বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৬

তৈরি পোশাক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে

তৈরি পোশাক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে

শীর্ষবিন্দু নিউজ: তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য আলাদা নগরী গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট এবং জার্মান কনফেডারেশন অফ ট্রেড ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিশায়েল জোমারের সঙ্গে বৈঠকে তিনি একথা জানান। সোমবার সন্ধ্যায় শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে দেখা করেন জোমার।

আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের সমাধান সম্ভব হয়েছে সরকার ও ট্রেড ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব সম্পর্কের মাধ্যমে। “শ্রমিক ও মালিকদের সুসম্পর্কের মাধ্যমে শ্রমিকদের স্বার্থই রক্ষা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। শেখ হাসিনাও বলেন, শ্রমিকরা ভালো না থাকলে মালিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৈঠকের শুরুতেই জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান জোমার।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য পৃথক ভিলেজ তৈরির কথা বলেছেন। গার্মেন্টস ভিলেজ তৈরি হলে শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি হবে বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত পোশাক তৈরির কারখানাগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সবচেয়ে বেশি কারখানা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে। তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক এবং রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক শ্রমিক মারা যাওয়ার পর বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে কর্মপরিবেশ নিয়ে বিদেশিরা অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে।

শাকিল বলেন, জার্মান চ্যান্সেলর ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রীর জার্মান সফরের কথা স্মরণে রেখেছেন। চ্যান্সেলর বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য স্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশের জনগণ এখন স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছে। বাংলাদেশ ও জার্মানির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো জোরদার হবে বলে মের্কেল আশা প্রকাশ করেছেন বলে জোমার জানান।

তিনি মনে করেন, দুই দেশেই নারীরা সরকার প্রধান হওয়ায় তা সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে। জার্মানিকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের পর সহায়তার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠকে অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সোবহান শিকদার এবং বাংলাদেশে জার্মান রাষ্ট্রদূত আলব্রেখট কোনৎসে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারখানাগুলো পোশাক শিল্প নগরীতে চলে গেলে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান হয়ে যাবে। বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিম্ন মজুরি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী তৈরি পোশাকের ক্রয়মূল্য বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিতে আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে শ্রমিকদেরও ভাগ্যোন্নয়ন ঘটে। হাসিনা বলেন, ক্রেতারা বর্তমান সময়ের থেকে বেশি দামে কিনলে সরকারের পক্ষ থেকে শিল্পের মালিকদের প্রতি চাপ অব্যাহত রাখা যায়। যাতে, তারা শ্রমিকদের উন্নয়নে আরো ভূমিকার রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর দুই দফায় তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি ২২৬ শতাংশ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন। শ্রমিকদের জন্য ডরমিটারি তৈরির কথাও বলেন তিনি। রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলেন। জোমারও বলেন, রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তার কথা বিশ্বেও আলোচিত হয়েছে। শ্রম আইন সংশোধনসহ কারখানা পরিদর্শনে পরিদর্শক নিয়োগে সরকারের উদ্যোগকেও ইতিবাচক বলেন তিনি।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026