছাড়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনকালীন সরকারে থাকা জাপার সব মন্ত্রী-উপদেষ্টাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি আমার দলের প্রার্থীদের ঘোষণা দিচ্ছি, তোমরা মনোনয়নপত্র তুলে নাও। তোমাদের জীবনকে বিপন্ন করো না।
এ ঘটনার পরপরই পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য বারিধারায় এরশাদের বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্ক ঘিরে অবস্থান নেন। এ পরিস্থিতিতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে এরশাদ বাসার নিচতলায় এসে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি পিস্তলে চারটি গুলি লোড করে রেখেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে আত্মহত্যা করবেন। তিনি বলেন, র্যাব-পুলিশ আমার গায়ে হাত দেওয়ার আগে আমি মরে যাব। সরকারকে বলে দিয়েছি, কোনো চালাকি করলে পিস্তলে চারটা গুলি আছে, আমার কাছে যাওয়ার আগেই এগুলো দিয়ে আমি সুইসাইড করব। দিস ইজ মাই প্রমিজ।
এদিকে জাতীয় পার্টির আরেক মন্ত্রী জি এম কাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে গেছেন। সচিবালয় থেকে আমাদের প্রতিবেদক জানান, এরশাদের ভাই বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের বেলা একটার দিকে পতাকাবাহী গাড়িতে করে সচিবালয়ে যান। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কোনো কথা বলেননি। এর আগে সকালে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে এরশাদের সঙ্গে দেখা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম।