শীর্ষবিন্দু নিউজ: রানা প্লাজা ধসের ভয়াবহ ট্র্যাজেডির দুঃসহ যন্ত্রণা ও স্মৃতিকাতরতার একটি বছর পূর্ণ হলো আজ। ঠিক ১ বছর আগে এই দিনেই ঝরে পড়েছিল ১ হাজার ১৩৫ পোশাক শ্রমিকের তাজা প্রাণ। আহত হয়েছিলেন ২ হাজারেরও বেশি পোশাক শ্রমিক।
কিন্তু, ধোঁয়াশা আর জটিলতা রয়ে গেছে নিখোঁজ শ্রমিকদের ঘিরে। আজও সম্পূর্ণ হয়নি সে তালিকা। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা আজও তাদের প্রিয়জনদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তাদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠছে।
গতকাল সরকারি পরিসংখ্যানে রানা প্লাজা ধসে নিখোঁজ শ্রমিকের সংখ্যা ১০৯ জন বলে উল্লেখ করা হলেও, একটি রাজনৈতিক দল বলছে ওই ট্র্যাজেডির পর থেকে ১৪০ পোশাক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে উদ্ধার করা গলিত ৩১৭টি মৃতদেহের মধ্যে ২০৬টি লাশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। পরে আরও দুটি লাশ একই পদ্ধতিতে শনাক্ত করা হয়। ঢাকার জেলা উদ্ধারকাজ ও পুনর্বাসন বিষয়ক কর্মকর্তা একরামুল হক বলেন, আমরা এখনও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিসংখ্যান সুনির্দিষ্ট করতে পারিনি। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
সরকারের এক কর্মকর্তা বলছিলেন, বহু লাশ ভুল ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যার কারণে বহু মানুষ তাদের স্বজনদের আজও খুঁজে বেড়াচ্ছেন। গত ৩রা এপ্রিল বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি ১৪৬ পোশাক শ্রমিক নিখোঁজের একটি তালিকা শ্রমমন্ত্রী মোহাম্মদ মুজিবুল হকের কাছে হস্তান্তর করেছে। একটি শ্রম সংস্থার কর্মকর্তা বলেছেন, এর মধ্যে মাত্র ৬ জনকে শনাক্ত করা গেছে। কিন্তু, বাকি ১৪০ জনই আজ পর্যন্ত নিখোঁজ। অবিলম্বে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মৃত ঘোষণা করে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি।