সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০

লন্ডনে ভুয়া সমকামী সাজিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাজ্জাদ মিয়া গ্রেফতার

লন্ডনে ভুয়া সমকামী সাজিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাজ্জাদ মিয়া গ্রেফতার

যুক্তরাজ্যে সাধারণ আশ্রয়প্রার্থীদের ভুয়া সমকামী সাজিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পূর্ব লন্ডন থেকে সাজ্জাদ মিয়া (৪২) নামের এক বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে দেশটির অভিবাসন এনফোর্সমেন্ট বিভাগ।

সিলেটের বাসিন্দা সাজ্জাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সমকামী নয় এমন ব্যক্তিদের ভুয়া সমকামী হিসেবে উপস্থাপনের জন্য তিনি প্রতি প্যাকেজ সাড়ে চার হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ নিতেন।

হোয়াইটচ্যাপেল এলাকার আপনজন নামের একটি সংস্থার কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় রবিবার ভোরে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে সাজ্জাদসহ তিন জনকে আটক করা হয়। সেখান থেকে বিপুল নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিবাসন কর্মকর্তারা জানান, সংস্থাটি ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের সুরক্ষাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আশ্রয়ের পথ সুগম করতে সাজানো ছবি, নাইটক্লাবে উপস্থিতি এবং ভুয়া প্রত্যয়নপত্র সংবলিত জাল নথি বা এভিডেন্স প্যাকেজ তৈরি করত।

অভিযানে হোয়াইটচ্যাপেলের ইস্ট লন্ডন মসজিদের ঠিক পেছনে অবস্থিত ভাইন কোর্ট বিজনেস সেন্টার থেকে দ্বিতীয় এক ব্যক্তিকে অভিবাসন জালিয়াতির সহযোগী হিসেবে এবং অপর একজনকে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর জামিনে মুক্ত হয়ে সাজ্জাদ মিয়া সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, জব্দ হওয়া অর্থ তার বাড়ি ভাড়ার জন্য রাখা ছিল এবং অলঙ্কারগুলো তার বোনের।

সংস্থাটি বৈধভাবে কাজ করত দাবি করে তিনি বলেন, কাউকে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার আগে কমপক্ষে ছয় মাস পর্যবেক্ষণ করা হতো। তবে অভিবাসন ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা এর আগেও এই সংস্থার পেশ করা নথিগুলোকে অনির্ভরযোগ্য ও সাজানো বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হয়ে গিয়েছিল, মূলত তাদের লক্ষ্য করেই এই কার্যক্রম চালানো হতো।

একই রঙের পোশাক পরিয়ে লন্ডনের বিভিন্ন প্রাইড প্যারেডে ছবি তোলা এবং ক্লাবে উপস্থিতির দৃশ্য সাজিয়ে আশ্রয়ের ভুয়া ইতিহাস তৈরি করা হতো। এমনকি যুক্তরাজ্যে আসার প্রায় এক দশক পর নিজেদের সমকামী দাবি করে আবেদন করার মতো নজিরও রয়েছে।

বর্তমানে হোম অফিস সংস্থাটির মাধ্যমে করা শতাধিক অতীত ও চলমান আবেদন খতিয়ে দেখছে।

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে আশ্রয় মঞ্জুরের সংখ্যা সম্প্রতি চার গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে এ ধরনের ২ হাজার ১৩৩টি আবেদনের অনুমোদন দেওয়া হয়, যার মধ্যে পাকিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭৫ জন ছিল বাংলাদেশি।

এদিকে আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।

তিনি জানান, মানবিক সুরক্ষাকে পুঁজি করে যারা জালিয়াতি চক্র গড়ে তুলেছে, তাদের বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

ব্রিটিশ অভিবাসন আইন অনুযায়ী, এই ধরনের জালিয়াতিতে জড়িতদের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এ ছাড়া ভুয়া নথির ভিত্তিতে বৈধতা পাওয়া ব্যক্তিদের স্ট্যাটাস বাতিল করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026