রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৮

নির্বাচনী বাজেটে আইন-শৃঙ্খলায় ব্যয় ৪০০ কোটি

নির্বাচনী বাজেটে আইন-শৃঙ্খলায় ব্যয় ৪০০ কোটি

শীর্ষবিন্দু নিউজ: আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্ধেকেরও বেশি আসনে নির্বাচন না হলেও বাড়ছে নির্বাচনী ব্যয়। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার নির্বাচনী ব্যয় ধরা হয়েছে দ্বিগুণের বেশি। সব মিলিয়ে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬শ’ কোটি টাকা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৫ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন পরিচালনায় দুইশ’ কোটি টাকা ও আইন-শৃঙ্খলায় এর দ্বিগুণ ব্যয় হবে বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়।

এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা খাতে দুইশ’ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে এবার এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় চারশ’কোটি টাকা। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ার জন্য যেখানে নির্বাচনী ব্যয় ধরা হয়েছিল আড়াইশ’ কোটি টাকা, এবার শুধু নির্বাচন পরিচালনা-ব্যয়ই ধরা হয়েছে প্রায় দুইশ’কোটি টাকা।

এবার সেনাবাহিনী তাদের বাজেট দিয়েছে ২৭ কোটি টাকা, আনসার ২০৬ কোটি টাকা, পুলিশ ১৪৭ কোটি টাকা, বিজিবি ১৫ কোটি টাকার বেশি, কোস্টগার্ড ৬৬ লাখ টাকা। ইসি সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয় শাখা জানায়, ২০ ডিসেম্বর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠকেই পুরো বিষয়টি নির্ধারণ করবে ইসি। কমিশনের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচন উপলক্ষে দু’সপ্তাহের জন্য সেনা ও অন্তত ৫ দিনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হতে পারে।

অন্যদিকে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯১ কোটি টাকার কিছু  বেশি। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন পরিচালনার চেয়ে নিরাপত্তায় ব্যয় হয় বেশি। এরই মধ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চাহিদা চেয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তবে সবকিছু নির্ভর করবে কতোদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে তাদের মোতায়েন রাখা হবে তার ওপরে।

ইসির উপ-সচিব মিহির সারওয়ার মোর্শেদ জানান, যেসব এলাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হবেন সেসব এলাকায় হয়তো নিরাপত্তা-ব্যয় লাগবে না। তাছাড়া সার্বিক বিষয়ে কমিশনই সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচন পরিচালনায় ৭০ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৬শ’ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, এক হাজারের মতো নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম, আপিল ট্রাইব্যুনাল, ৫ লাখের মতো ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও অন্যদের ভাতা এবং নির্বাচনী সামগ্রী নিয়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানায় ইসির বাজেট শাখা। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও পারিশ্রমিক বেড়ে যাওয়ায় আনুপাতিক হারে প্রতিবছরই নির্বাচন ব্যয় বাড়ছে বলেও জানান ইসি কর্মকর্তারা।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ভোটের আগে ১২ দিন (২০ ডিসেম্বর-৩১) সশস্ত্র বাহিনী সদস্য মোতায়েন ছিল। সে সময় ভোটের আগের ও পরের ৫ দিন পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ড, এপিবিএনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে ছিল। ভোটের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ইসির চাহিদা মতো (মেট্রোপলিটনের ভেতরে ও বাইরে, পার্বত্য এলাকায় সাধারণ-গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বিবেচনায়) নিরাপত্তা সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার ৩৭ হাজার ৭১১টি সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের বিপরীতে সাড়ে ৫ লাখেরও বেশি নিরাপত্তা সদস্য নিয়োজিত থাকতে পারেন। ভোট গ্রহণের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪-১৬ জন পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, এপিসি সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের ব্যাটালিয়ন ও থানা-উপজেলা পর্যায়ে সশস্ত্র বাহিনীর ২-৪ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হবে। তারা শো-অব ফোর্স হিসেবে টহলে নিয়োজিত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ঢাকা সেনানিবাসের অপারেশন্স ও পরিকল্পনা পরিদপ্তর জানায়, দশম সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনজনিত ব্যয়ের জন্য ২৬ কোটি ৯৯ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৫.৪০ টাকা আনুমানিক চাহিদা ধরা হয়েছে। এ চাহিদা মঞ্জুরপত্র জারির অনুরোধ করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। পূর্ণাঙ্গ চাহিদা ভোটের সময় পাঠানো হবে উল্লেখ করে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়ার জন্য চিঠিতে বলা হয়।

দৈনিক ভাতা, কন্টিনজেন্সি, জ্বালানি- এ তিন খাতে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী তাদের চাহিদার পরিমাণ জানায়। এতে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ১০ লাখ ৮৪ হাজার ৫৭৫ টাকা, সেনাবাহিনী ২৩ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ৩১৮ টাকা, নৌ-বাহিনী ১ কোটি ৫৩ লাখ ৯২ হাজার ৬৭৭ টাকা ও বিমান বাহিনী ১ কোটি ৮৮ লাখ ৪৫ হাজার ২২৬ টাকার কথা উল্লেখ করে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এবার প্রায় দুই সপ্তাহ বিবেচনায় নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য ব্যয় দিতে পারে। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’র আওতায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে সম্ভাব্য মোতায়েনে সশস্ত্র বাহিনীর ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য অগ্রিম চাহিদা দিয়েছে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। গত ৪ ডিসেম্বর ইসি সচিবালয়ের এক চিঠির (১৭.০০.০০০০.০৩৪.৩৬.০২১.১৩.৪৯৪) পরিপ্রেক্ষিতে প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের পক্ষে মেজর সাজ্জাদ সরোয়ার ইসি সচিবালয়ে এ চাহিদা পাঠান।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026