জেসমিন পাপড়ি: দায়িত্ব নিয়েছে নতুন সরকার। আলোচনা-সমালোচনার এ সরকারের প্রথম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের সুদৃষ্টি ফেরানো।
৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হতাশা প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। সমালোচনার ঝড়ও ওঠে। সেখান থেকে দৃষ্টি ফেরাতে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। চলছে নীরব তৎপরতা। অবস্থানপত্রে জানানো হচ্ছে নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা ও নতুন সরকারের অবস্থান। সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন সব দেশের কূটনীতিকরা।
এদিকে, নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে ভারত, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, নেপাল, মায়ানমার এবং জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ডব্লিউএইচও। সেদিক থেকে আন্তর্জাতিক চাপ কিছুটা কমেছে বলে মনে করছে সরকার। তবুও পরিস্থিতি আরো পরিস্কার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
হরতাল অবরোধের ক্ষতি কাটাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে ও বৈদেশিক বাণিজ্য বাড়াতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে পরিস্থিতি বোঝানো অত্যন্ত জরুরি মনে করে সরকার।
এ লক্ষ্যে সরকার আন্তর্জাতিক মহলকে বিএনপি-জামায়াতের সহিংতার বিবরণ জানাতে চায়। একইসঙ্গে বিরোধী দল হিসেবে তারা কোনো দায়িত্বই পালন করেনি; সেই বার্তাটিও পৌঁছাতে চায়।
এছাড়া তাদের কাছে তুলে ধরতে চায় গত কয়েক মাসে বিএনপি-জামায়াতের হরতাল, অবরোধে অর্থনৈতিক ক্ষতি ও প্রাণহানির চিত্র।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরের পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর কাছে অবস্থানপত্র পাঠানোর পাশাপাশি কিছুদিনের মধ্যেই ঢাকাস্থ কূটনীতিকদের ডেকে ব্রিফিং করা হবে।
এছাড়া এ ব্যাপারে কূটনীতিকদের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করছে।
এদিকে, নির্বাচনের পর থেকেই এমনকি আগেও বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি হাইকমিশনারদের সেসব দেশের সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে দেশের পরিস্থিতি জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বিদেশিদের কাছে তুলে ধরতে ইতোমধ্যেই অবস্থানপত্র তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। বন্ধু দেশগুলোতে এগুলো পাঠানো হচ্ছে।
এ অবস্থানপত্রে জানানো হয়েছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্যই কতটা প্রয়োজন ছিল দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এছাড়াও উল্লেখ থাকছে বিরোধী দলকে নির্বাচনে আনতে সরকারের বার বার চেষ্টার কথা।
এতে বিরোধী দলের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, জঙ্গিবাদ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ ইস্যুগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশের স্বাধীনতাবিরোধী তৎপরতার কথাও উল্লেখ করে দেশকে সন্ত্রাসমুক্ত করার প্রত্যয়ে সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ জানানো হয়েছে।
জানা যায়, বিদেশে পাঠানো সরকারের অবস্থানপত্রে বলা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতেই জঙ্গি তত্পরতা চালাচ্ছে জামায়াত-শিবির। সরকার রাষ্ট্রের কলঙ্ক মোচনের জন্য অধিকাংশ বাংলাদেশির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ বিচার সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর।
এ জন্য একটি বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে নানান সহিংসতা ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করছে জামায়াত। তাদের রাজনৈতিকভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছে বিএনপি। সরকার জামায়াত ছাড়া বিএনপিকে আলোচনার জন্য বার বার আহ্বান জানিয়েছে।
কিন্তু বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সহিংসতা ও জামায়াত কোনোটিকেই ছাড়ার লক্ষণ দেখা যায়নি। আর তাই সরকার রাষ্ট্রের সম্পত্তি ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।
এ বিষয়ে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহ্রিয়ার আলম বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানানো হবে, আমরা পাঁচ বছরের জন্যই সরকারে এসেছি। তবে এর মধ্যে বিএনপি ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ও যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতকে ত্যাগ করলে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
এছাড়া যুদ্ধাপরাধ ইস্যুটিও বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আরো পরিস্কার করবেন বলেও জানান শাহ্রিয়ার আলম।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪