সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০

কানাডায় অভিবাসী বাড়াতে নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত

কানাডায় অভিবাসী বাড়াতে নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত

কয়েক বছর ধরে অভিবাসী কমানোর পর এবার সে নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থা এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে, নিয়ন্ত্রিতভাবে কানাডার জনসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি আবার সামনে এসেছে।

সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন কার্নি। ১০ জন নিউইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদকের সঙ্গে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬০ শতাংশ এবং সাময়িক বিদেশি কর্মীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমেছে।

একই সঙ্গে, আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যাও এক-তৃতীয়াংশ কমেছে বলে জানান তিনি। এসব পদক্ষেপের ফলে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন কানাডার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ানোর সময় এসেছে কি না, তা নিয়ে ভাবছে সরকার।

এর আগে, গত এক দশকে কানাডায় অভিবাসনের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়। এর পেছনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সরকারের বিভিন্ন নীতির ভূমিকা ছিল। তবে, অভিবাসন বাড়ার সঙ্গে আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চাপও বাড়তে থাকে।

এ কারণে ২০২৪ সালে অভিবাসনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাপকভাবে কমানোর ঘোষণা দেয় কানাডা সরকার।

২০১৫ সালের পর কানাডায় স্থায়ী বাসিন্দা বা পিআর হিসেবে অভিবাসনের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়। ২০২১ সালে ৪ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে কানাডায় যান। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩৯ এবং ২০২৩ সালে প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার।

এর আগে বছরে সাধারণত ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৮০ হাজারের মধ্যে মানুষ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে কানাডায় যেতেন।

এ সময়ে কানাডার জনসংখ্যায় অভিবাসীদের অংশও বেড়ে যায়। ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৩ শতাংশ ছিলেন অভিবাসী। প্রায় ১৫০ বছরের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ হার। এর আগে সর্বোচ্চ হার ছিল ১৯২১ সালে, ২২ দশমিক ৩ শতাংশ।

পাশাপাশি কানাডায় স্থায়ী বাসিন্দা নন, এমন মানুষের সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। এ শ্রেণির মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিদেশি কর্মী ও শরণার্থীরা রয়েছেন। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাদের সংখ্যা ২৭ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এর আগে, এ সংখ্যা ছিল ১০ লাখেরও কম।

তবে, অভিবাসন বৃদ্ধির জন্য ট্রুডো তার সরকারের নীতিকে দায়ী করেননি। বরং তিনি কানাডার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, অনেক প্রতিষ্ঠান সাময়িক কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে বিদেশি কর্মীদের কম মজুরিতে কাজে লাগাচ্ছে।

একই সঙ্গে, এসব প্রতিষ্ঠান কানাডীয়দের ন্যায্য মজুরিতে নিয়োগ দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, কিছু প্রদেশ, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন ট্রুডো। এসব প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে নিজেদের স্বার্থ দেখছে বলে মনে করেন তিনি। ফলে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।

২০২৫ সালে কানাডায় নতুন স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ থেকে কমিয়ে ৩ লাখ ৯৫ হাজার করা হয়। ২০২৬ সালে তা ৩ লাখ ৮০ হাজার এবং ২০২৭ সালে ৩ লাখ ৬৫ হাজার করা হয়েছে।

এর ফলে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে জনসংখ্যা ০ দশমিক ২ শতাংশ কমতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে, ২০২৭ সালে জনসংখ্যা ০ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, আগামী নভেম্বরের মধ্যে ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের অভিবাসন পরিকল্পনা পার্লামেন্টে উপস্থাপন করবে কানাডা সরকার। কার্নি বলেন, অভিবাসন বাড়ায় শিক্ষা ও আবাসন খাতে চাপ তৈরি হয়েছিল। তাই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেওয়ার ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

তবে, নিয়ন্ত্রিতভাবে জনসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্ক কার্নি। নতুন অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা কত হবে, তা আগামী পরিকল্পনা প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026