অর্থমন্ত্রীর ১০০ কোটি টাকা চাঁদা তোলার ঘোষণা সংবিধানপরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) আয়োজিত ‘দুর্নীতিগ্রস্ত নীতি ও পরিবেশ বিপর্যয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মূল বক্তব্য পাঠ করেন পবার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হাসান তারিক চৌধুরী। বর্তমান সমস্যা সমাধানে তিনটি উপায়ের কথা উল্লেখ করেন এম এম আকাশ। এগুলো হচ্ছে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রনেতা আসলাম খান।
এ সময় ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অর্থমন্ত্রী ১০০ কোটি টাকা চাঁদ তোলার যে কথা সম্প্রতি বলেছেন, তা সংবিধানপরিপন্থী। এটা সংবিধানের ২০-এর ২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হবে এবং কীভাবে তা ব্যয় করা হবে, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। জনগণকে জানাতে হবে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা বলেছিলেন অচিরেই একাদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। কিন্তু এখন তাঁরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁরা নিজেরাই জানেন যে তাঁরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসেননি। একটি জবাবদিহিমূলক সংসদ এখন নেই। জাতীয় সংসদকে জবাবদিহিমূলক করতে হলে অনতিবিলম্বে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করা উচিত।’
অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, দুর্নীতিবাজেরা যখন রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, তখন তাঁদের আর নীতি লঙ্ঘন করতে হয় না। নিজেদের স্বার্থে তাঁরা নীতি বানাতে পারেন। তিনি বলেন, সংবিধান ও আইন নিজের গতিতে চলে না, চলে ক্ষমতাবানদের ইচ্ছায়। আনু মুহাম্মদ বলেন, সারা বাংলাদেশে এখন চলছে দখলদারদের উত্সব। দখলের ভাগাভাগি নিয়ে তাঁদের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আর প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে র্যাব-পুলিশকেও ব্যবহার করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের দর বাড়ানোর উদ্যোগের পেছনে দুটি কারণ রয়েছে উল্লেখ করেন এই অর্থনীতিবিদ। এর মধ্যে একটি হলো আইএমএফের কাছ থেকে খামোখা ১০০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার যে শর্ত ছিল, তা পূরণ করা। আরেকটি বর্তমান বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের মুনাফার ক্ষেত্র তৈরি করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, দুর্নীতিবাজদের কোনো শাস্তি হচ্ছে না, কিন্তু দুর্নীতির বোঝা চাপছে সাধারণ মানুষের ওপর। অর্থাৎ সৎ লোকেরা শাস্তি পাচ্ছেন আর দুর্নীতিবাজেরা পাচ্ছেন পুরস্কার। এটাই এখন বাস্তবতা। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যবস্থা এমন যে যাঁরা ক্ষমতায় থাকবেন, তাঁরা হাজার দুর্নীতি করলেও তাঁদের শাস্তি হবে না। যেখানেই উদ্বৃত্ত আছে, সেখানেই ক্ষমতাবানেরা হাত বসান।