শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩১

রিজেন্টকে আকাশসীমা ব্যবহারে অনুমতি দেয়নি মায়ানমার

রিজেন্টকে আকাশসীমা ব্যবহারে অনুমতি দেয়নি মায়ানমার

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্স রিজেন্টের সিঙ্গাপুরগামী একটি ফ্লাইটকে মায়ানমারে প্রবেশের আগেই ফিরিয়ে দিয়েছে দেশটির সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। অকার্যকর ট্রাফিক কলুসন অ্যাভয়ড্যান্স সিস্টেম (টিক্যাস) নিয়ে মায়ানমারে ঢুকতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে বিষয়টি ধরা পড়লে রিজেন্টের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এমন ঘটনায় বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের কার্যক্রম ও কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে। অকার্যকর ট্রাফিক কলুসন অ্যাভয়ড্যান্স সিস্টেম নিয়ে কি করে কোনো উড়োজাহাজ আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে, কতো দিন ধরে এমন অনিয়ম চলছে ইত্যাদি বিষয়ও উঠে আসছে সামনে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতিতে আকাশে উড়লে অন্য কোন উড়ন্ত যানের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রবল থাকে। আর সেরকমটি হলে তার দায় কে নেবে সে প্রশ্নও জোরালোভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট পরিমণ্ডলে। উড়োজাহাজ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ সূত্র জানায়, মায়ানমারে ঢোকার ৫০ মাইল আগেই দেশটির সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ রিজেন্টের টিক্যাস যে কাজ করছে না তা ধরতে সক্ষম হয়।

সাধারণত, কোনো দেশে ঢোকার ১০ মিনিট আগেই সংশ্লিষ্ট সিভিল এভিয়েশন (বেসামরিক বিমান চলাচল) কর্তৃপক্ষ উড়োজাহাজটির বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে থাকে। যদি সবকিছু ঠিক থাকে তবেই সংশ্লিষ্ট দেশের সিভিল এভিয়েশন ওই উড়োজাহাজটিকে তার দেশে ঢোকার অনুমতি দেয়। পার্শ্ববর্তী দেশের রাডার কমপক্ষে ৫০ মাইল ভেতরে উড়োজাহাজের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম। আবার বাংলাদেশের রাডারও একইভাবে মায়ানমার কিংবা ভারতের ৫০ মাইল ভেতরে যেকোনো উড়োজাহাজের অবস্থান জানাতে সক্ষম। মূলত উড়োজাহাজের ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে আশপাশের অন্য উড়োজাহাজের অবস্থান শনাক্ত করে থাকে টিক্যাস। যখন ট্রান্সপন্ডার কাজ না করে তখন টিক্যাস অন্য উড়োজাহাজের অবস্থান জানতে পারে না। তখন দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের শঙ্কা থেকে যায়।

সূত্র জানায়, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজটি সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ার ঘন্টাখানেক পর ফ্লাইটটি পুনরায় শাহজালালে ফিরে আসে। এ কারণে ওই ফ্লাইটের যাত্রীদের সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বিমানবন্দরে বসে থাকতে হয়।

এদিকে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখলেও হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করা হয়নি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ব্যাংকক থেকে আসা রিজেন্টের অপর বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ দিয়ে যাত্রীদের সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। উড়োজাহাজ সংকটের কারণে রাতে ঢাকা-কুয়ালালামপুরের ফ্লাইট বাতিল করা হয়। একই কারণে বুধবারের ব্যাংককের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। উড়োজাহাজ যাতে সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতে পারে সেজন্যই ট্রাফিক কলুসন অ্যাভয়ড্যান্স সিস্টেম (টিক্যাস) যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। একটি সচল টিক্যাস ছাড়া কোনো উড়োজাহাজই উড্ডয়ন করতে পারে না। কিন্তু ঢাকায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে  (বেবিচক) ফাঁকি দিয়ে, নাকি তাদের যোগসাজশে উড়োজাহাজটি উড্ডয়ন করতে সক্ষম হয় তা পরিষ্কার নয়।

এরপর উড়োজাহাজটি চট্টগ্রাম পার হয়ে মায়ানমারে প্রবেশের আগ মুহূর্তে ওই দেশের সিভিল এভিয়েশনের কাছে অকার্যকর টিক্যাসের বিষয়টি ধরা পড়ে। একই ধরনের বিষয় বাংলাদেশ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের হাতেও ধরা পড়ার কথা থাকলেও তা কার্যত তা হয়নি।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026