সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানালো ভারত

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানালো ভারত

বাংলাদেশের সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও নিজেদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসন সম্পূর্ণ একটি আইনি বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে আইনগত সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হবে।

একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী’ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় এবং সেই লক্ষ্যেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও এক প্যানেল আলোচনায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিকে কঠোরভাবে আইনি ও কাঠামোগত বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেন।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স’ শীর্ষক সেশনে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হাইকমিশনার বলেন, একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত কাঠামোগত। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিচার বিভাগ ও আদালত সরাসরি যুক্ত। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।

২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার নাটকীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, ভারত সরকার তাঁকে সেখানে নিয়ে যায়নি এবং দিল্লি তাঁর আগমনের জন্যও প্রস্তুত ছিল না।

তিনি বলেন, ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী তাঁকে ভারতে নিয়ে আসেনি। বাংলাদেশে সৃষ্ট চরম উদ্বেগজনক ও মর্মান্তিক পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁকে বহনকারী সামরিক উড়োজাহাজটি ভারতে পৌঁছায়।

সেই মুহূর্তে তিনি কাগজে-কলমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফ্লাইটটির অবতরণ অনুমতি দেওয়া ছাড়া ভারতের কাছে প্রায় কোনো বিকল্প ছিল না। নিকট প্রতিবেশী হিসেবে সেই বাস্তবতাকে সামাল দেওয়া ছিল আমাদের দায়িত্ব।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে।

তবে নয়াদিল্লি বারবারই স্পষ্ট করেছে যে প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক পথেই অনুরোধটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে হাইকমিশনার ত্রিবেদী আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কেবল কোনো তাৎক্ষণিক স্বার্থ বা লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের গভীর সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বন্ধন। একজন দায়িত্বশীল প্রতিবেশী সবসময় সংকটে পাশে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়নে সম্পূর্ণ সক্ষম উল্লেখ করে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিই আগামী দিনে দুই দেশের অংশীদারত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026