সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩

ঢাকা-৭ আসনে বাঘে-সিংহে লড়াই

ঢাকা-৭ আসনে বাঘে-সিংহে লড়াই

ফখরুল ইসলাম শাহীন: প্রচার-প্রচারণা বন্ধ। চারদিক এখনও ছেয়ে আছে পোস্টারে। রাস্তার উপর ও হোটেল-রেস্টুরেন্টের সামনে শোভা পাচ্ছে দুই প্রার্থী ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন (নৌকা প্রতীক) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজি মো. সেলিমের (হাতি প্রতীক) ছবি। আরো একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী অবশ্য আছেন এ আসনে। তিনি হলেন আইনজীবী মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন। তার প্রতীক আনারস। প্রথম দু’জনের পোস্টারের ভিড়ে তার পোস্টারটি তেমন চোখেই পড়ছেনা। শুক্রবার রাত ৮টায় লালবাগ কেল্লার সামনে দাঁড়িয়ে এমন দৃশ্য দেখে মনে হলো দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

এখানে মূল লড়াইটা হবে ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও মো. সেলিমের মধ্যে। বাঘে-সিংহে লড়াইয়ের মতো। তবে কে জিতবেন তা বলা মুশকিল। হাজি সেলিমকে সবসময় জনগণের পাশেই পাওয়া যায়। মোস্তফা জালাল জনগণের পাশে তেমন না এলেও এলাকার উন্নয়নে তার অবদানের জুড়ি নেই। লালবাগ কেল্লা মোড়ের ফাস্ট ফুড ব্যবসায়ী মো. ফারুখ ঢাকা-৭ আসনের দুই প্রার্থী সম্পর্কে এমনটাই জানালেন।

তিনি বলেন, দু’জন প্রার্থী একই দলের নেতা। এই এলাকায় দু’জনেরই সুনাম ও প্রভাব-প্রতিপত্তি রয়েছে। সেজন্য নির্বাচনে কে জিতবে এটা বলা মুশকিল। আরেক ব্যবসায়ী বলেন, আমার মনে হয় নৌকাই জিতবে। কারণ মোস্তফা ভাই অনেক নম্র-ভদ্র। তিনি গত পাঁচ বছরে রাস্তা-ঘাট নির্মাণসহ এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছেন। এলাকার জনগণ মোস্তফা জালালকেই চায়। পাশ থেকে আরেকজন বলে উঠলেন, এবার নির্বাচনে হাজি সেলিমই জিতবো। সেলিম ভাই ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকতে এলাকার বহুত উন্নয়ন করছে। এলাকার মানুষ এবারও সেলিমকেই চাইতেছে।

জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী জানতে চাইলে ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, আমি পাঁচ বছরে এলাকার যে উন্নয়ন করেছি তা বিগত ৩৯ বছরের ইতিহাসে নজির সৃষ্টি করেছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্যই এলাকার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে। তাই জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। নির্বাচনে জয়ী হলে আপনার পরিকল্পনা কি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় কয়েকটি কমিউনিটি সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। যেগুলো গরীব-দুঃখীদের বিয়েতে ব্যবহার করা হবে।

এছাড়া ছোট্ট সোনামনিদের জন্য সরকারি স্কুল, খেলার মাঠসহ এলাকার অসম্পূর্ণ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করবো। হাজি মো. সেলিম বলেন, মোস্তফা জালাল অনেক ভালো লোক। মোস্তফা ভাই সম্পর্কে আমার কোনো অভিযোগ নেই। এলাকার জনগণই আমাকে ভোটে দাঁড় করিয়েছে। তারা নতুনত্ব চায়। এজন্য জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। তিনি বলেন, বিগত দিনে আমি জনগণের পাশে থেকে এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছি। এবারও বিজয়ী হয়ে জনগণের উন্নয়ন করতে চাই।

জয়ী হলে এলাকার উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যখন ১৯৯৬ সালে আমি এমপি ছিলাম। তখন এলাকায় বেড়িবাঁধ, গ্যাস সংযোগ, টেলিফোন ব্যবস্থা, পানি-বিদ্যুৎসহ প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন কাজ করেছি। বর্তমানেও এলাকার উন্নয়নে যে কাজ করা দরকার তা আমি করবো। হাজি সেলিম বলেন, জনগণই আমাকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধি করে পাঠাচ্ছে, সেখানে যেতে পারলে জনগণের কথাই বলবো। জনগণ ও এলাকার উন্নয়নে সবসময় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।

উল্লেখ্য, লালবাগ, চকবাজার, বংশাল ও কোতোয়ালি থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৭ আসন। এই আসনে এবার ভোটার সংখ্যা তিন লাখ এক হাজার ২৮৯ জন। তিন প্রার্থীর মধ্যে ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বর্তমানে এমপি ও আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক, হাজি মো. সেলিম ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন একজন আইনজীবী।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026