শীর্ষবিন্দু নিউজ: লোকসান কাটিয়ে মংলা বন্দর থেকে বছরে ৩৪ কোটি টাকা লাভ আসছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘প্রথম বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান।
হোমিওপ্যাথির জনক স্যামুয়েল ফ্রেডারিক হ্যানিম্যানের ২৫৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভাটির আয়োজন করে ওয়ার্ল্ড হোমিওপ্যাথি ডে অবজারভ কমিটি। আলোচনা সভায় প্রধান অথিতির বক্তব্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যতদিন আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী থাকবো, ততদিন আমাদের উন্নয়নের ধারা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
এ সময় তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকার সময় মংলা বন্দর লোকসানে ছিল। আজ মংলা বন্দর লাভের মুখ দেখছে। বছরে বন্দরটি থেকে ৩৪ কোটি টাকা লাভ আসছে। যুদ্ধাপরাধীর বিচারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, খুন করা যদি পাপ হয়, ধর্ষণ করা যদি পাপ হয়, তবে এ কাজের সঙ্গে যারা জড়িত, তারাও পাপী। এ পাপীদের বিচার অবশ্যই করতে হবে। তিনি বলেন, এ পাপীদের বিচার করেই দেশকে পাপমুক্ত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সে কাজটিই করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করেছেন।
আলোচনা সভায় মন্ত্রী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করে বলেন, বিরোধীদলে থাকা অবস্থায় তিনি বলেছিলেন, একটা/দুইটা গাড়ি পোড়ালে হবে না। তার এমন উস্কানিমূলক কথায় সে সময় তাদের নেতাকর্মীরা আমাদের বাস-ট্রেনে আগুন দিলো। ৬০ হাজার গাছ কেটে ফেললো। মসজিদে, মন্দিরে আগুন দিলো। হিন্দুদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিলো। তারা ভেবেছিল, এ সবের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নামানো যাবে। কিন্তু তাদের সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি।
তিনি বলেন, এখন বিএনপি চেয়ারপার্সনের ছেলে বলছেন, জাতির পিতা অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কী অদ্ভুত কথা! তিনি দাবি করেন, দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতেই এমন মন্তব্য করা হচ্ছে। তবে যতই ষড়যন্ত্র করা হোক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। ২০২১ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হবোই। হেফাজতে ইসলামকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, ধর্মের নাম নিয়ে মানুষকে শোষণ করার উদ্দেশ্যেই মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত পড়ানো যাবে না। নারীদের নারী ডাক্তার দেখাতে হবে। নারীদের নেতৃত্ব মানা যাবে না এমন তত্ত্ব আবিষ্কার করা হয়।
ডাক্তারদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, মানুষের সেবা করতে হবে একনিষ্ঠভাবে, নিঃস্বার্থভাবে। ডাক্তারের হাতের ছোঁয়া যখন রোগী পায়, তখন রোগীর রোগ অনেকটাই ভালো হয়ে যায়। তিনি বলেন, আপনাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ থাকবে। কিন্তু, সঠিক রোগ নির্ণয় করাই বড় বিষয়। সঠিক রোগ নির্ণয় করতে পারলে আপনাদের সুনাম দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে। ওয়ার্ল্ড হোমিওপ্যাথি ডে অবজারভ কমিটির সভাপতি ডা. আলমগীর মতির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো কয়েকজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক বক্তব্য রাখেন।