শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: থাইল্যান্ডে নতুন করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর আগামী ২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পেছানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের জানানো আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার।
থাইল্যান্ডে চলমান বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা সংসদ ভেঙে দিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। কিন্তু বিরোধীরা একটি গণপরিষদের অধীনে নির্বাচন চাইছে। দাবি পূরণ না হলে তারা নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়ে তা প্রতিহত করার হুমকি দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনের চেষ্টায় বুধবার স্বাধীন সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ইংলাক। কিন্তু তার এ প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধীরা। তাদের প্রধান দাবি এখন অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ।
ইংলাক সিনাওয়াত্রা ২০১১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশের ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু ইংলাক তার ভাই ক্ষমতাচ্যুত ও নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার কথায় দেশ পরিচালনা করছেন অভিযোগে তার পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ করছে বিরোধীরা।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষোভ ঠেকাতে গিয়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন এ আহ্বান জানায়। নির্বাচনে প্রার্থীদের নাম নিবন্ধন ঠেকাতে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টার সময় সংঘর্ষে নিহত হন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। আহত আরো ৪০ বিক্ষোভকারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ অস্থিরতার পরপরই নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে সরকারের কাছে ভোট পিছিয়ে দেয়ার সুপারিশ করে।সব পক্ষ ভোট সমর্থন না করা পর্যন্ত তা অনুষ্ঠান করা ঠিক হবে না বলে জানায় কমিশন।
কিন্তু থাই সরকার নির্বাচন কমিশনের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। থাই উপ-প্রধানমন্ত্রী ফংথেপ থেপখানজানা টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন দাবি করছে নির্বাচন হলে সহিংসতা বাড়বে। কিন্তু সরকার মনে করছে, নির্বাচন করতে দেরি হলেই আরো বেশি সহিংসতা দেখা দেবে।